বর্ষা সিরিজ (পরবর্তী অংশ)

পূর্বা মুখোপাধ্যায়

এসো গল্প করি এসো এই মধ্যযামে
গল্পের ভেতর যদি অন্ধকার নামে
ভয় ভুলে অন্ধকারে ছড়াই জোনাকি
দূর তারাদের কথা কিছু উহ্য রাখি
বাকিটা প্রকাশ হোক, আখরে আখরে
মেশাই সে লোনাজল যাতে ক্ষয় করে
বাঁধানো ঘাটের সিঁড়ি, নৌকা ভেসে যায়,
ছলাৎ জোয়ার লাগে বুকের শ্যাওলায়
সামান্য দুঃখের ফুল, জলের ওপর
ভেসে যাওয়াটির চিহ্নে ধ্যান রেখে ভাবে
অর্ঘ্যপাত্র সত্য ছিল সত্য ছিল শাখা
বৃন্তের স্বভাবে ছিল পতনের ঘোর…
আমাদের কাহিনিরা প্রেমদোষ পেয়ে
মরে আছে পাঁজরের নিষ্পাপ ঘাটলায়…

জল তাকে পাবে। অন্ধকার তাকে পাবে।

আরও পড়ুন: বর্ষা সিরিজ


আমার আগাছা ক্ষেতে আকস্মিক দু’টো-একটা বীজ
আশাপ্রদ ভাষা ঠোঁটে নিয়ে জেগে উঠে জল চায়
আলো ফোটবার আগে দেখি খুব এলোমেলো বৃষ্টি হয়ে গেছে…
জল খলবল করছে নিচু ক্ষেতে, বৈরাগীতলায়…
আলোজলমাটিভরা এই একবাটি খিদে, ক্রমে ফলবতী
আমার ভাষার অন্ন, অচেনা শরীরে চেনা প্রাণ
পরিচর্যা করবে বলে উথলে ওঠে, দু’একটা লেবুপাতা ডলে…
সুস্বপ্নে অন্নের থালে ঝাল আর লবণ মেশায়…
পাখি হয়ে উড়ে এসে কে তখন তীব্র শিসে বাজালো আমাকে?
বনভোজনের মাঠে ভাঙা উনুনের খিদে একা পড়ে থাকে:
আমি তো পারিনি সখা আমি তা পারি না কোনওদিনই 
যা দিলে তোমার খিদে চিরতরে অন্নজল পায়।

আরও পড়ুন: আলোছায়ার লেখা


মানুষ সহজে ভোলে। নিজে ভোলে, অন্যকে ভোলায়।
ছায়া কাঁপে, ছায়াময়ী কেঁপে যায় জলে। জল,সেও ভুলে যায়।
মনে রাখা দু’দিনের। ভুলে যাওয়া পলকের দোষ।
সামান্য যা হাতে থাকে, তার ওপর অমল বেদনা
শিশিরে শিশিরে ঝরে, রৌদ্রে মরে, হাওয়ায় মিলায়।
তোমাকে বেসেছি ভালো। এ কি সত্য নয়? কিন্তু মুহূর্তের খেলা
নিরন্তর বেসেছি যে, এ ভালো তেমন ভালো নয়।
জলে গান বাজিয়েছ, পায়ে ছমছম বেঁধে এসে…
দুপুরে আমার মনও অকস্মাৎ পড়ে গেছে জলে
চরণ চরণ বলে… জল ভালোবেসে, না চরণ ভালোবেসে?
যে আমায় পাঠ করে, কাব্যতত্ত্ব তার সত্য নয়…
আমি ভালোবাসি তার বহুবিধ গাঢ় সম্ভাবনা।
ভালোবাসাটির মন ভালোবেসে, কী জানি কী না জানি কী অবুঝ মায়ায়…

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *