মেঘরাজি, শরৎকালীন

পূর্বা মুখোপাধ্যায়

কে কোথায় ছদ্মবেশী
কী যেন রং জমাল
আকাশে মেঘলা বেশি

আমি মুখ পালটে এসে
আয়নায় তাকিয়ে দেখি
আমিও ছদ্মবেশী।

এ জগৎ রঙিন বলে
আমাদের মেঘলা বেশি।
আমাদের রংধনুতে

বৃষ্টির আদর মাখা,
আলোরও চুমুর শ্বাসে
দুই চোখ জুড়িয়ে আসে।

এ কথা নিষিদ্ধ নয়।
জগতের চন্দ্রাতপে
অঝোরে ঝরছে ধারা…

তবু সে দেয় পাহারা।
তাই এই ছদ্মবেশে
ছাইরং সাজিয়ে আসি।

যে কথাটি ঠোঁটে এসে বসে আছে, তাকালেই ফুড়ুৎ
চোখের আড়ালে তাকে রেখে দিই আমি।
সে যত স্বাধীন ডানা, আনমনা, আশ্চর্য, অদ্ভুত…
ততটাই অন্তরালগামী।
অন্তরাল, ওগো অন্তরাল
সে আজ সুবোধ্য হতে ভালোবাসে। রহস্য তো জেনে গেছি কাল!

আরও পড়ুন: শুভনাম

যদি ইচ্ছে করো, ইচ্ছে দিয়ে চালাও।
মতিভ্রম। লোকে বলবে। বলার গায়ে আগুন
দাও। আঁচ এবার তোমায় খাবে। তুমিও আঁচ খাও।

যদি ইচ্ছে করো, গায়ে হরেক তাপ্পিমারা জামা
চাপাও। খানিক খুশিতে শিস দাও।

আমি দেখি দেখি দেখি
সবুজ ট্রাফিক উড়িয়ে অলীক রাস্তা পেরোচ্ছে…

নির্ভীক শায়ক
আর লাজুক সে ছিলা।

অছিলা… অছিলা…

ছিলে, আছ। থাকবে?
কী জানি!

আপাতত অলক্ষ্যসাধন।

আমায় আমার মন
পোড়াতে সাহায্য করো, লীলা!

আমি ছিলায় শরের ব্যথা জানি…

বড় সুখ আত্মনির্যাতনে।
অগাধ এ নীলরক্ত, ফেনা ফেনা ফেনা…

ভিতু শশকের মন, শরবনে নিঃসাড়ে লুকোল।


সে কি ধীরে আসে? ফিরে যায় লজ্জায়?
সে কি ভীরুমন? সে কি বাদলের রেশ?
কিন্তু গলায় রোদ্দুর উঠে পড়ে তো আমায়
মাতিয়ে তুলছে বেশ!
বলো দেখি এর কী আবেশ, সচকিতা!
কান পেতে শুনি, মাদলের বোল বুকে।
চশমা টেবিলে, চোখদু’টি উড়ো বক।
আঙুলে আঙুল জড়িয়ে তর্ক করে।
মুখোমুখি তুমি। নির্জন কফিশপ।

অনাবিষ্কার তোমার তুমুল হল।
হাহুতাশী হাওয়া। তুমি তো শীতের দেশে
কবে চলে গেছ, পলিত চঞ্চলতা!
কেন যে হঠাৎ রোদ্দুর পড়ে মুখে
অকালে ফেরাল ঝকঝকে আশ্বিন!
কিন্তু এ আলো আমায় দিও না, বঁধু
আমি দর্শক, নিশ্চুপ দর্শক।
হাতে কফি কাপ,
অপরিচয়ের ভ্রম দেখি সারাদিন।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *