কৃষ্ণকলি

কাজল সেন

রাত ফুরিয়ে এলেই মনখারাপ লাগে কৃষ্ণকলির। রাত ফুরোনো মানেই তো ভোরের আলোর একটু একটু করে ফুটে ওঠা, একটু পরেই আকাশে সূর্যের মুখ দেখানো, তারপর সেই সূর্য থেকে রোদের ঝরে পড়া। যত সময় যায়, ততই রোদের তীব্রতা বাড়ে, উষ্ণতা বাড়ে। একসময় সেই উষ্ণতা অসহ্য লাগে। তখন খোলা আকাশের তলা থেকে পালাতে হয় ছাদের তলায়। সেখান থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে আংশিক আকাশ চুরি করে দেখা। না, কৃষ্ণকলির এভাবে আকাশ দেখতে একেবারেই ভালো লাগে না। বরং দিনের আলো যখন নিভে আসে, সূর্য একটু একটু করে আকাশ থেকে সরে যেতে থাকে, কৃষ্ণকলির তখন মনে হয়, এই তো এখনই আকাশের তলায় এসে বসার সময়। বিকেল ফুরোয়, সন্ধ্যা নামে, সন্ধ্যা গাঢ় হয়, রাত নামে, রাত গাঢ় হয়, রাত গভীর হয়, রাত মধ্যরাতে গড়ায়, কৃষ্ণকলি বসে বসে শুয়ে শুয়ে দেখে সেই অন্ধকারের মায়া। কৃষ্ণকলির ভালো লাগে, কৃষ্ণকলি খুশি হয়, তার মন ভরে যায় অন্ধকারের রূপকথায়।   

আরও পড়ুন: বিশ্বাসঘাতক

কৃষ্ণকলির মনের ভাবনার কথা জানে সংগীত। একমাত্র সেই জানে। সংগীতের ভালো লাগে কৃষ্ণকলিকে। সংগীত ভালোবাসতেও চায় কৃষ্ণকলিকে। কৃষ্ণকলিও তাই চায়। একবার কৃষ্ণকলি তো মুখ ফুটে বলেওছিল, সেও ভালোবাসতে চায় সংগীতকে। কিন্তু কী যে হয়! কোথায় যেন একটা আড়াল থেকে যায়। একটা দূরত্বের দেওয়াল বারবার মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। আসলে সংগীত তো রাতের অন্ধকারের সঙ্গে কখনোই সেভাবে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে পারেনি। বরং তার সঙ্গে সহজ-সরল সম্পর্ক দিনের আলোর। রাত যখন একটু একটু করে ঢলে পড়ে ভোরের আলোর পথ মসৃণ ক’রে, তখন খুব ভালো লাগে তার। খুব ভালো লাগে। সেই শেষ রাতেই বিছানা ছেড়ে উঠে  পড়ে সংগীত। দ্রুত সেরে নেয় প্রাতঃকৃত্য। তারপর শরীরে ট্র্যাকস্যুট চড়িয়ে আর পায়ে স্পোর্টস স্যু গলিয়ে বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়। দৌড়তে দৌড়তে হাজির হয় একটা ফুটবল স্টেডিয়ামে। কিছুক্ষণ ওয়ার্ম আপ করার পর শুরু হয় ফুটবল প্র্যাকটিস। সংগীত যে দলের সঙ্গে যুক্ত, সেই দলকে কোচিং করান মন্টুদা। সংগীতের মতোই মন্টুদা এবং অন্যান্য প্লেয়ারও স্টেডিয়ামে চলে আসে সেই ভোর ভোর। তারপর বেশ কিছুক্ষণ ঘাম ঝরিয়ে, যখন সূর্য আকাশের অনেকটা দখল করে বসে, তখন সংগীত ফিরে আসে ঘরে। কিন্তু ঘরে ফিরে তো আর বিশ্রামের কোনও সুযোগ নেই। তাড়াতাড়ি স্নান সেরে জলখাবার খেয়ে তৈরি হয়ে বাইক স্টার্ট করে ঝড়ের বেগে বেরিয়ে যায় তার কর্মক্ষেত্রের উদ্দেশ্যে। তার সেই কর্মক্ষেত্রেও আবার কোনও অন্ধকারের ‘সিন’ নেই। চোখধাঁধানো আলোয় তাকে সারাটা দিন পর্যবেক্ষণ করতে হয় সিভিল কন্সট্রাকশনের কাজ।

আরও পড়ুন: আঁধার আমার ভালো লাগে

আর কৃষ্ণকলির আপত্তি এখানেই। সারাটা দিন আলোর মধ্যে থেকে দিনের শেষে ক্লান্ত হয়ে পড়লে অন্ধকারের সঙ্গে সম্পর্ক রচনা করবে কখন! অন্ধকারকে ভালোবাসবে কী করে! ক্লান্তিতে তখন তো শুধুই ঘুমোবে! কৃষ্ণকলির আবার রাতে সহজে ঘুম আসে না। সে জেগে থাকে। অন্ধকারের গায়ে গা লাগিয়ে বসে থাকে, শুয়ে থাকে। এভাবেই পেরোতে থাকে রাতের প্রহর। প্রথম রাত থেকে মধ্যরাত, মধ্যরাত থেকে শেষরাত। তারপর অবশ্য একসময় দু’চোখ জড়িয়ে আসে। ঘুম নেমে আসে কৃষ্ণকলির সারা শরীর জুড়ে।

বিয়ের সম্বন্ধটা অবশ্য ঠিক হয়েছিল দুই বাড়ি থেকেই। দুই বাড়ির অনেক দিনের প্রায় পারিবারিক সম্পর্ক। সংগীতের মা আর কৃষ্ণকলির মা বিয়ের আগে একই পাড়ার মেয়ে ছিলেন। আবার দুই বাবাও ছিলেন অনতিদূরের একই পাড়ার ছেলে। বিয়ের সময় মজাটাও হয়েছিল বেশ। দুই বাবা পাত্রীদেখা পর্বে একইসঙ্গে গিয়েছিলেন মায়েদের পাড়ায়। আসলে সেদিন সংগীতের বাবারই পাত্রী দেখার কথা ছিল। সংগীতের মা’কে দেখে পছন্দও করেছিলেন। সঙ্গী ছিলেন কৃষ্ণকলির বাবা। সেখানেই আবার উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণকলির মা। তাই একইসঙ্গে দুই বাবা দুই মা’কে পছন্দ করে বিয়ের পাকাকথা বলে চলে এসেছিলেন। আর তখনই দুই বাবা আর দুই মায়ের মধ্যে চুক্তি হয়ে গিয়েছিল, যদি দু’জনেরই প্রথম সন্তান ছেলে হয় তাহলে কিছু করার নেই, যদি মেয়ে হয় তাহলেও কিছু করার নেই, কিন্তু যদি একজনের ছেলে আর অন্যজনের মেয়ে হয়, তাহলে নির্ঘাত সেই দু’জনের গাঁটছড়া বেঁধে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: যখন বৃষ্টি নামে

সংগীত ও কৃষ্ণকলি অবশ্য এসব চুক্তির কথা না জেনেই এই ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছিল। তাদের জানা ছিল না অনেক কিছুই। এই যেমন কৃষ্ণকলির মা-বাবা তার নামকরণ করেছিলেন কৃষ্ণকলি, এর সঙ্গে বাস্তবের কোনও সম্পর্ক ছিল না। কৃষ্ণকলির গাত্রবর্ণ আদৌ কৃষ্ণবর্ণ নয়। রীতিমতো ফর্সা তার গায়ের রং। আবার সংগীতের মা-বাবা যে তার নাম সংগীত রেখেছিলেন, তারও কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। কেন-না সংগীতকে সংগীত শেখানোর কোনও তৎপরতাই তাঁদের ছিল না। সংগীত কোনোদিন শেখেওনি সংগীত। সুতরাং একথা স্বীকার করতেই হয় যে, তাঁরা তাঁদের নিজেদের বিয়ের সিদ্ধান্ত ঠিকঠাক নিলেও, তাঁদের সন্তানদের সম্পর্কে তাঁদের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিকঠাক ছিল না।

তবে মন্দের ভালো এই যে, কৃষ্ণকলি ও সংগীত আইসিএসসি উত্তীর্ণ হওয়ার আগে পর্যন্ত এই চুক্তির কথা জানত না। জানতে পারল আইএসসি পড়ার সময়। তখন তারা দু’জনেই আলাদা আলাদা স্কুলে একাদশ শ্রেণিতে পড়ছে। আর ঠিক তখনই সংগীতের খুব ভালো লেগে গেল ক্লাসের একটি মেয়েকে। মেয়েটি দেখতে ভালো, পড়াশোনাতেও খারাপ নয়। মেয়েটির নাম সরমা। সন্দেহ নেই নামটি বেশ  প্রাচীন, কিন্তু সংগীত নামের কোনও তোয়াক্কা না করে একদিন তার মনের কথা জানিয়ে সরমাকে একটা এসএমএস করে বসল। আর এসএমএস-টা পেয়ে সরমা পড়ল ফাঁপরে। কেন-না ইতিমধ্যেই সে তাদের ক্লাসের বরুণের কাছ থেকে অনুরূপ একটি এসএমএস পেয়েছে। এখন সে কী করবে! দুই সহপাঠীবন্ধু তাকে প্রেম নিবেদন করে এসএমএস করেছে। দু’জনেই ভালো ছেলে। এখন সে কাকে ছেড়ে কাকে বেছে নেবে! সরমা দিন কয়েক ভেবে দেখল, বরুণ আর সংগীতের মধ্যে তার সংগীতকে বেছে নেওয়াই ঠিক হবে। কেন-না বরুণ পড়াশোনায় সত্যিই খুব ভালো ছেলে হলেও সংগীত ফুটবলটা দুর্দান্ত খেলে। চেহারাটাও পাক্কা খেলোয়াড়ের মতো। চওড়া রিস্ট, মোটা মোটা থাই, পেটানো শরীর, বিশাল বুকের ছাতি। সরমা আর দেরি করল না। সটান সংগীতের প্রেমে পড়ে গেল।

আরও পড়ুন: ছাঁকনি

তারপর থেকে প্রায় সবারই নজরে পড়ল তাদের ঘনিষ্ঠ কথাবার্তা, মেলামেশা। একটু আড়ালে আবডালে তাদের আলগোছে আলিঙ্গন, আলতো চুম্বন। সংগীতের এটাই প্রথম প্রেমে পড়া। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরমারও তাই। আর তাই প্রেমে পড়লে যেসব বিধিনিষেধের কথা মাথায় রাখতে হয়, যেসব কৌশল অবলম্বন করতে হয়, পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকার দরুন তা আর গোপন থাকল না। স্কুলের বন্ধুরা সবাই জেনে গেল সংগীত ও সরমার প্রেমরোগের কথা। কিন্তু তাতেও কোনও সমস্যা ছিল না। বরং বন্ধুরা সবাই খুব পুলকিত হল সংগীত ও সরমার পেছনে লাগার একটা মোক্ষম খোরাক পেয়ে। অবশ্য সংগীত ও সরমা সেসব পাত্তাও দিল না। কিন্তু গোলমালটা পাকাল বরুণ। বেচারা পড়াশোনায় ভালো ছেলে। পড়া নিয়েই থাকে। খেলাধুলোয় তেমন উৎসাহী নয়। কিন্তু তা বলে তার মনেও যে প্রেমের উৎপাত ঘটবে না, একথা তো মেনে নেওয়া যায় না! বিশেষত এটাই তার প্রথম প্রেমপ্রস্তাব। সেই প্রস্তাব সরমা নাকচ করে দিতে রীতিমতো ক্ষেপে উঠল বরুণ। তবে তার রাগ যতটা সরমার ওপর হল, তার থেকে বেশি হল সংগীতের ওপর। তার আর সরমার মাঝখানে থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নম্বর সংগীতের অনুপ্রবেশের জন্যই যত ঝুট-ঝামেলা। আর সেই রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে একদিন নিজেকে সামলাতে না পেরে স্কুলের সীমানার মধ্যেই সটান ঝাঁপিয়ে পড়ল সংগীতের ওপর। সে কী কাণ্ড স্কুলের টিফিন আওয়ারে! তবে পড়াশোনায় ভালো হলেও মারামারিতে ততটা দক্ষ ছিল না বরুণ। আর তাই স্বাভাবিক কারণেই ঠ্যাঙানিও বেশি খেলো বরুণ। স্কুলের সব বন্ধুকে সঙ্গে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেও অসম মারামারি দেখল সরমাও। এবং সে আবার দেখে নিশ্চিন্ত হল, প্রেমিক বাছাই পর্বে সে একটুও ভুল করেনি।

কিন্তু সরমা নিশ্চিন্ত হলেও ব্যাপারটা এখানেই মিটে গেল না। কোনও এক সূত্রে এই মারামারির খবরটা কানে গেল কৃষ্ণকলির। খবরটা শুনে তার খুব মজাও লাগল। তারই পারিবারিক বন্ধু সংগীত প্রেমরণাঙ্গনে তার প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করে তার প্রেমিকা সরমাকে অভয় দান করেছে, এটা কি মুখের কথা! কৃষ্ণকলির তো খুব গর্বই হচ্ছে সংগীতের জন্য। সুতরাং সে খুব খুশি মনেই খবরটা জানিয়েছিল তার মা’কে। আর তাতেই ঘটল বিপত্তি। ব্যাপারটা ঠিক কী হল, বুঝতে পারল না কৃষ্ণকলি, কিন্তু সেদিনই সন্ধ্যায় অফিস থেকে কৃষ্ণকলির বাবা ফিরে আসার পর, কৃষ্ণকলির মা ও বাবা দু’জনে মিলে হাজির হল সংগীতদের বাড়িতে। সংগীতের মা ও বাবা ঘরেই ছিলেন। তাঁদের কাছে সরাসরি অনুযোগ জানানো হল, এটা তো একেবারেই ভালো কথা নয়! সংগীত প্রেম করছে সরমার সঙ্গে! ছি! ছি! সংগীত এটা কিছুতেই করতে পারে না। জন্মের আগে থেকেই তো সংগীতের সঙ্গে কৃষ্ণকলির বিয়ের কথা পাকা হয়ে আছে! তাহলে! সংগীতকে বোঝানো হোক্‌!

আর এভাবেই সেদিন আচমকা কৃষ্ণকলি ও সংগীত জানতে পারল, তারা নাকি জন্মের আগে থেকেই পরস্পর বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে বাঁধা পড়ে আছে।

আরও পড়ুন: জেরুসালেম

অনেকেই বলে, কৃষ্ণকলির গায়ের রং এত ফর্সা, সেই রঙে সে কিছুতেই কলঙ্ক লাগাতে রাজি নয়, আর তাই সে সূর্যের তাপ এড়িয়ে চলে। কথাটা অবশ্য ঠিক তা নয়। সূর্যকে এড়িয়ে চলার কারণ এত গনগনে আলোর মধ্যে থাকতে তার ভালো লাগে না। তার ভালো লাগে ছায়া। তার ভালো লাগে অন্ধকার। স্কুল কলেজ ও ভার্সিটির দিনগুলি অতিক্রান্ত হবার পর পারতপক্ষে ঘর থেকে বেরোতে চায় না। আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতোই সারাটা দিন ঘরে বসেই বই পড়ে, গান শোনে, ছবি দেখে আর ঘুমোয়। তারপর বিকেল শেষে যখন সন্ধে নামে, একটু একটু করে অন্ধাকার ছড়ায় তার ডালপালা, তখন সে আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতো ক্রমশ ক্লান্ত ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে না। বরং তখন সে এক অন্য ভালোলাগার জগৎকে খুঁজে পায়, অন্য এক ভালোবাসার জগতে প্রবেশ করে। অন্ধকার যত গাঢ় হয়, কৃষ্ণকলি অন্ধকারে তত নিমগ্ন হয়। সে কৃষ্ণবর্ণ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে নিষ্পলক। কোনও কোনোদিন রাত গভীর হলে সে সবার অগোচরে চলে আসে বাড়ির ছাদে। একা একা অন্ধকারে বসে থেকে সে মুগ্ধ হয়ে দেখে অন্ধকারের রূপ সৌন্দর্য বর্ণ। কৃষ্ণকলি জানে বোঝে যে, তার এই ভালোলাগা ভালোবাসা আর কারও ভালোলাগা ভালোবাসার সঙ্গে মেলে না। বরং শুনলে তারা হাসে, পরিহাস করে, পাগলামি মনে করে ঠাট্টা করে। সংগীত কোনোদিন কৃষ্ণকলির কথা শুনে হাসেনি, পরিহাস করেনি, পাগলামি মনে করেনি। সে বরং কৃষ্ণকলিকে বুঝতে চেয়েছে, গভীরভাবে বুঝতে চেয়েছে। কিন্তু সে কৃষ্ণকলির মনের তল খুঁজে পায়নি। সংগীত নিতান্তই বৈষয়িক মানুষ। পড়াশোনা করেছে, ফুটবল খেলছে লিগের এ-ডিভিশন দলে, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার পোস্টে কাজ করছে। সে দিনকে দিনের মতো চেনে, রাতকে চেনে রাতের মতো। আলাদা করে দিন ও রাতের মহিমা বোঝার মতো সময় ও মানসিকতা কোনোটাই নেই। কিন্তু তবু সে বোঝার আপ্রাণ চেষ্টা করে কৃষ্ণকলির মনের বাসভূমিকে, স্পর্শ করার চেষ্টা করে কৃষ্ণকলির মনের তানপুরার তারগুলিকে। সংগীতের ভালোলাগে কৃষ্ণকলিকে। সংগীত ভালোবাসতে চায় কৃষ্ণকলিকে। হ্যাঁ, কৃষ্ণকলিও তাই চায়, সেও ভালোবাসতে চায় সংগীতকে। কিন্তু তারা দু’জনেই ঠিক বুঝে উঠতে পারে না, সেই ভালোবাসার দিন কবে থেকে শুরু হবে!

Facebook Twitter Email Whatsapp

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *