মধ্যপ্রদেশ বৃত্তান্ত (৫) – মাহেশ্বর ওমকারেশ্বর

অঙ্কিতা

প্রাচীন সাহিত্যে উল্লিখিত ষোড়শ মহাজনপদের একটি রাজ্য অবন্তী। সেই অবন্তীর ছিল দুই রাজধানী। উত্তর অবন্তীতে উজ্জয়িনী আর দক্ষিণ অবন্তীতে মাহিষ্মতী। এই মাহিষ্মতী রাজ্যটিই পরবর্তীকালে মহেশ্বর অথবা মাহেশ্বর নামে বিখ্যাত হয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই নর্মদা তীরববর্তী এই স্থানটির রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব অসীম। মাহেশ্বরের নাম বারংবার উঠে এসেছে পুরাণে, মহাভারতে, ইতিহাসে।

ব্রেকফাস্ট করেই আমরা বেরিয়ে পড়লাম মান্ডু ছেড়ে। পাহাড়ের পাকদণ্ডী বেয়ে গাড়ি এগিয়ে চলল। যে রাস্তা ধরে এসেছি সেই রাস্তায় নয়, দুর্গশহরের পিছনের অন্য এক রাস্তা ধরে। আজকে আমাদের লম্বা সফর। দু-দিন মান্ডুতে বিশ্রামের পরে আজকে আবার দৌড়ানো শুরু। আজ আমাদের গন্তব্য ভোপাল। কিন্তু আমরা সামান্য ঘুরপথে দেখব আরও তিনটি দ্রষ্টব্য স্থান— মাহেশ্বর, ওমকারেশ্বর এবং পাতালপানি ঝরনা।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রদেশ বৃত্তান্ত: মান্ডু

মান্ডুর পাহাড়ি পথে

পাহাড় ছেড়ে সমতলভূমিতে নেমে এলাম। টানা রাস্তা। দু-পাশে অনবাদী পাথুরে জমি। কিছুক্ষণ যাওয়ার পরে দেখতে পেলাম, একের পর এক উটের দল যাচ্ছে। পাহাড়ে বেড়াতে গেলে যেমন রাস্তা জুড়ে হেঁটে চলা ভেড়া অথবা ছাগলের দল দেখা যায়, এখানে তেমনি উটের দল। মানছি কিছু দূরেই রাজস্থান শুরু, কিন্তু শীতকালে এত উট মধ্যপ্রদেশে কী করতে এসেছে? আর এরা যাচ্ছেই বা কোথায়? বিগত কয়েকদিন ধরেই মনের মধ্যে প্রশ্নগুলো দানা বাঁধছিল। এখন আর থাকতে না পেরে জিজ্ঞেসই করে ফেললাম ড্রাইভার ভাইকে। তিনি স্থানীয়, এই ঘটনা সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল নির্ঘাত।

জানা গেল, এই উটগুলো এসেছে চাষে সাহায্যের জন্য। চাষে সাহায্য! উটে লাঙল টানে নাকি? আমাদের বোকার মতো প্রশ্নের উত্তরে আরও জানা গেল, উটগুলোকে জমির মালিক ভাড়া করে। এরা আগামী এক-দেড় কি দু-মাস পর্যন্ত মালিকের জমিতে থাকবে, মালিক উটের খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদির খরচ জোগাবে; পরিবর্তে তাঁর নিরস জমিটি হয়ে উঠবে উষ্ট্রবরের আশীর্বাদে উর্বর। উষ্ট্রবর বুঝলেন না? আরে গো থেকে গোবর পাওয়া গেলে, উট থেকে উষ্ট্রবরই তো হবে।

চাষের সময়ের দু-তিন মাস আগে রাজস্থান থেকে পালে পালে উট আসে এদিকে। এই কৃত্রিম সারের যুগেও এখানকার লোকেরা এই ব্যবস্থা বজায় রেখেছে শুনে চমৎকৃত হলাম। হয়তো বা এখানকার নিরেট মাটির জন্য উটের আশীর্বাদই প্রয়োজন, নিশ্চয়ই এই ব্যবস্থায় এদের খরচও কম হয়। রুক্ষ প্রান্তর আর মাঝেমাঝে নয়ন জুড়ানো সবুজ ক্ষেত দেখতে দেখতে আমরা পৌঁছে গেলাম মাহেশ্বর।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রদেশ বৃত্তান্ত: উজ্জয়িনী

উট চলেছে মুখটি তুলে

নর্মদা তীরে প্রাচীন দুর্গ মাহেশ্বরের স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের সৌন্দর্য্য প্রথম দর্শনেই মন কেড়ে নেয়। নীচে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা, তারপর চওড়া চড়াই রাস্তা ধরে উঠতে হয়।

মাহেশ্বর দুর্গটি প্রথম কে প্রতিষ্ঠা করেন, তার ইতিহাস সঠিকভাবে জানা যায় না। পঞ্চম অথবা ষষ্ঠ শতকের কোনও হিন্দু রাজা এই দুর্গটি স্থাপন করেছিলেন বলে ঐতিহাসিকরা মনে করেন। মাঝে যুদ্ধে দুর্গটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে মহারাজা মালরাও হোলকার এবং রানি অহল্যাবাঈ হোলকার দুর্গটিকে পুনর্নির্মাণ করান। দুর্গের ভিতরে রানি অহল্যাবাঈ হোলকারের বিশাল মূর্তি। দুর্গ এবং অন্তর্বর্তী মন্দিরগুলোকে পুনর্নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নর্মদা নদীতে নামার ঘাটটি চওড়াভাবে বাঁধিয়ে দেন; যা এখন অহল্যাঘাট নামে পরিচিত।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রদেশ বৃত্তান্ত: ইন্দোর

মাহেশ্বর দুর্গের ভিতরে

নর্মদার জলতল থেকে প্রায় পাঁচশো মিটার উঁচু এই দুর্গের ভিত্তি। এই দুর্গে পাঁচটি দরজা আছে, প্রত্যেক দরজার মাথায় গণেশের মূর্তি। আমরা ভিতরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম। রানির ছোট কাঠের প্রাসাদ, প্রাচীন কেশব মন্দির, বিঠোজির ছত্রি ও রেবা সোসাইটি। দুর্গের ভিতরটা ছোট শহরের মতো। বেশ কিছু দোকানপাট আছে, এখানকার বিখ্যাত বস্ত্রশিল্প মাহেশ্বরী শাড়ি, ওড়না ইত্যাদি বিক্রি হচ্ছে।

নর্মদার ধারে কেশব মন্দিরটা প্রাচীন স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। মন্দির চত্বরে  আমরা বেশ কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করলাম। কারুকার্য করা দরজা, ঝরোখা, অলিন্দ। একপাশের বারান্দা থেকে বিস্তীর্ণ নর্মদা দেখা যাচ্ছে। উলটো দিকে অখিলেশ্বর মন্দির। অহল্যাবাঈ ঘাট থেকে নৌকা ছাড়ছে। দাঁড়টানা, ভটভটি দুই রকমেরই। নদীর মাঝে একটি পাথরের শিব মন্দির। নৌকা ভাড়া করে টুরিস্টরা সেই মন্দির দর্শনেও যাচ্ছে। আমাদের হাতে সময় নেই নর্মদা ভ্রমণের। আমাদের অনেক দূর যেতে হবে আজকে। তাড়াতাড়ি মন্দির দর্শন করে আমরা বেরিয়ে এলাম।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রদেশ বৃত্তান্ত: গৌরচন্দ্রিকা

নর্মদা তীরে কেশব মন্দির

মাহেশ্বর থেকে ওঙ্কারেশ্বর প্রায় ঘণ্টা দেড়-দুইয়ের রাস্তা। নর্মদা ও অন্য একটি নদীর মিলনস্থলের কাছেই সুন্দর চওড়া ব্রিজ। এখানেও দেখলাম নদীর চড়ায় অনেক মানুষ পিকনিক করছে। নদী পেরিয়ে প্রায় আধ ঘণ্টা যাওয়ার পরে আমরা ব্রহ্মপুরী মার্কেটে এসে গাড়ি থেকে নামলাম। বেলা বেশি হয়নি, সবে বারোটা বেজেছে। ঠিক হল, আগে ওঙ্কারেশ্বর দর্শন তারপর ভোজন। ওই তো দেখা যায় পাহাড় আর মন্দির, কত আর সময় লাগবে দর্শনে! বড়জোর ঘণ্টা দেড়-দুই। এখন বারোটা বাজে, দু’টোর মধ্যে চলে আসব। তারপর খাওয়া-দাওয়া করে ভোপাল যাত্রা। রাত ন’টার মধ্যে দিব্যি পৌঁছে যাব। তখন কি আর জানতাম স্বয়ং মহাকাল উপর থেকে মুচকি হাসছে।

ব্রহ্মপুরীর ঘিঞ্জি বাজারের একধারে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা। দূরে দেখা যাচ্ছে, ওঙ্কারেশ্বর পাহাড় আর তার গায়ে মন্দির। নর্মদার উপরে পায়ে হাঁটা ব্রিজ। ব্রহ্মপুরী থেকে ব্রিজ ধরে ওঙ্কারেশ্বর মন্দির প্রায় এক কিলোমিটার। ব্রহ্মপুরী ঘাট থেকে আমরা নৌকায় চেপে বসলাম। নর্মদায় নৌকায় চড়ার স্বাদ ঘোলে মেটানোর আশা।

আরও পড়ুন: চিন্তা ও দুই কবি

কেশব মন্দিরগাত্রের নকশা

‘তপোভূমি নর্মদা’য় পড়েছিলাম এই প্রাচীন তীর্থক্ষেত্রটি নর্মদার মধ্যে একটি দ্বীপপাহাড়, নাম ওঙ্কার মান্ধাতা। দ্বীপের দুই পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নর্মদা, কিন্তু নদীর চলন দেখে তা মনে হল না। হয়তো বা আমরা সেইভাবে ঘুরে দেখিনি তাই। ঘাটে নৌকা ঠেকার সময় মাঝি বলল, নৌকাতেই জুতো খুলে রাখতে নয়তো উপরে গিয়ে আলাদা করে ভাড়া দিতে হবে, জুতো চুরিও হয়ে যেতে পারে ইত্যাদি। মাঝি আমাদের পুনরায় বাজারের ঘাটে ফিরিয়ে নিয়ে গেলে তবে টাকা পাবে, তাই নিশ্চিন্তে জুতো খুলে রেখে উঠে পড়লাম। তখন জানতাম না মাঝিও ওই একই নিশ্চয়তার জন্যেই চার জোড়া জুতো জমা নিয়ে নিল।

ঘাট থেকেই ক্যামেরা ব্যাগে ঢুকে গেল। এই দ্বীপে ছবি তোলা মানা। পান্ডা, ভিখারি আর ডালা বিক্রেতাদের এড়িয়ে দ্রুত উপরে উঠতে শুরু করলাম পুজো দেবার সময় নেই হাতে, দূর থেকেই প্রণাম করব। উপড়ে উঠে দেখি বেশ ভিড়, লম্বা লাইন মন্দিরের সামনের রাস্তায়। তাহলে ঠাকুর দর্শনও হবে না, নৌকা করে নদী সঙ্গমে ঘুরে আসা যায়; এই ভাবতে ভাবতেই দেখি মায়েরা উঠে এসেছে উপরে, হাতে পুজোর ডালি।

আরও পড়ুন: পশ্চিমে দেশান্তরের মরশুম

অহল্যাবাঈ ঘাট এবং নর্মদা মধ্যবর্তী শিব মন্দির

ওঙ্কারেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ ভারতের বারটি প্রাচীন শিবের একটি। এই দ্বীপের মন্দিরে পাঁচটি তলায় পঞ্চশিবলিঙ্গের পুজো হয়— ওঙ্কারেশ্বর, মহাকালেশ্বর, সিদ্ধনাথ, গুপ্তেশ্বর এবং ধ্বজাধারী। এছাড়াও এই এলাকায় আরও অনেক তীর্থস্থান ও মন্দির আছে। বলা বাহুল্য, ওই একটি জ্যোতির্লিঙ্গ বাদে আমরা আর কিছুই দেখিনি। ওঙ্কারেশ্বর বাবা পুজো চেয়েছেন, অতএব নিরুপায় হয়ে লাইনে দাঁড়ালাম। অষ্টমীর রাতে শ্রীভূমির ঠাকুর দেখার মতো ভিড়। বাঁশ দিয়ে লাইন ঠিক রাখা হচ্ছে ঘিঞ্জি বাজারের মাঝে সরু গলিতে।

কচ্ছপের মতো এগোতে এগোতে এক সময় শ্বেত পাথরে বাঁধানো সিঁড়িতে পা রাখলাম। এবার শিকল ও রেলিংয়ের ব্যবস্থা একটা চত্বরের মধ্যে। অনেকেই ছোট বাচ্চা নিয়ে এসেছেন। ভিড়ের চাপে বাচ্চারা তারস্বরে কান্নাকাটি করছে, বয়স্করা হাঁপাচ্ছেন। এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। দু-একটা বাচ্চাকে অসুস্থ হয়ে পড়তেও দেখলাম। যত এগোচ্ছি, মানুষের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। চাপের চোটে নিশ্বাস নেওয়া যায় না এমন পরিস্থিতি। একটা করে লোহার গ্রিল খোলা হচ্ছে আর পাগলের মতো মানুষ ছুটে যাচ্ছে। অবশেষে মন্দিরের দ্বার দেখতে পেলাম।

ওঙ্কারেশ্বর মন্দিরে যাওয়ার ব্রিজ ও ঘাট

দরজার পিছনে উঁচু উঁচু পাথরের পিলার দেওয়া ঘর, স্তম্ভগুলোতে সুন্দর কারুকার্য। ঘরজুড়ে বোধহয় আট-দশটা মানুষের সারি। ঘরের শেষ প্রান্তে নীচু ছোট দরজা। মনে হল রুপোর পাতে মোড়া। দরজা বন্ধ। দরজার উপরে ছোট একটা ঘড়ি প্রায় চারটে বাজতে যায়।

শুনলাম, চারটে বাজলে সন্ধ্যাপুজো শুরু হবে তখন এক ঘণ্টা দরজা বন্ধ থাকবে। খিদেয় ক্লান্তিতে দুশ্চিন্তায় কাকে দোষ দেব ভেবে না পেয়ে ভগবানের প্রতিই দাঁত কিড়িমিড় করছি, এমন সময় দরজা খুলে গেল। হু-হু করে সবাই ঢুকতে লাগল। আমিও মাকে ঠেলে ঠুলে ঢুকিয়ে দিলাম দরজা গলিয়ে। আমার পিছনে আর দু-তিন জন ঢুকতেই দরজা বন্ধ হয়ে গেল।

আরও পড়ুন: সম্বুদ্ধজাতিকা (৮ম অংশ)

ওঙ্কারেশ্বর মন্দির

সরু চাপা প্রায় গুহার মতন করিডোর। হাতের ডালা বহু আগেই পাণ্ডাদের কাছে চলে গেছে, সেই মন্দিরের সিঁড়ির কাছেই। মানুষের চাপে জ্যোতির্লিঙ্গের বদলে সর্ষে ফুল দেখছি। মা এদিক-ওদিক ধাক্কা খেতে খেতে বিমূঢ়ের মতো আমার দিকে এগিয়ে এলো। যেন এতক্ষণ ঠাকুর নয়, আমাকেই খুঁজছিল। জিজ্ঞেস করলাম, দেখলে? মা ঘাড় নাড়ল। বলল— দরকার নেই, বড্ড ভিড়, চলে চল।

ইয়ার্কি! ঝাড়া চারটি ঘণ্টা ধরে এত কষ্ট করে দর্শন না করেই যাবে কি! ভিড় ঠেলে কোনওমতে কাচের বাক্সটার কাছে মাকে পাঠিয়ে দিলাম। জ্যোতির্লিঙ্গটা ওর মধ্যেই, প্রায় পায়ের কাছে। একটু নীচের দিকেই। সেই জন্যে ভিড়ের মধ্যে সহজে চোখে পড়ে না।

আমি দেওয়াল-ঘেঁষে একটা অপেক্ষাকৃত ফাঁকা জায়গায় দাঁড়ালাম। লোকের চাপে দাঁড়ানোর উপায় নেই। ততক্ষণে ওঙ্কারেশ্বরের লিঙ্গমূর্তি আমি দেখে নিয়েছি। শ্বেতধবল ডিম্বাকার একটি পাথর। লিঙ্গমূর্তিটাকে ভালো করে দেখলাম। এর আগে আমি সাদা শিবলিঙ্গ দেখিনি। এটার জন্যেই এত কষ্ট সহ্য করা। সূর্যের আলো অথবা টিউবলাইটের আলোতেই হয়তো বা পাথরটা জ্বলজ্বল করছিল স্ফটিকের মতো; জ্যোতির্লিঙ্গ।

আরও পড়ুন: তুৎ পাখি উড়া দিলে…

ওঙ্কারেশ্বর থেকে ফেরার পথে

দর্শন করে বেরিয়ে এলাম। ওঙ্কারেশ্বরের সেবায়েতদের প্রতি বেশ কিছু ঝাঁঝালো মন্তব্য করে ঘাটে এসে দাঁড়ালাম। এবার শুরু হল মাঝির জন্য অনন্ত প্রতীক্ষা। ঝাড়া একটি ঘণ্টা অপেক্ষা আর অজস্রবার ফোন করে চেঁচামিচির পরে, মাঝি আমাদের চার জোড়া জুতো সমেত নৌকাটি এনে দাঁড় করালেন ঘাটে। বাজারে এসে যখন নামছি তখন সাড়ে পাঁচটা বাজে প্রায়।

ব্রহ্মপুরী বাজারে খেতে ইচ্ছা করল না। হাইওয়ে ধরে খানিকটা এগিয়ে এসে রাস্তার ধারে একটা ধাবা পেলাম। সেখানেই জমিয়ে পেট পুজো হল। এতক্ষণে মন প্রাণ শান্তি পেল যেন। সূর্য পাটে বসেছে। এখনও আমাদের অনেকদূর যেতে হবে।

আরও পড়ুন: আদিবাসীরা নাচবে না

পাতালপানির ঝরনা আর দেখা হল না। আমাদের ড্রাইভারও বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। গাড়ির স্পিড কমিয়ে, দু-তিনবার চা খেয়ে ইন্দোর ঢোকাতেই সে প্রায় আটটা বাজাল। ইন্দোরে ড্রাইভার বদল হল। নতুন সারথির হাতে গাড়ি দুরন্ত গতিতে ছুটে চলল ইন্দোর-ভোপাল হাইওয়ে ধরে।

প্রায় গোল চাঁদ মুচকি হাসছে আকাশে। এতক্ষণে খেয়াল হল আজকে সোমবার, তায় দু-দিন আগেই পূর্ণিমা ছিল; সেই জন্যেই অত ভিড়! সারাদিনের ক্লান্তিতে মা বেশ বিমর্ষ হয়ে বসেছিল। এই খবরগুলো দিতে মায়ের মনটা বেশ ভালো হয়ে গেল। এগারোটা নাগাদ গাড়ি থামিয়ে রাস্তার ধারে ধাবায় নৈশআহার হল। ভোপাল ঢুকতে ঢুকতে আমাদের বারোটা বেজে গেল। জয় ওঙ্কারেশ্বরের জয়। আমার ইন্দোর পর্ব এইখানেই সাঙ্গ হল। পরের গল্প ভীমবেঠকা।

ক্রমশ…

ছবি লেখক

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *