শীতলকুচির ঘটনার পেছনে রয়েছে মমতার প্ররোচনা, বিস্ফোরক অমিত শাহ

Mysepik Webdesk: বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে কোচবিহারের মাথাভাঙার শীতলকুচি গ্রামে। অভিযোগ, প্রায় ৩০০ জন দলীয় কর্মী কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে ঘরে তাদের রাইফেল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই প্রাণ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ওই কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মৃত্যু হয়েছে চার জনের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে বেড়েছে চাপানউতোর। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলই বিরোধী দলকে দায়ী করছে এই ঘটনার জন্য। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই এই ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিও করেন তিনি। এবার শীতলকুচির ঘটনা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত কাঠগড়ায় দাঁড় করলেন অমিত শাহ।

আরও পড়ুন: ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে আরও শীতলকুচির মতো ঘটনা ঘটবে’, ফের বেলাগাম দিলীপ ঘোষ

রবিবার শান্তিপুরে একটি জনসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, “গতকাল রাজ্যে বিধানসভা ভোটের চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণে একটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেছে। আমি জানতে পেরেছি, একটি বুথে কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সিএপিএফ-এর ওপর হামলা করে। তারা সিএপিএফ জওয়ানদের হাত থেকে তাদের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তখন সিএপিএফ জওয়ানরা আত্মরক্ষায় তাগিদে পাল্টা গুলি চালায়। সেই গুলি লেগে ঘটনাস্থলে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”

আরও পড়ুন: কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বৃষ্টির সম্ভাবনা কলকাতায়, কমবে তাপমাত্রা

এর পরেই তিনি এই ঘটনার পেছনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি দায়ী করেন। তিনি বলেন, “যেভাবে এই ঘটনাকে রাজনীতির রং লাগানো হচ্ছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি মমতা দিদির বিবৃতি দেখেছি। ওই একই বুথে সকালে আনন্দ বর্মনকে হত্যা করা হয়েছিল। গুন্ডারা ভোটগ্রহণ বন্ধ করতেই খুন করেছিল। ওই বুথেই ফের সিআইএসএফের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু মমতা দিদি শুধুমাত্র চার জনকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আনন্দ বর্মনের মৃত্যুতে ওনার কিছু যায় আসে না। মৃত্যুতেও তোষণের রাজনীতি করে উনি কিন্তু ঠিক বুঝিয়ে দিলেন বাংলার রাজনীতিকে কত নীচে নামিয়েছেন মমতা দিদি।”

আরও পড়ুন: ‘গণহত্যা করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী’, আজ কালো পোশাকে প্রতিবাদ মমতা বন্দোপাধ্যায়ের

তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, “এই শীতলকুচিতেই মমতা দিদি কয়েকদিন আগে ভাষণে বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এলে তাদের ঘেরাও করো। তাদের ওপর হামলা করো। আমি মমতা দিদিকে সরাসরি প্রশ্ন করছি, আপনার সেই ভাষণ কি এই চার জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী নয়? আপনি যদি ওসব না বলতেন তাহলে ওই চার যুবক সিআরপিএফের ওপর আক্রমণ করার সাহস পেতেন কি? আমি বলছি আপনিই তাদের প্ররোচনা দিয়ে গুলি চালানোর পরিস্থিতি তৈরি করেছেন।”

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *