বর্ষা সিরিজ (শেষাংশ)

পূর্বা মুখোপাধ্যায়


নির্জনতা চেপে ধরে। দুর্বলতা চেপে বসে ঘাড়ে।
মনে হয় কথা বলি। এতটা নির্জন ভালো নয়।
বলো তো কী বলা বাকি? প্রাণে মেঘ করে আছে কেন?
নির্জনতাপ্রিয় আমি, কেন মরে আছি তবে এ নির্জনতায়?
আমার বলার পথে মেঘ করে, আমার চলার পথে আরও
আঙুরের লতা, আমি কী কী রস অস্ফুটে রাখলাম, তা কি খুলে বলতে পারো?
মেঘ ফেটে পড়ে, তার যতটা প্রবল শ্বাস ততখানি অশ্রুপ্রবণতা…
আমি মেঘে মিশে যাব, তুমি স্ফুট করো সেই বাকি রাখা কথা…
উতলা হয়ো না সখি, ধীরে।
ধারাবতী, মেঘের সঙ্গিনী,
ধীরতা অভ্যাস করো অঙ্কুরিত গানের শরীরে।

আরও পড়ুন: বর্ষা সিরিজ


মনমোহন হে ঘন ঘন বরিষণ মন ডুবাল খেয়ায়
জল ঝলমল গায়ে কেন চপলা ত্বরিতে আরও গহন দেখায়… আমি এখনই কি ছুটে যাব ফেলে যাব চিরতাপজীবী যত মোহ সম্ভাবনা?
মনমোহন হে শোনো মনের ভিতরে মন যাব না যাব না বোলে কাঁকন বাজায়…
সুধা সমীরণে দোলে মন ভোলে না তোমায় কবে ভিজে ওঠা মাটির শরীরে
তুমি নতমুখে ঝরেছিলে পুলকে পুলকে ভরা গাঢ় বেদনায়…
সেই লোভাতুর মাটি আমি ছুঁয়ে আছি খেয়া ডুবে যায় হায় অজানায় আরও অজানায়…

আরও পড়ুন: বর্ষা সিরিজ (পরবর্তী অংশ)


পাখিরা ডাকার আগে ডেকেছিলে তুমি কি প্রথম মৃদু হাওয়া… বেড়াতে এসেছ যেন বকুলবাগানে, মাথা নিঝুম সুবাসে ভরে যায়… ভোরবেলা, সোনারং লেগেছে আকাশে। রাতে ঝিরিপথে অঝোর গড়াল, গায়ে কাঁটা দিল, অশরীরী কাঁটা… তার কিছু ঢেউ লেগে গেল সুবাসেরও গায়ে… তবু ভোরবেলা এসে গেছ তুমি, ওগো হাওয়া, ওগো রৌদ্রজলবালকের হাওয়া… তাই মুঠো মুঠো খুশি নিয়ে ধুয়ে যাওয়া সুবাসিনী অন্ধকার বন্যদশা পার হয়ে যায়…

অলংকরণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *