পুজোর বাজার

অন্তরা মিত্র

পুজো! পুজো— দু’অক্ষরের শব্দ, কিন্তু এরই মধ্য দিয়ে যেন ফেটে পড়তে চায় বাঙালির উল্লাস, উত্তেজনা, অধীর অপেক্ষা— আর? আর বাঙালির পুজোর বাজার। এ বাজার করার মন আলাদা। সারাবছর একটু একটু করে জমানো পুঁজি নিয়ে কত না জল্পনা, কল্পনা দিন গোনা! ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষেরই। ক্রেতা ভাবে প্রিয়জনদের পছন্দসই জিনিসটি কিনব! কাকে কোনটা দিলে তার মনটা ভরে উঠবে। আর বিক্রেতা? তার তো সারাবছরের উপার্জনের সিংহভাগ এই বিক্রিবাটা থেকে।

আরও পড়ুন: দিশি পুজো, বিলিতি হ্যালোইন (নিউ জার্সি, আমেরিকা)

আমি হাতিবাগানের মেয়ে। ভিড় থইথই অঞ্চলের। এখানে উপলক্ষ লাগে না, লাগে ছুতো— কেনাকাটা করার! এই দোল, এই চৈত্র সেল, এই জন্মাষ্টমী কিছু না হোক রথের কেনাকাটা— হাতিবাগান বাজারের ভিড় এমনই। ভিড় অবশ্য জমাট বাঁধে নববর্ষের আগে আর পুজোর আগে। তখনই ‘ধাইল নাগরী যত গৌরাঙ্গ বলিয়া’। কিংবা আরও বেশি উন্মাদনা। কারণ লক্ষ্য বহুমুখী। জামা, জুতো, ব্যাগ, গয়না এমনকী প্লাস্টিকের কৌটো পর্যন্ত বিক্রির সর্বোচ্চসীমা ছুঁয়ে ফেলে।

ছোট্টবেলায় মায়ের হাত ধরে গুটগুট করে যেতাম হাতিবাগানে। মা ঝাঁটা থেকে পানের বাটা সবই কিনতেন ভিড় ঠেলে ঠেলে, ঘামে ভেজা মুখে একরাশ আনন্দ মেখে। আর ছোট্ট আমি বুঝেই পেতাম না এত আনন্দ কীসের? ভিড়ে চেপ্টে যাওয়াকে খুব ভয় পেতাম। কেনাকাটার পরে মা যখন আমাকে নিয়ে যেতেন কচুরি, ঢাকাই পরোটার দোকানে, সেটিই একমাত্র ভালো লাগার জায়গা ছিল। ওই একটি কারণে যত অত্যাচার (তখন তাই মনে হত) সহ্য করে নিতাম।

আরও পড়ুন: ঔষধি গাছে ঘেরা ঝাড়গ্রামের কনক দুর্গা

স্কুলের নামেই হয়ে গেছে বাসস্টপ। টাউন স্কুল, হাতিবাগান

হাতিবাগান পুরনো অঞ্চল। বড় বড় দোকান আছে বটে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ফুটপাথবাসী হকারদের লীলাক্ষেত্র। পুজো এলে তাদের দাপট দেখে কে? ক্রেতারাও কম যায় না। দরাদরির অঙ্কগুলো শুনলে চমকে উঠতে হয়। চাদরের দাম কেউ ৫০০ টাকা হাঁকে, ক্রেতা নির্বিকার মুখে বলে ২০০! আমি প্রমাদ গুনি, এই বুঝি লাগল হাতাহাতি। কিন্তু কী এক অলৌকিক উপায়ে সমঝোতা হয়ে যায়। বিক্রেতা বলে ‘আমারও ঘরে ছেলেপুলে আছে। আপনারও ঘরে… সেদিকে তাকিয়ে ৩০০ টাকা দিয়ে দিন। বিক্রেতার বয়স ১৫ থেকে ৭০ যা খুশি হতে পারে। কিন্তু সবাই একবাক্যে ছেলেমেয়ের দোহাই দেখায়।

বড় হয়ে হনহন করে পুজোর ভিড় ঠেলে এগোতে চেষ্টা করেছি, পারিনি। সে জনস্রোত থমকে থাকে, শুধু রাস্তাতেই না, দোকানেই না, পুরো হাতিবাগান মানুষের ঢেউতে ঢেউতে তরঙ্গ তুলে থমকে থাকে। ঢেউ যেদিকে ঘুরবে, আমাকেও সেইদিকে ঘুরতে হবে। শ্রীরাধার মতো ‘শোতের সেওঁলি’ হয়ে। নিজের ইচ্ছেমতো দোকানটির সামনে গিয়ে যদিবা দাঁড়াতে পারি, হুড়মুড় করে মানুষের তরঙ্গ ভেঙে পড়ে গায়ে, আবালবৃদ্ধবনিতা থেকে পকেটমার পর্যন্ত সবাই আছে সেই ভিড়ে। আমাকে ছিটকে সরিয়ে দেয় তিন হাত দূরে। বিপরীত উজান ঠেলে কোনওক্রমে হাতড়ে যদি বা দোকানের সামনে আসতে পারি, দেখি সেখানে ত্রি-স্তর লাইন। কখন আসবে আমার পালা?

আরও পড়ুন: দুর্গোৎসবে সাঁওতালরা পুজো করেন মহিষাসুরকে

হকারদের হাঁ-কার দেবার কত না ভঙ্গি! ‘সেল সেল’ বলে তারা চিৎকার করে না। ‘৩০ টাকায় দুটো— ফুরিয়ে গেল নিয়ে যান নিয়ে যান!’ জানে তারা ভালোই, এই লোভের ফাঁদ এড়ানো শক্ত। তাই যে ক্রেতা হয়তো একজোড়া জুতো কিনতেই বেরিয়েছিল, তার হাতে ক্রমে জমতে থাকে ব্যাগ, কৌটো, বাচ্চার খেলনা এমনকী বিছানার চাদর পর্যন্ত। তার বাড়িতে আদৌ জিনিসগুলির উপযোগিতা আছে কি না, সে প্রশ্ন অবান্তর। ‘সস্তায় কিনলাম’— এই তার বিপুল শান্তি, বিজয় গর্ব। আর বিক্রেতার?— ‘বিশ্বাস করুন এই কুড়িটা টাকা চেয়ে নিলাম— এটুকুই লাভ’।— প্রজন্ম-পরম্পরায় এই কথা, এই ভঙ্গির আর পরিবর্তন হয় না।

হকারদের দুর্ব্যবহার দেখেছি অনেক। ‘যান যান আপনি কিনতে পারবেন না’— বলে আগ্রহী খদ্দেরের হাত থেকে জিনিসটি কেড়ে নিতেও দেখেছি। কখনও লেগে যায় ধুন্ধুমার! কখনও নাক উঁচু ক্রেতা শোধ নেয়— ‘আমার পছন্দসই জিনিস রাখলেই কিনব’— বলে সাময়িক অপমান ধামাচাপা দিয়ে এগিয়ে যায় অন্য দোকানে। পুজোর বাজার কাউকে অখুশি রাখে না।

আরও পড়ুন: কলকাতার প্রথম বারোয়ারি পুজো হয় বলরাম বসু ঘাটে

১৯৪৬ সালের হাতিবাগান

হাতিবাগানে বাজার করতে আসে শুধু কলকাতাবাসী নয়, সারা পশ্চিমবঙ্গ। পুজোর গন্ধ লাগা জিনিসের মোহ ছড়িয়ে পড়ে হাতিবাগানের অলিতে-গলিতে। যে সকল মধ্যবিত্তের অৰ্থসংকট, তারা সামান্য পুঁজি নিয়ে ঝোঁকে ফুটপাথের দিকেই। নতুন জুতো, শাড়ি, ব্লাউজ, ছেলেদের গেঞ্জি, শার্টপ্যান্ট, চুড়িদার— এককথায় লোভনীয় নকশার পোশাকের সম্ভার ফুটপাথ। একবার এক দম্পতির সংলাপ শুনেছিলাম— ‘যাক বাবা, দোকানে ঢুকতেই হল না! যা গলা কাটা দাম!’ পাশ থেকে তাদের ক্ষুদ্র মানবিকাটি বলে উঠল— ‘কিনলেই তো হল না! আমায় মানায় কিনা দেখতে হবে তো!’— অতি খাঁটি কথা! এ বাচ্চা আর শিশু নেই। অতি সচেতন, পুরোদস্তুর সাবালক যুক্তি! তার মা অবশ্য কড়াভাবে বললেন— ‘যা কিনে দেব তাই পরবে।’ কিন্তু এমন অনেক বায়নাদার বাচ্চাকে দেখেছি, যারা, চিৎকার করতে করতে ফুটপাথের ওপর ভিড়ের মাঝেই শুয়ে পড়ে টানটান হয়ে, তাকে তার পছন্দের খেলনা বা পোশাক কিনে দিতেই হবে। এসব অবাধ্য বাচ্চাকে হকাররা আরো উসকে দেয়— ‘দেখুন দেখুন! কেমন করে কাঁদছে, আহা মুখ চোখ লাল করে ফেলেছে গো। আমি না হয় পঞ্চাশটা টাকা কমিয়ে দিচ্ছি। ছেলের মুখ চেয়ে নিয়ে যান দাদা।’

একটা কথা বলি। অন্য সময় যে খদ্দের বউদি, মাসিমা, কাকিমা পুজোর সময় সব ক্রেতাই ছোড়দি। এটাই মহিলাদের খুশি করার মন্ত্র, নিঃসন্দেহে। আর ছেলেরা সবাই ছোট ভাই। ‘ছোট ভাইয়ের দিকটাও দেখুন ছোড়দি। আমরাও পড়াশোনা করেছি। আমাদেরও এডুকেশন আছে।’ পড়াশোনার কথায় মনে পড়ে গেল, একটি অল্পবয়সি মেয়েকে দেখেছিলাম ব্লাউজ বিক্রি করতে। কথায় কথায় জেনেছিলাম জয়পুরিয়া কলেজে পড়ে। মাসে হকারি করে দশ বারো হাজার পায়, পুজোর সময় একটু বেশি। তাই দিয়ে বাবা-মা আর তিন ভাইবোনের সংসার চলে। মিষ্টি মুখের মেয়েটির সেই সাবলীল ভঙ্গি, শিক্ষার অহংকার ছুড়ে ফেলে স্ব-উপার্জনের জেদ তাকে অত ভিড়েও আলাদা জায়গা করে দিয়েছিল। জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ‘ঠাকুর দেখবে না?’— ‘দেখব তো, ষষ্ঠী পর্যন্ত দোকান করব। তারপর খুলব সেই লক্ষ্মীপুজোর পরে!’— ‘তোমার নিজের জন্য কিছু কিনবে না?’ মেয়েটি একটু তাকালো আমার দিকে, তারপর বলল— ‘বোনকে সে দায়িত্ব দিয়েছি। আমি টাকা ধরে দিই, ও সবার জিনিস কেনে।’ আর একবার একজন হকারকে কথা বলতে শুনেছি, চুপিচুপি, তার প্রেমিকার সঙ্গে, বাবার নজর এড়িয়ে, বাপ-ছেলের চুড়ির দোকান। ছেলেটি দিন ঠিক করছে বাপের নজর এড়িয়ে। ‘ষষ্ঠী পারব না গো, হেব্বি চাপ এখন! অষ্টমীতে ঠিক বেরোব তোমাকে নিয়ে।’ আমি না শোনার ভান করেও শুনে ফেলি সেই রোমান্টিক সংলাপ। চুড়ি বাছতে বাছতে মনে হয় এই চুড়ির গোছাও হয়তো উঠবে প্রেমিকার হাতে।

হাতিবাগানের দু’ধারে বড় বড় দোকান। ফুটপাথে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়। সে ভিড় পুজোর সময় উপচে নামে রাস্তায়। গাড়িগুলো কাঁচুমাঁচু মুখে ভয়ে ভয়ে এগোতে থাকে যেন। খুব জ্যাম কথাটা পরিচিত শব্দ এই অঞ্চলে। পুলিশ হিমশিম খায় ভিড় সামলাতে। জনতা জনার্দন বলে কথা তাই ক্রেতা বনাম পুলিশের একটি মজার দৃশ্য দেখেছিলাম পুজোর বাজারে। প্রচণ্ড ভিড়, দলে দলে লোকজন রাস্তা পার হচ্ছে কোনও নিয়ম না মেনে। আরক্ষা বিভাগের অবস্থা শোচনীয় লাঠি উঁচিয়ে হুইসল বাজিয়ে কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। হঠাৎ ভিড় ঠেলে এক মহিলা গটগট করে এগিয়ে এক পুলিশের হাত চেপে ধরে বলে উঠলেন— ‘নিজে তো কিছু কিনবে না, আমাকে ও কিনতে দেবে না! বার করছি হুইসল বাজানো!’ পুলিশ কর্মীটি মিনমিন করে বলে উঠলেন— ‘আঃ এটা ডিউটির জায়গা। বাড়িতে তো সব কথা শুনি। কিন্তু আমাকে ডিউটি তো করতে দেবে…’ এইবার বোঝা গেল। যাক বাবা! ধরপাকড় হবে না! নেহাতই দাম্পত্য কলহ। তাই বা মন্দ কি! পুজোর ভিড়ে উপরি পাওনা!

পুজোয় কেনাকাটা করতে এসে অনেক সময় বহুদিনের অদেখা প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। দু’পক্ষই তখন আনন্দে আত্মহারা। বাহ্যজ্ঞানশূন্য হয়ে ‘ওমা কতদিন পরে দেখলাম’ বলে শুরু করে দীর্ঘ আলাপচারিতা। ‘হ্যাঁ হ্যাঁ সেই সেবারের পুজোয়, আর এখন’। পাশ থেকে টিপ্পনী করে এক বিক্রেতা কিন্তু তারা শোনে না। ভিড়ের ওপর ভিড় বাড়িয়ে সমস্ত লোকের অসুবিধা করে রাজ্যের গল্পের ঝুড়ি খুলে বসে। ‘সাইডে দাঁড়ান, সাইডে দাঁড়ান… শোনেও না একটুও’।

পুজোর বাজারে দেখেছি অনেক ক্রেতাকে বিক্রেতার ওপরেই নির্ভর করতে, সে বড় মজার দৃশ্য! একটি অল্পবয়সি মেয়ে মুখের সামনে আয়না ধরে দাঁড়িয়ে আছে তন্ময় হয়ে। আর যুবক বিক্রেতা মেয়েটির গলায় একটার পর একটা হার পরিয়ে দিচ্ছে। সেইসঙ্গে গম্ভীর মতামত ‘না বোন, তুমি এইটা পর, এটাই মানাচ্ছে’ কিংবা ‘বোন, তোমার মুখটা তো গোল এই ঝোলা দুলটা মানাবে, কানে ধরে দেখো’— এও এক মেলবন্ধন। পুজোর আগেই অকথিত ভাইফোঁটা। এইজন্য বললাম যে, নিজের কানেই শুনলাম ছেলেটি বলছে— ‘বোন, তুমি এত জিনিস কিনলে। এই নাও এই দুলটাও দিলাম এমনি। তাড়াতাড়ি ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেল চট করে। আর এই দাদার দোকানেই এসো কিন্তু।’

হাতিবাগান সর্বজনীনের প্রতিমা। ফাইল চিত্র

এইভাবেই পুজোর বাজার মাতিয়ে দেয় বাঙালিকে। হাতিবাগান জুড়েই যেন আত্মীয়তার ঢল নামে, আমিও শরিক হয়ে পড়ি সেই দলের। আর মনে মনে একটা গর্ব হয় আমিও এই হাতিবাগানেরই মেয়ে হয়ে থাকব চিরকাল। বেঁচে থাকুক পুজো, বেঁচে থাকুক পুজোর বাজার।

পাঠক ভাবতেই পারেন করোনার দাপট কতটা প্রভাব ফেলল হাতিবাগানে। না, একটুও না। প্রথম কয়েক মাস ঝিমিয়ে পড়েছিল হাতিবাগান বাজার। কিন্তু যত পুজো এগোচ্ছে তত বাড়ছে ভিড়, রাস্তার দু’পাশে নতুন সংযোজন মাস্কের দোকান। রংবহারি চটকদার সেইসব মাস্কও হয়েছে নতুন জামার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য। রাস্তার পাশের খাবারের স্টলগুলিও রমরম করছে। ক্লান্ত বাঙালি সর্বভুক। চা থেকে চানাচুর, চাউমিন, ধোসা, ইডলি, টোস্ট অমলেট সবই চলছে রাস্তায় বেঞ্চি পেতে বসে। ‘সামাজিক দূরত্ব’ কথাটাই অপাঙ্‌ক্তেয় এখানে। পুলিশ প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে। আমার কিন্তু স্বস্তির নিশ্বাসই পড়ছে। এই তো পুজোর বাজারের আসল চেহারা! ঝগড়া-ঝাঁটি, দরদাম আনন্দের স্রোতে, হুল্লোড়ে বাঙালি যেন অমৃত মন্থন করে নতুন জীবন ফিরে পাচ্ছে।

জয়তু পুজোর বাজার!

উপরের ছবিটি হাতিবাগান সর্বজনীন-এর ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

Similar Posts:

Facebook Twitter Email Whatsapp

One comment

  • Deb Ranjan Basu

    লেখিকা অন্তরা মিত্রকে অনেক শুভেচ্ছা জানাই। তার লেখায় কলকাতার হাতিবাগান অঞ্চলের পুজোর বাজারের চেনা ছবিটি চোখের সামনে জ্বল জ্বল করছে। ক্রেতা বিক্রেতার দর কষাকষির লড়াই ও শেষে ক্রেতার হাতে জিনিসটি পাওয়ার যে অপার আনন্দ সেই ছবিটি চমৎকার ফুটিয়েছেন সাবলীল ভাষার মাধ‍্যমে। লেখাটা পড়তে পড়তে আমার মনে হচ্ছিল আমি যেন আমার চেনা সেই হাতিবাগানে পুজোর বাজার করতে এসেছি আর তার পরেই কোনো রেষ্টুরেন্টে গিয়ে মোগলাই পরটা খাব আর চরম তৃপ্তি নিয়ে বাড়ী ফিরব এই ভাবতে ভাবতে যে অনেক দিন পর খুব আনন্দ করা গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *