তুরস্ককে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ‘পুনরুত্থানে’র স্বপ্ন দেখাচ্ছে ইতালি

Mysepik Webdesk: ‘ইল রিসরজিমেন্ত’। এর অর্থ পুনরুত্থান। ইতালির খেলা দেখে ভক্তরা বলতেই পারেন যে, পুনরুত্থান ঘটল ইতালির। ‘মিনি ফুটবল বিশ্বকাপ’ বলা হয়ে থাকে ইউরো কাপকে। সেই ইউরো কাপের কিকঅফ হল ইতালি বনাম তুরস্কের মধ্যে ম্যাচ দিয়ে। খেলাটি হয়েছিল ইতালির রোমের স্টুডিয়ো অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে। ম্যাচটিতে ৩-০ গোলে তুরস্ককে হেলায় হারিয়ে দিল রবার্তো মানচিনির ছেলেরা। তবে এই ইতালিকে প্রথমার্ধে আটকে গিয়েছিল তুরস্কের ডিফেন্স। ভালো খেললেও প্রথমার্ধে তুরস্কের ডিফেন্সকে কিছুতেই ভাঙতে পারছিল না ইতালি। তবে এই ইতালির খেলা দেখে ভালো লাগছিল। নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট পাস খেলছিল মানচিনির ছেলেরা। গোটা ম্যাচে ইনসিগনেরা ৬১৬টি পাস খেলেছিলেন, যার মধ্যে নিখুঁত পাসের হার ৮৭ শতাংশ। ছোট ছোট পাস খেলতে খেলতে মুহুর্মুহু আক্রমণে উঠছিল ইতালি। তবে তা কোনওরকম সামাল দিচ্ছিল তুরস্কের ডিফেন্ডাররা।

আরও পড়ুন: জ্যাঙ্গো, র‍্যাম্বো আর ফুটবল

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই একই চিত্র দেখা গেল। বরং গোল পেতে মরিয়া ইতালির আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বেড়ে গেল। ফলস্বরূপ ৫৩ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলও পেয়ে যায় তারা। যদিও গোলটি ছিল আত্মঘাতী। তুরস্কের মেরিহ দেমিরালের গায়ে লেগে বল জালে ঢুকে যায়। এই গোলটি একটা ঐতিহাসিক গোলও বটে। কারণ ইউরো কাপের ইতিহাসে উদ্বোধনী ম্যাচের প্রথম গোল হিসাবে এই প্রথমবার কোনও আত্মঘাতী গোল হতে দেখলাম আমরা। ৬৬ মিনিটে ইতালির পক্ষে ব্যবধান বাড়ান সিরো ইম্মোবিল। ইতালির আক্রমণের সামনে সেই সময় কার্যত দিশেহারা দেখাচ্ছিল তুরস্কের ডিফেন্স। ১০ জন মিলে রক্ষণ সামলাচ্ছিলেন তুরস্কের ডিফেন্ডাররা। এতে তো শেষরক্ষা হয়ই-নি বরং ইতালির পক্ষে ব্যবধান আরও বেড়েছিল। ৭৯ মিনিটে লোরেঞ্জো ইনসিগনে স্কোরলাইন ৩-০ করেন। তবে একটা কথা বলতেই হচ্ছে, রক্ষণাত্মক খেলাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যে ইতালির খেলা দেখে আমরা অভ্যস্ত, ইউরোর প্রথম ম্যাচে এই ইতালির ‘স্টাইল অফ ফুটবল’ কিন্তু অনেক আলাদা। সমস্ত বিভাগে তুরস্ককে টেক্কা দিয়ে ৩-০ গোলে জয় দিয়ে এবারের ইউরো অভিযান শুরু করলেন আজ্জুরিরা।

আরও পড়ুন: ভারতে কোন চ্যানেলে দেখা যাবে ইউরো, কে কে দেবেন ধারাভাষ্য: জেনে নিন খুঁটিনাটি

ছবি রয়টার্স

দলটির শেষ আন্তর্জাতিক সাফল্য এসেছিল ২০০৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে। এরপর আন্তর্জাতিক স্তরে তাদের বলার মতো কোনও সাফল্য নেই। ইউরো কাপ তারা শেষবার জিতেছিল ১৯৬৮ সালে, সেই ৫৩ বছর আগে। তার ওপর ২০১৮ সালের বিশ্বকাপেও যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি কানাভারো, মালদিনিদের পরবর্তী জমানার ছেলেরা। তবে ইতালির প্রথম ম্যাচ দেখে এখনই হয়তো বলে দেওয়া যাবে না ‘পুনরুত্থান’ ঘটল কিনা তাদের, তবে খেলায় যে তাদের বহুল পরিবর্তন এসেছে, তাকে বর্ম করে তারা যদি ট্রফি জয়ের স্বাদ পায়, তবে আম-ফুটবলপ্রেমীর মুখে উচ্চারিত হবে ‘ইল রিসরজিমেন্ত… ইল রিসরজিমেন্ত…’।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *