Latest News

Popular Posts

কোচিং এবং ধারাভাষ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার কথা ভাবছেন কেকেআরের একদা ‘নায়ক’ মানবিন্দার বিসলা

কোচিং এবং ধারাভাষ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার কথা ভাবছেন কেকেআরের একদা ‘নায়ক’ মানবিন্দার বিসলা

Mysepik Webdesk: মানবিন্দার সিং বিসলাকে মনে আছে? ২০১২-র আইপিএল ফাইনালে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ৪৮ বলে ৮৯ রানের একটা ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিততে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এই বিসলা। হয়েছিলেন ম্যান অফ দ্য ম্যাচ। যদিও পরে ফর্ম ধরে রাখতে ব্যর্থ হন তিনি। এরপর কেকেআর ছেড়ে দেয় বিসলাকে। ২০১৫-এ তিনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরে যোগ দিলেও খুব বেশি সুযোগ পাননি। গতবছর জানা গিয়েছিল যে, বিসলা শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে সুযোগ পাওয়া আইপিএলে প্রত্যাবর্তনের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দৈনিক ভাস্কর’ বিসলার সঙ্গে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী এবং ২০১৫-র পর থেকে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তাঁকে হতে হয়েছিল, তা জানতে যোগাযোগ করেছিল।

আরও পড়ুন: ডুরান্ড জিততে ব্যর্থ মহামেডান স্পোর্টিং

সংবাদমাধ্যমটিকে বিসলা জানান, ছয় বছর ধরে আইপিএলে ফেরার অপেক্ষা করেছেন। তা ছাড়াও তিনি এয়ার ইন্ডিয়ার হয়ে খেলাও চালিয়ে গেছেন। চলতি বছর তিনি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট এবং আইপিএলে ধারাভাষ্যের জন্য একটি স্পোর্টস চ্যানেলের সঙ্গে জুটিও বেঁধেছেন। তিনি এখন তাঁর সম্পূর্ণ মনোযোগ কোচিংয়ের পাশাপাশি ধারাভাষ্যের দিকে দিতে চান। বিসলা আরও জানিয়েছেন, গুরগাঁওয়ের স্পোর্টস কিউবে তিনি ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে কোচিং এবং ধারাভাষ্য দিয়ে কেরিয়ার গড়তে চান বিসলা। এই জন্য তিনি স্পোর্টস কিউবের সঙ্গে যুক্ত থেকে খেলোয়াড়দের তৈরি করছেন। আর সেই কারণে তিনি তাঁর পুরো পরিবার নিয়ে গুরগাঁওয়ে বসবাস করছেন। তাঁর পরিবারে মা-বাবা ছাড়াও রয়েছেন স্ত্রী-সহ এক মেয়ে এবং ছেলে।

আরও পড়ুন: জ্যাভলিন প্রেম: জলের তলায় ‘প্রশিক্ষণ’ নীরজের

বিসলা বলেন, “আমি অনেক সুযোগ পেয়েছি। আইপিএল কিংবা ঘরোয়া টুর্নামেন্ট, সব ক্ষেত্রেই সকলেই আমাকে সমর্থন করেছেন। কিন্তু পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারিনি। এজন্য আমাকে দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছে। মাঝেমাঝে আমার মনে হয়, আপনি কঠোর পরিশ্রম করছেন কিন্তু ম্যাচের কন্ডিশন আপনার অনুকূলে নেই। তাই কোনওভাবেই ভালো করতে পারবেন না আপনি। আমি ক্রিকেট এবং কোচেদের কাছ থেকে যা কিছু পেয়েছি, তাতে সন্তুষ্ট। আমার কেরিয়ারে মা-বাবার অনেক অবদান রয়েছে। আমার বাবা একজন ভলিবল খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত ছিলেন। এ অবস্থায় প্রাথমিক পর্যায়ে কোনও আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হয়নি আমি। আমরা দুই ভাইবোন ছিলাম। বাবা কখনও খেলা বন্ধ করতে দেননি। অন্যান্য বাচ্চার মতো ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করতাম আমি। আমি যখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি, তখন আমি জওহর নগরের অনুরাগ হুদার ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ক্রিকেট শেখা শুরু করি।”

আরও পড়ুন: বিশাল ছয় মেরে ম্যাচ জেতালেন ধোনি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘মাহি-স্তুতি’

বিসলা আরও বলেন, “আমি যদি দশম শ্রেণি পর্যন্ত ক্রিকেটে সফল না হতাম, তাহলে সম্ভবত আমাকে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে হত। কিন্তু আমি আমার কোচ রাজকুমার শর্মা, অনুরাগ হুদা এবং ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই যে, আমি যখন ক্লাস টেনে পড়ি তখন স্কুল টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পেয়েছিলাম।” ২০১১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত কলকাতা নাইট রাইডার্স দলের অংশ বিসলার কথায়, “হিসারে আমার ইনিশিয়াল কোচ ছিলেন অনুরাগ হুদা। আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি, হরিয়ানা ক্রিকেট অ্যাকাডেমি, ফরিদাবাদে নির্বাচিত হই। সেখানে রাজকুমার শর্মা আমাকে পথ দেখিয়েছিলেন। আজ ক্রিকেটে আমি যা কিছু অর্জন করেছি, তাতে রাজকুমার এবং অনুরোধ স্যারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।”

তিনি জানান, রাজকুমার শর্মা হস্টেলের ইনচার্জও ছিলেন। তিনি মা-বাবার মতো গাইড করতেন। বুঝতে পারিনি যে, হস্টেলে রয়েছি। বিসলা বলেন, “২০১০-এ কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের হয়ে খেলেছি। আমি ২০১১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত কেকেআর দলের অংশ ছিলাম। ২০১৫-এ আমি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরে যোগ দিই। যদিও বেশি সুযোগ পায়নি সেখানে। তারপর আমি আইপিএলে ফেরার অপেক্ষা করতে থাকলাম।” এহেন বিসলা ২০০২-এ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ইন্ডিয়ায় জায়গা পেয়েছিলেন ব্যাটার হিসাবে। কারণ সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন উইকেট-রক্ষক পার্থিব প্যাটেল। তিন-তিনটি ম্যাচে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন তরুণ বিসলা। সেই বছরই পেয়েছিলেন হরিয়ানার হয়ে রঞ্জি ট্রফি খেলার সুযোগ। অজয় রাত্রা সেই দলের উইকেট-কিপার ছিলেন। তাই হরিয়ানা দলে সুযোগ মিলেছিল ব্যাটার হিসেবেই।

আরও পড়ুন: আইএসএসএফ জুনিয়র ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ এয়ার রাইফেলে রুপো জিতলেন রুদ্রাক্ষ পাতিল

২০০৪-এ খেলেছিলেন দেওধর ট্রফি। এছাড়াও ২০০৪ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের হয়ে খেলেছেন দুলীপ ট্রফি। পাঁচ বছর হিমাচলের হয়েও খেলেছেন। যদিও অজয় রাত্রার উপস্থিতিতে সুযোগ পাওয়া কঠিন ছিল তাঁর। বিসলা বলেন, “শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে সুযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু আমি যাইনি। তবে যখন আইপিএলে সুযোগ পাচ্ছিলাম না, তখন বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে এনওসি নেওয়ার পর ২০২০-তে শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে খেলার পরিকল্পনা করেছিলাম। ওখানকার দল আমাকে কিনেও ছিল। তবে কোয়ারেন্টাইনের নিয়মের কারণে সেখানেও যাওয়া হয়ে ওঠেনি।”

টাটকা খবর বাংলায় পড়তে লগইন করুন www.mysepik.com-এ। পড়ুন, আপডেটেড খবর। প্রতিমুহূর্তে খবরের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন। https://www.facebook.com/mysepik

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *