সিনেমা রিভিউ: খুদা হাফিজ…

ডাঃ অরিন্দম পাত্র

ক্যারাটের পাঞ্চ বা বক্সিং পাঞ্চের প্র্যাকটিস একনাগাড়ে করে যেতে হয়। একঘেয়েমি চলে আসে যিনি করছেন আর যিনি দেখছেন দু’জনের মধ্যেই। তারপর হঠাৎ যদি সেই একঘেয়েমি কাটিয়ে উঠে একদম অন্যরকম কিছু দেখতে পাওয়া যায়, তখন যেরকম অদ্ভুত লাগে আবার সেইরকম অবাকও হয়ে যেতে হয়! কিছুটা এরকম অনুভূতি হল বিদ্যুৎ জামওয়াল অভিনীত “খুদা হাফিজ” দেখতে গিয়ে। বিদ্যুতের ফিল্ম মানেই action entertainer-এর পাশাপাশি মার্শাল আর্টের ঝলকানি! কমান্ডো ৩-এর মতই mindless আর লাগামছাড়া action আশা করে দেখতে বসেছিলাম! কিন্তু বদলে পেলাম একজন প্রস্ফুটিত অভিনেতাকে, যাঁকে কোনও দিন পাত্তাই দিইনি অভিনেতা বলে। সেই বিদ্যুৎ, এখানে নিজেকেই নিজে ক্যারাটের প্যাঁচ মেরে ধরাশায়ী করেছেন আর পরাজিত করেছেন নিজের অ্যাকশন অবতারকে। আর বিজয়ী হয়ে উঠেছে তাঁর মধ্যে লুকিয়ে থাকা অভিনেতা সত্তা।

আরও পড়ুন: সুশান্ত সিং রাজপূত আত্মহত্যা করতেই পারে না, দাবি প্রাক্তন দেহরক্ষীর

মিডল ইস্টের কোনও এক দেশে বিশ্বব্যাপী মন্দা আক্রান্ত সময়ে কাজের সন্ধানে এসে নারী পাচার চক্রের হাতে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এক মহিলার খোঁজে আসা এক অসহায় কিন্তু জেদি স্বামীর গল্প বলে এই ছবি। ছবির গল্প এইটুকুই থাক… এর বেশি বলব না। কিছুদিন আগে রিলিজ হওয়া বাগী ৩ অথবা হলিউড ফিল্ম টেকেন-এর সঙ্গে গল্পের মিল ঠিক অতটুকুই। অমিল বিস্তর! এই ছবিতে নেই বাগী ৩-এর মতো অবাস্তবতা বা over the top action scenes… স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য ঢাই কিলোর হাতসম্পন্ন সানি পাজির মতো টিউবওয়েলও উপড়াতে হয়নি সমীর-রূপী বিদ্যুৎকে!বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পথ চলেছে চিত্রনাট্য। ২ ঘণ্টা ১৪ মিনিটের ছবি একবারও শ্লথ গতিসম্পন্ন হয়ে পড়ে না। উপরন্তু এগিয়ে চলে বিদ্যুৎ গতিতে ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে। অভিনয়ে নিজের ছকে বাঁধা গতানুগতিক ইমেজ ভেঙে নিজেকে প্রমাণ করেছেন বিদ্যুৎ জামওয়াল। এখানে বাস্তবিকই স্ত্রীর বিরহে তিনি যেন ‘মণি হারা ফণী’। তার পাশাপাশি তাঁকে ফিরে পাওয়ার জন্য অদম্য জেদ ও কাঠিন্য ফুটিয়ে তুলেছেন নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে। একটিমাত্র দৃশ্য ব্যাতীত তাঁর ক্ষিপ্রতা বা ট্রেড মার্ক অ্যাকশন স্টান্ট ব্যাবহারই করেননি। ছা-পোষা সাধারণ এক মানুষের চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করে তুলেছিলেন বিদ্যুৎ। যোগ্য সঙ্গত করেছেন উসমান রূপী অন্নু কাপুর। ফৈজ আবু মালিকের চরিত্রে আরেক সারপ্রাইজ প্যাকেজ হিসেবে ছিলেন শিব পণ্ডিত। স্ত্রী নার্গিসের ভূমিকায় শিবালিকা ওবেরয়ের সেভাবে কিছু করার ছিল না। ছবির লোকেশন দৃষ্টিনন্দন। ইদানীং বলিউড অ্যাকশন ফিল্মের প্রেক্ষাপট হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি বহুলরূপে ব্যবহৃত হচ্ছে ও তার ১০০% ফায়দা তুলছেন সংশ্লিষ্ট ডি ও পি। এ ছবিও তার ব্যতিক্রম নয়। মিঠুন সুরারোপিত গানগুলি বেশ ভালো।বিশেষ করে “খুদা হাফিজ” টাইটেল ট্র‍্যাক এবং সোনু নিগমের গাওয়া “আখরি কদম তক” মনে থেকে যায়।

আরও পড়ুন: অবশেষে এল শুভশ্রীর কোভিড টেস্ট রেজাল্ট, টুইট করে জানালেন রাজ

সবমিলিয়ে ফারুক কবীর পরিচালিত খুদা হাফিজ প্রথাগত মশালা অ্যাকশন এন্টারটেইনার নয়। একটা নিটোল গল্প বলার পাশাপাশি থ্রিলারের স্বাদও দেয়। হল রিলিজ হলে হয়তো এ ছবির ভাগ্যে ফ্লপ তকমাই জুটত, কিন্তু হলফ করে বলতে পারি, এই অন্য বিদ্যুতের চমক নিঃসন্দেহে প্রশংসা কুড়োত, ঠিক যেমন এখন কুড়োচ্ছে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *