শান্তিপুরের রী৺মাতা মহিষখাগী মাতা পুজো

তিরুপতি চক্রবর্তী

শান্তিপুরের এক অতি বিখ্যাত কালী হল মাতা মহিষখাগী। এটিও তান্ত্রিকমতে পূজিত এক অতি জাগ্রত কালী। আনুমানিক ৫৫০ বছর পূর্বে কোনও এক তান্ত্রিক পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসে সাধনা করতে করতে মায়ের রূপ দেখতে পান, সেই থেকেই এই পুজোর সূচনা। কিন্তু সেই তান্ত্রিকের নাম আজও জানা যায়নি। বহু পূর্বে এখানে মহিষ বলি হত, সেই থেকেই এই মায়ের নাম মহিষখাগী। একবার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র আটটি মহিষ বলি দিতে এসেছিলেন এই মায়ের কাছে এবং তা সম্পন্ন করতে পরের দিন ভোর হয়ে যায়, সেই থেকেই এই পুজো দুই পর্যায়ে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। পুজো বলির আগে পর্যন্ত প্রথম অংশ এবং দ্বিতীয় ভাগ বলিদান পরবর্তী সময়ে হত। কিন্তু এখন বলির প্রথা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এক আসনে পুজো সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন: শান্তিপুরের প্রথম বারোয়ারি ডাকাত কালী পূজা

পরবর্তীকালে একটি ব্রাহ্মণ পরিবার এই পুজো চালিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন এই পরিবারের একমাত্র কন্যারও মৃত্যু হয়। তারপর এলাকাবাসীই এই পুজো চালিয়ে নিয়ে চলেছেন আজও। অজস্র লোককথা জড়িয়ে এর সঙ্গে। এমনকী অতীতে এই ঠাকুর বা বিগ্রহগুলি মশালের আলোয় নিয়ে যাওয়া হত। সকালবেলা এখানে মাকে এখানে পান্তা ভাত ও খয়রা মাছ ভোগ দেওয়া হয়। এখন  বিকেলবেলা সূর্যের আলো থাকতে থাকতেই মাকে কাঁধে নিয়ে বিসর্জনের পথে বেরোনো হয়। লক্ষাধিক ভক্তের উলুধ্বনির সঙ্গে এবং সমবেত ভক্তের আবেগে বিসর্জন দেওয়া হয়। এই যাত্রা শান্তিপুর বাসির কাছে অত্যন্ত আবেগ ও উৎসাহের।

ছবি সংগৃহীত

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *