করোনার জীবনদায়ী ইঞ্জেকশান চুরির ঘটনাকে রাজনীতির রং লাগাতে চান না মমতা

Mysepik Webdesk: কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ২৬টি টোসিলিজুম্যাব ইঞ্জেকশন, যা করোনার চিকিৎসায় জীবনদায়ী ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, চুরির ঘটনায় হুলুস্থুলু কান্ড। এই ঘটনার কথা খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কানে গিয়েছে। তিনি বুধবারের বৈঠকে জানিয়েছেন, এই বিষয়টি স্বাস্থ্য দফতরের অধীনস্থ। সুতরাং এই বিষয়ে তিনি কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করবেন না। স্বাস্থ্য দফতর যা ভাল বোঝে তাই করবে। কারণ, মেডিকেল কলেজের হাতেই আইনত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চ্যাপ্টার ক্লোজড’, নবান্নে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জু বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের পক্ষ থেকে গোটা বিষয়টির তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ওই কমিটি দু’বার বৈঠকে বসেছে। প্রথমবার কীভাবে তদন্ত করা হবে, তার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে। দ্বিতীয়বার বিষয়টি যাচাই করা হয়েছে। ওই কমিটিই খুব শীঘ্রই কোনও ব্যবস্থা নেবে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই তদন্তকারী কমিটিতে ৭ জন সদস্য রয়েছেন। সেখানে ফার্মাকোলজি ফরেনসিক-সহ নানা বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সিং বিভাগের কয়েকজন আধিকারিক রয়েছেন।

আরও পড়ুন: মোটা গাছের গুঁড়ি ব্যবহার করে সুন্দরবনে বাঁধ দেওয়ার পরামর্শ মমতার

জেনে রাখা ভাল যে টোসিলিজুম্যাব ইঞ্জেকশন হলো এমনি একটি ইঞ্জেকশন যেটি করোনা রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। রোগীর শরীরে সাইটোকাইনিনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে এই ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করা হয়। অর্থাৎ বলা যায় যে রোগীর শরীরে যখন ইনফ্ল্যমেশান বা প্রদাহ তৈরি হয় তখন কোষে কোষে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার বার্তা পৌঁছে দেয় এই টোসিলিজুম্যাব ওষুধ। এই ইঞ্জেকশনের একেকটির বাজারমূল্য ৫০-৫৬ হাজার টাকার কাছাকাছি। কালোবাজারে এই ইঞ্জেকশান প্রায় দুই আড়াই লক্ষ টাকাতেও বিক্রি হয়। অনুমান করা হচ্ছে, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে চুরি যাওয়া ওই ইঞ্জেকশনের বাজারমূল্য কম করে ১০ লক্ষ টাকা।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *