লভলিনা বনাম সুরমেনেলি: লড়াইয়ের কাহিনি দুই তরফেই

Mysepik Webdesk: অসমের মেয়ে লভলিনা বড়গোঁহাই আগামীকাল তুরস্কের প্রতিপক্ষ বুসেনাজ সুরমেনেলির বিরুদ্ধে ফাইনালে ওঠার জন্য বক্সিং রিংয়ের লড়াইয়ে নামতে চলেছেন। অত্যন্ত কঠিন প্রতিপক্ষ এই বুসেনাজ কিন্তু বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। যদিও তুরস্কের এই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ম্যাচে নামার আগে ২৩ বছর বয়সি লভলিনা জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ব্রোঞ্জ নয়, সোনার পদকই অলিম্পিক থেকে আনতে চান তিনি। বুসেনাজ যেমন তুরস্ক থেকে অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জন করা প্রথম মহিলা বক্সার, তেমনি লভলিনা অসম থেকে প্রথম মহিলা বক্সার, যিনি অলিম্পিকে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। গত শুক্রবার তিনি ওয়েল্টারওয়েট বিভাগের কোয়ার্টার ফাইনালে চাইনিজ তাইপের চেন নিয়েন-চিনকে ৪-১ ব্যবধানে পরাজিত করে সেমিফাইনালে উঠেছেন। অলিম্পিক বক্সিংয়ের নিয়ম অনুযায়ী, সেমিফাইনালে উঠলেই ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত। সুতরাং মেরি কমের পর তিনিই প্রথম মহিলা বক্সার, যিনি অলিম্পিক থেকে পদক আনতে চলেছেন। কিন্তু জানেন কি, টোকিও যাত্রা এতটা সহজ ছিল না দেশের নাম উজ্জ্বল করা লভলিনার জন্য?

আরও পড়ুন: ৪১ বছর পর অলিম্পিক ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়তে ব্যর্থ ভারতীয় পুরুষ হকি দল

টোকিও অলিম্পিকের কয়েক মাস আগে তাঁর মা মামনি বড়গোঁহাইয়ের কিডনির অপারেশন হয়েছিল। লভলিনার মায়ের একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করাতে হয়েছিল। সেই সময় এই ভারতীয় বক্সার মায়ের সঙ্গেই ছিলেন। যখন সমস্ত বক্সার টোকিও অলিম্পিকের জন্য কঠোর ট্রেনিং নিচ্ছিলেন, তখন লভলিনা তাঁর মায়ের সেবা করছিলেন। সেখান থেকে সময় বের করে তিনি নিজের ঘরেই প্র্যাক্টিস করতেন। অসমের গোলাঘাটে জন্মানো এহেন লভলিনার প্রতিপক্ষ তুরস্কের ট্রাবজোনে জন্মানো সুরমেনেলি, তাঁর মাত্র ১০ বছর বয়সে বক্সিংয়ে হাতেখড়ি হয়। তিনি হয়েছিলেন যুব চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমও।

আরও পড়ুন: মেডেল জয়ের নেপথ্য নায়ক ‘ওয়ারেবল টেকনলজি’

২০১৭ সালে ইতালির ক্যাসিয়ায় মহিলা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন অ্যামেচার বক্সিং চ্যাম্পিয়ন রুপোর পদক জিতেছিলেন সুরমেনেলি। তিনি স্পেনের আলকোবেন্ডাসে ২০১৯ সালে মহিলাদের ইউরোপীয় অপেশাদার বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন। ওই বছরই রাশিয়ার উলান-উডে অনুষ্ঠিত ২০১৯ এআইবিএ মহিলা বিশ্ব বক্সিং চাম্পিয়নশিপে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এছাড়াও ২০২০-র ফেব্রুয়ারিতে হাঙ্গেরির ডেব্রেসনে অনুষ্ঠিত ৬৪তম বোকস্কাই ইস্তভান মেমোরিয়াল ইন্টারন্যাশনাল বক্সিং টুর্নামেন্টে ৬৯ কেজি বিভাগে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। ছোটবেলায় লভলিনার বাবা টিকেন বড়গোঁহাই তাঁর কন্যাকে কিংবদন্তি বক্সার মহম্মদ আলির গল্প শোনাতেন। সেই থেকেই বক্সিংয়ের প্রতি অনুরাগ তৈরি হয় ১৯৯৭ সালে জন্মানো লভলিনার। তারপর থেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে দু’টি ব্রোঞ্জ মেডেল সহ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও দু’টি ব্রোঞ্জ জিতেছেন তিনি। তিনি কি পারবেন অলিম্পিকের ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়তে? তার জন্য আগামীকাল ভারতীয় সময় সকাল ১১টার সেমিফাইনালে তুরস্কের কঠিন প্রতিপক্ষ বুসেনাজ সুরমেনেলিকে পরাস্ত করতেই হবে ভারতের ভরসা লভলিনা বড়গোঁহাইকে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *