কন্যার পোস্টে মোহনবাগান পাগল পিতার তর্পণ

শুভ্রাংশু রায় ও অনিন্দ্য বর্মন

চোখে স্বপ্ন ছিল। সাধও ছিল প্রবল। সবাই নিশ্চিত ছিল। সেলিব্রেশনটা জমিয়েই হবে। আই লিগ জয় যেদিন পাপার গোলে নির্ধারণ হল সেদিন থেকেই বেহালার ছেলে একনিষ্ঠ মোহনবাগান পাগল অর্জুন গাঙ্গুলি ট্রফি জয় উদযাপনের অনেক রঙিন স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছিলেন। আজ ট্রফি এল। কিন্তু সদা হাস্যময় অর্জুন নেই।

গত ৮ আগস্ট তাঁর প্রাণ কেড়ে নিল করোনা।
৫ বছরের খরা কাটিয়ে ক্লাবের ময়দান তাঁবুতে আই লিগ। তবু সেই মানুষটাই যে নেই।

আরও পড়ুন: কাছে কিন্তু তবু সুদূর: এক হোটেলে থেকেও আই লিগ সেলিব্রেশন অধরা শিলটন ফৈয়াজের কাছে

ঠিক কতটা মোহনবাগানী ছিলেন অর্জুন? জামা-কাপড় কেনার সময় সবুজ মেরুন কম্বিনেশনে কিনতেন। সাধারণ টি-শার্টেও দর্জি দিয়ে সেলাই করে লাগিয়ে নিতেন মোহনবাগানের লোগো। বাড়ির বদলে অনেকটা সময় কাটত ময়দানে ক্লাব তাঁবুতে।
একবার স্ত্রীয়ের প্রশ্নের উত্তরে অর্জুন বলেছিলেন, “যেদিন মারা যাব সেদিন তোমরা সবাই বুঝবে ক্লাব আমায় কতটা ভালোবাসে। আমার ক্লাবে গুরুত্ব।”

বাংলা হোক বা ভিনরাজ্য, অর্জুন মোহনবাগানের একটা খেলাও বাদ দিতেন না। সঙ্গে থাকত সবুজ মেরুন পতাকা এবং জার্সি। অর্জুনের ফেসবুক পেজটি দেখলেই বোঝা যায় কত মানুষের প্রিয় পাত্র ছিলেন। অজস্র মোহন সমর্থক চোখের জলে তাঁকে বিদায় জানান। বন্ধু, পরিবার, এবং মোহনবাগান।

আরও পড়ুন: আই লিগ জয়ী মধুর স্মৃতি : সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগপ্রবণ তুরসুনাভ

১৮ অক্টোবর আই লিগ ট্রফি এল মোহনবাগান ক্লাবে। অসংখ্য সমর্থকদের বুকে আজ অর্জুন। মাঠ কাঁপিয়েছেন বেইতিয়া, ফ্র্যান, পাপা, ফৈয়াজরা। আর হৃদয়ে রয়ে গেলেন অর্জুন। ২০১৯-২০ আই লিগ চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান। আর গ্যালারির নাম অর্জুন মোহনবাগান গাঙ্গুলি।

এই লেখাটি কিন্তু অর্জুনের জন্য নয়। আজ কলকাতায় আই লিগ আসার দিন, অর্জুন কন্যা সৌমিকি বাবার স্মৃতির উদ্দেশ্যে লিখেছে। আজ সে পিতৃগর্বে গর্বিত। তাঁরও চোখে জল, বুকে ভালোবাসা আর মনে মোহনবাগান। এ লেখাটি সৌমিকির এই প্রয়াসের সাক্ষী। আজ আই লিগ ট্রফির বুকে লেখা মোহনবাগানের নাম। আর মোহনবাগানের মনে লেখা থাকবে অর্জুন গাঙ্গুলি।

Facebook Twitter Email Whatsapp

2 comments

  • Debashis Majumder

    Aaro koto Manusher janya RIP likhte hobe jani na. Khub Bedona dayak.

  • Sri Nabarun Chakraborty

    কোরোনা আবহকালে কত মূল্যবান অপূরণীয় দামি হিরে জহরত হারিয়ে গেছে তার ঠিক নেই। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় চুনি গোস্বামী ও প্রদীপ কুমার বন্দোপাধ্যায়ের কথা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *