মোহন-বেঙ্গল বর বউ

MB Badi

মলয় দে

বছরখানেক আগের কথা। বাঙালির ডার্বি ম্যাচকে কেন্দ্র করে তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল বাকযুদ্ধ চলছে দু’জনের। তাঁরা কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপিকা ইস্টবেঙ্গলিয়ান প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস এবং শান্তিপুরের উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রথিক বিশ্বাস। তবে কথার লড়াইও কখনও কখনও বন্ধনে জড়িয়ে পড়তে পারে। এমনটাই দেখা গেল এই দু’জনের ক্ষেত্রেও। প্রথমে ঝগড়া, ভাব তারপর/ তুমিতে আমিতে বাঁধি সংসার ঘর। হ্যাঁ, মাঠের লড়াই মাঠেই ফেলে রেখে এখন তাঁরা নবদম্পতি।

আরও পড়ুন: জোড়াবাগান নাবালিকা ধর্ষণকাণ্ড: ছাদ থেকে উদ্ধার ভাঙা দাঁত, ছেঁড়া চুল

প্রিয়াঙ্কার বাড়ির কাকা, দাদা এমনকী মামাবাড়ির সকলেই ইস্টবেঙ্গল দলের অন্ধভক্ত। অন্যদিকে, রথিকের বাড়ির পাশেই স্টেডিয়াম! ভাই, বাবা, কাকা সকলেই মাঠে যান নিয়মিত। তাঁর পরিবারের সদস্যরা মোহনবাগানের সমর্থক। এমনই পরিবেশ যেখানে, সেখানে এই সম্পর্ক চুম্বকের বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করার মতোই এই সম্পর্ক। মুঠোফোনে ফুটবল বিতর্ক থেকেই কবে যে প্রিয়াঙ্কা এবং রথীকের মধ্যে গড়ে উঠেছিল গভীর প্রেম, তা তাঁরা নিজেরাও জানেন না।

নিজেদের পছন্দের পর সামাজিক মতে সকলের উপস্থিতিতে গত ১ ফেব্রুয়ারি শুভ পরিণয়ের দিন ঠিক হয়। জীবনের খেলা শুরু হতেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেই সপাটে এক গোল দেন প্রিয়াঙ্কা! সবুজ মেরুন শেরওয়ানি পরিহিত গোলরক্ষকের ভূমিকায় বর রথিক , অবাক দৃষ্টিতে দেখে নতুন বউ অর্থাৎ প্রিয়াঙ্কা লাল ব্লাউজ হলুদ শাড়িতে। এরপর খেতে বসে ইলিশের ভাপা দিয়ে আরও এক গোল! অন্যদিকে, গলদা তো দূরে থাক এঁচোড়ের দু-পিস কুঁচো চিংড়িও দেয়নি মোহনবাগানি বরকে। বরযাত্রী অনেকেই ঢোক গিলে খেয়ে নিলেও রথিক এবং তাঁর ‘কট্টরপন্থী’ কয়েকজন বন্ধু সবকিছু খেলেও কিছুতেই মুখে দেয়নি এমন সুন্দর সরষে ইলিশ ভাপা।

আরও পড়ুন: প্রার্থীর নাম বাদ রেখেই দেওয়াল লিখনের কাজ শুরু তৃণমূল কর্মীরাদের

দু-গোল খেয়ে গতকাল নতুন বউ নিয়ে বাড়ি ফেরার পর থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল ফন্দি আঁটা, যোগ্য জবাব দিতেই হবে! এ-হার যেন সমগ্র মোহনবাগান পরিবারের। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শান্তিপুর বাইপাস সংলগ্ন ভাড়া করা অতিথি নিবাস ‘পথের সাথী’র গেটে বড় করে মোহনবাগানের লোগো, অতিথি আপ্যায়নে জীবন্ত মডেল সেটাও মোহনবাগানের অনুকরণে, প্যান্ডেলের কাপড় সবুজ মেরুন!

টেবিলে বসানো মেন্যু কার্ড এবং নতুন বউ বসানোর মাথার উপর বড় করে মোহনবাগানের লোগো। এভাবেই বিয়ের অর্থাৎ প্রথমার্ধের দুই গোল বউভাতে শোধ দিল বরপক্ষ। তবে প্রিয়াঙ্কাকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে দেখা গেল না। স্ট্র্যাটেজি বদলে বউভাতে লাল হলুদ শাড়ি না পরলেও নীল-গোলাপি পরেই কাটালেন তিনি। আর মেন্যুতে উঠে এলো সাধের গলদা! এভাবেই টানটান ‘বড়ম্যাচ’ ২-২ গোলে ড্র হয়। তবে বর-কনে দু’পক্ষই জানায় খেলা হবে… জোর খেলা হবে।

প্রিয়াঙ্কার বাবা গৌতমবাবু জানান, এবার আইএসএলের মধ্যেই অষ্টমঙ্গলা হবে। জামাইয়ের বাড়ির অন্য কেউ তাঁর বাড়িতে গেলে আলাদা দু’টি টিভি বন্দোবস্ত করবেন তিনি। অন্যদিকে, পাশের দাদা রমেন বিশ্বাস জানান, মাঠের লড়াই ঘরে হবে না কখনও। আবার আমন্ত্রিত খুদে সমর্থকদের মধ্য থেকে দেবজ্যোতি বৈদ্য জানায়, বাঙালি মানেই মোহনবাগান তাই আগে ভাগেই খাওয়ার টেবিলে নো ইস্টবেঙ্গলিয়ান। দীর্ঘদিনের খেলোয়াড় তপন চ্যাটার্জি জানান, ইস্টবেঙ্গলিয়ান কন্যাযাত্রীদের স্বাগত জানানো হয়েছে মোহনবাগান ঘরানায়, বউমাকেও পাল্টাতে বেশি দেরি হবে না!

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *