করোনা আবহে জার্মানিতে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ‘কুরকুমা টে’

ড. সোমা বসু, ফিজিওলজিস্ট, হামবুর্গ-জার্মানি

তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় দিন কাটছে ভারতবাসীর! সামার শেষেই হয়তো জার্মানিতে আছড়ে পড়তে চলেছে করোনার চতুর্থ ঢেউ! দীর্ঘ সাত মাস কঠিন-কঠোর লকডাউন শেষে জুন মাস থেকে শিথিল হয় লকডাউন। কিন্তু ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চোখরাঙানি শুরু হয়ে গেছে। ফলে, সিঁদুরে মেঘ দেখছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। একদিকে টিকা দেওয়া চলছে। কিন্তু এতদিনে পেয়েছেন মোট জনসংখ্যার মাত্র চল্লিশ শতাংশ। অন্যদিকে আবার টিকার কার্যকারিতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন, দেখা দিচ্ছে সংশয়। কোনও টিকাই দিতে পারবে না একশো শতাংশ নিরাপত্তা। এদিকে ডেল্টার পিছনেই উঁকিঝুঁকি মারছে ল্যাম্বডা ভ্যারিয়ান্ট। পেরু থেকে ব্রিটেন হয়ে ক্রমেই সে এগোচ্ছে। কাজেই, এহেন পরিস্থিতিতে ভরসা নিজের-নিজের দেহের ইমিউনিটি। গত একবছর ধরেই চলছে দেহের ইমিউনিটি বাড়ানোর প্রসেস। যদিও ইমিউনিটি কিন্তু রাতারাতি বাড়ে না। ব্যাপারটা জন্মসূত্রে যিনি যেমন পেয়েছেন, তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। তবে ইমিউনিটি সিস্টেমটাকে ঠিকঠাক চালানো করতে যে যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াগুলোর দরকার হয়, সেখানে লাগে নানারকমের অনুখাদ্য, যেমন— ভিটামিন, মিনারেলস ইত্যাদি। এই ধরনের অনুখাদ্যের ঠিকঠাক সমতাতে শরীর থাকে ফিট আর তাতেই বাড়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। আমাদের আজেবাজে খাদ্যাভ্যাসের ফলে শরীরে এই ধরনের অনুখাদ্যের জোগানে ঘাটতি পড়ে। সেক্ষেত্রে সমাধানের এক সহজ উপায় হল চা পান। তবে তা হতে হবে ‘কুরকুমা টে’ বা ‘হলুদ চা’। হলুদ চা-এর উৎপত্তি দক্ষিণ জাপানে। যদিও জাপান ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সে সারা পৃথিবীতেই।

আরও পড়ুন: বৃহত্তর সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ প্রান্তিক মানুষের সহজ পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা পূরণ করেছে

Yogi Turmeric Tea Recipe for Joint and Bone Health

হলুদের গুণ তো এখন কেবলমাত্র আর আয়ুর্বেদেই সীমাবদ্ধ নেই, পশ্চিমের আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও দিয়েছে মান্যতা। অ্যান্টি কার্সিনোজেনিক, অ্যান্টি এজিং, ইমিউনিটি বুস্টার— নানা দিক সামলে রাখে হলুদ। কমায় ব্লাড প্রেসার, সুগার। আর্থারটাইটিস, আলঝেইমার্স রোগ প্রতিহত করে, নিয়ন্ত্রণে রাখে রক্তের কোলেস্টেরল।

হলুদ চা বানানোর নানারকমের পদ্ধতি আছে। বাজারে কিনতে পাওয়া যায় নানাধরনের টি ব্যাগ। এককাপ গরম জলে ৫ মিনিটের জন্য এইরকম একটা টি ব্যাগ ডুবিয়ে নিলেই হল, আপনি পেয়ে যাবেন কুরকুমা টে বা হলুদ চা। অনেকে এতে একটু মধু আর লেবুর রস-ও মিশিয়ে নেন। কেউ-কেউ দেন দারচিনি আর আদা। ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে বা সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ হলুদ চা পান করলে ঘুম-ঘুম ভাব কেটে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে উঠবেন। তবে, কেউ যদি খালি পেটে অ্যান্টাসিড ট্যাবলেট খান, সেক্ষেত্রে সকালে হলুদ চা খাওয়া যাবে না। সারাদিনে দু’বার চলতেই পারে হলুদ চা। তবে, যাঁদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে, তারা হলুদ চা এড়িয়ে চলুন। হলুদের ইমিউনিটি বুস্টার এফেক্ট আপনি মিস করছেন না। কারণ, আমরা বাঙালিরা রান্নায় যে পরিমাণ হলুদ ব্যবহার করি, মেরেকেটে তাই-ই যথেষ্ট। সারাদিনে দুই চা-চামচ হলুদের প্রয়োজন হয় আমাদের শরীরে। ইউরোপের রান্নায় হলুদের ব্যবহার নেই বলেই হলুদ চা এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর করোনা আবহে তুঙ্গে উঠেছে সেই জনপ্রিয়তা। গ্রিন টি, মিন্ট টি, বায়ো টি, জিনজার টি— সবাইকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চলেছে ‘কুরকুমা টে’।

আরও পড়ুন: গামছার গান

টি ব্যাগ কিনতে না চাইলে, কুরকুমা টে বানাবেন কীভাবে?

এক চা কাপে বা কফি মগে গরম জল নিয়ে, তাতে দিন—

৩ গ্রাম (হাফ চা-চামচ) হলুদ গুঁড়ো

২৫ গ্রাম সদ্য কাটা আদার টুকরো

এক টুকরো দারুচিনি

এক চা চামচ গোটা গোল মরিচ

এবার পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করে, এতে এক চা চামচ মধু আর হাফ চা চামচ লেবুর রস

দিয়ে নেড়ে নিন।

ব্যস! তৈরি আপনার ‘কুরকুমা টে বা হলুদ চা’, এক চুমুকেই চনমনে শরীর-তাজা মন।

ব্রিটিশ যুগের আগে চা না চেনা বাঙালির আর কি চাই! গাইতেই পারেন— এক কাপে চায়ে আমি ‘ইমিউনিটি বুস্টার চাই’!

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *