মুর্শিদাবাদ এবং চার বাঙালি যুগপুরুষ

সাইদুর রহমান

মুর্শিদাবাদ ইতিহাসের শহর, ইতিহাসের জেলা। সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতিরও শহর এই জেলা। আর সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতির টানে, কেউ বা কর্মোপলক্ষে সাহিত্য সংস্কৃতি জগতের বহু স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব এই জেলায় এসেছেন। তাঁদের পদস্পর্শে ধন্য হয়েছে এই জেলা।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

বঙ্কিমচন্দ্র মুর্শিদাবাদে এসেছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে। কার্যভার গ্রহণ করেন ১৫ ডিসেম্বর, ১৮৬৯। এরপর কালেক্টর পদে উন্নীত হন ১০ জুন, ১৮৭১। তিনি ছিলেন দক্ষ প্রশাসক। বহরমপুরে থাকাকালীন তিনি অনেক প্রশাসনিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। আমরা সেসব আলোচনায় আসব। কিন্তু তার আগে তুলে ধরব মুর্শিদাবাদে থাকাকালীন তাঁর শিল্প সাহিত্য  জীবনের কিছু কথা। বঙ্কিমচন্দ্রের মুর্শিদাবাদ তথা বহরমপুর-পর্ব তাঁর সাহিত্যজীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বহরমপুরে থাকার সময়েই ১৮৭২ সালের ১২ এপ্রিল (বাংলা ১২৭৯ বঙ্গাব্দের ১ বৈশাখ) তাঁর সম্পাদনায় বের হয় বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত মাসিক পত্রিকা ‘বঙ্গদর্শন’। প্রথম সংখ্যাটি ছাপা হয় কলকাতার ভবানীপুরের এক নম্বর পিপুলপটি লেনের ‘সাপ্তাহিক সংবাদযন্ত্র’ থেকে। কলকাতা থেকে ছাপা হলেও পত্রিকার লেখা সংগ্রহ, সম্পাদনার সমস্ত কাজই বঙ্কিমচন্দ্র করতেন বহরমপুরে বসে। ‘বঙ্গদর্শন’-এর প্রথম সংখ্যা থেকে ১৮৭৪-এর এপ্রিল পর্যন্ত বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বিষবৃক্ষ’, ‘ইন্দিরা’, ‘যুগলাঙ্গুরীয়’ এবং ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাস ‘বঙ্গদর্শনে’ প্রকাশিত হয়। এই সব উপন্যাস যেহেতু বঙ্কিমচন্দ্রের বহরমপুর অবস্থান কালে প্রকাশিত হয়েছিল, তাই এইসব উপন্যাস রচনা বহরমপুরে বসে হয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন। বঙ্কিমচন্দ্রের বহু প্রবন্ধও এই বহরমপুরে বসেই রচিত হয়। তাঁর বিখ্যাত চরিত্র ‘কমলাকান্তে’রও আত্মপ্রকাশ এই বহরমপুরে অবস্থানকালে। অবশ্য বহরমপুরে আসার আগেই বঙ্কিমচন্দ্র ‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাসের প্রথম অংশ রচনা করেন।

আরও পড়ুন: ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুর্শিদাবাদ

১৫ ডিসেম্বর, ১৮৭৩-এর এক শীতের বিকেল। বঙ্কিমচন্দ্র পাল্কিতে চেপে কোর্ট থেকে বহরমপুর স্কোয়ার ফিল্ডের পাশ দিয়ে ঘরে ফিরছিলেন। মাঠে ক্রিকেট খেলছিলেন ইংরেজ সেনারা। হঠাৎ বঙ্কিমচন্দ্রের পাল্কির বন্ধ দরজায় সজোরে ধাক্কা দেন ইংরেজ সেনা কমান্ডার কোলোনেল ডাফিন। পাল্কি থেকে লাফিয়ে নেমে আসেন বঙ্কিমচন্দ্র এবং জোরালো প্রতিবাদ করেন তিনি। কিন্তু, কলোনেল ডাফিন কোনও কথা না শুনে বঙ্কিমচন্দ্রের হাত ধরে ধস্তাধস্তি করেন। মাঠে তখন উপস্থিত ছিলেন প্রিন্সিপাল রবার্ট হ্যান্ড, ডিস্ট্রিক্ট জজ বেনব্রিজ, রেভারেন্ড বার্লো সহ আরও অনেক ইংরেজ সাহেব। উপস্থিত ছিলেন লালগোলার রাজা যোগীন্দ্রনারায়ন রাও, দুর্গাচরণ ভাট্টাচার্য প্রমুখ। বঙ্কিমচন্দ্র মাঠে গিয়ে পরিচিত বেনব্রিজ সাহেবকে সমস্ত ঘটনা জানিয়ে জানতে চান যে, তিনি এই ঘটনা দেখেছেন কিনা। কিন্তু বেনব্রিজ সাহেব অস্বীকার করেন। বঙ্কিমচন্দ্র অন্য সাহেবদেরও জিজ্ঞাসা করলে সকলেই দেখার কথা অস্বীকার করেন। কিন্তু রাজা যোগীন্দ্রনারায়ণ রাও, দুর্গাচরণ ভাট্টাচার্য বঙ্কিমচন্দ্রকে সাপোর্ট করলেন। ১৬ ডিসেম্বর, পরেরদিন কোর্টে বঙ্কিমচন্দ্র কর্নেল ডাফিনের নামে মানহানির মামলা করেন। কোর্টের প্রায় দেড়শো উকিল মোক্তার স্বেচ্ছায় বঙ্কিমচন্দ্রের পাশে দাঁড়ান এবং ওকালতনামায় সই করেন। অন্যদিকে, ডাফিন কোনও উকিল মোক্তার পাননি। বাধ্য হয়ে মধ্যস্থতা করবার জন্য ডাফিন ডিস্ট্রিক্ট জজ বেনব্রিজ সাহেবের শরণাপন্ন হন। বেনব্রিজ বঙ্কিমচন্দ্রের কাছে মামলা তুলে নেওয়ার অনুরোধ করলে একটি শর্তে মামলা তুলতে রাজি হন বঙ্কিমচন্দ্র। শর্তটি হল ডাফিন সাহেবকে কোর্টের প্রকাশ্য সভায় সবার সামনে ক্ষমা চাইতে হবে। বাধ্য হয়ে ১২ জানুয়ারি, ১৮৭৪ কলোনেল ডাফিন প্রকাশ্য আদালতে বঙ্কিমচন্দ্রের হাত ধরে ক্ষমা চান। এরপর বঙ্কিমচন্দ্র মামলা তুলে নেন। কলোনেল ডাফিনের ক্ষমা চাওয়ার এই দৃশ্য দেখবার জন্য সে-দিন আদালতে লোক ভেঙে পড়েছিল। এ নিয়ে ১৫ জানুয়ারি, ১৮৭৪, অমৃতবাজার পত্রিকায় লেখা হয়েছিল, ‘‘It appeared that Colonel and Babu Bankim were perfect strangers to each other and he did not know who he was when affronted him. On being informed afterwards of the position of the Babu. Col Duffin expressed this contrition and desire to apology. The apology was made in due form in open court where about the 1000 spectators native and Europeans were assembled.’’  

আরও পড়ুন: রাজ্যের প্রথম গ্রন্থমেলাও হয় এই মুর্শিদাবাদ জেলায়   

এই ঘটনার পর লালগোলার মহারাজা যোগীন্দ্রনারায়ণ রায় বঙ্কিমচন্দ্রকে লালগোলায় অতিথি করে নিয়ে যান। ১৮৭৪-এর জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে বঙ্কিমচন্দ্র লালগোলার মহারাজার আতিথ্যে রাজার গেস্ট হাউসে থাকেন। গেস্ট হাউসের পাশেই কালী মন্দির। দেবীর তিন রূপ এই মন্দিরে লক্ষিত হয়— জগদ্ধাত্রী, দুর্গা এবং কালী। এখান থেকেই বঙ্কিমচন্দ্রের আধ্যাত্মিকতার শুরু হয় বলে অনেকে মনে করেন। লালগোলার কয়েকজন গবেষক দাবি করেন, লালগোলায় অবস্থান কালে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর বিখ্যাত সংগীত ‘বন্দেমাতরম’ রচনা করেন। তাঁর ‘আনন্দমঠে’রও শেষ লেখা হয়েছিল এখানে বলে মনে করা হয়। কিন্তু তাঁরা তাঁদের দাবির স্বপক্ষে কোনও যুক্তিপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য প্রমাণ দিতে পারেননি। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ, ঢাকা ইউনিভার্সিটি, সুকুমার সেনও লালগোলায় ‘বন্দেমাতরম’ রচনার দাবিকে মান্যতা দেননি। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট সাংবাদিক অনল আবেদিন  বলেন, ‘‘লালগোলা  এম এন অ্যাকাডেমির গবেষক কিষানচাঁদ ভকত দাবি করেন, লালগোলাতে বসেই বঙ্কিমচন্দ্র আনন্দমঠ ও বন্দেমাতরম রচনা করেন। কিন্তু তাঁর স্বপক্ষে তিনি জোরালো কোনো ঐতিহাসিক তথ্য দিতে পারেননি। তাঁর গবেষণায় ও তথ্যে  এলাকার নাম মাহাত্ম্য থাকতে পারে, ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।’’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১৩১৩ (ইং ১৯০৬)-এর উত্তাল বাংলা। চারিদিকে বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে ফুঁসছে তখনকার অবিভক্ত বাংলা দেশ। রংপুরে ঠিক হয় ‘বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনে’র প্রথম সভা। কিন্তু সেই সময় একদিকে স্বদেশি আন্দোলন, অন্যদিকে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন, পূর্ববঙ্গে ইংরেজ সরকার দমন-পীড়ন জোরদার করে। শুরু হয় সভা সমিতির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি। ফলে রংপুরে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের অনুমতি পাওয়া গেল না। অবশেষে ১৩১৪ সালের (ইং ১৯০৭) ১৭ ও ১৮ কার্তিক, রবি ও সোমবার, মুর্শিদাবাদের কাশিমবাজার রাজপ্রাসাদে বসে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের প্রথম সাহিত্য সম্মেলনের আসর। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি হিসেবে ছিলেন কাশিমবাজারের মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী। উল্লেখযোগ্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, মণিমোহন সেন, চন্দ্রশেখর মুখোপাধ্যায়, শ্রীনলিনীরঞ্জন পণ্ডিত, লালোগলার রাজা যোগেন্দ্রনারায়ণ রায় প্রমুখ। পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর থেকে এসেছিলেন রৌশন আলি চৌধুরি, ঢাকা থেকে প্রসন্ন চন্দ্র বিদ্যারত্ন, রংপুর থেকে শ্রীহরগোপাল দাস। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের এই প্রথম সভা শুরু হয় ১৭ কার্তিক।

আরও পড়ুন: জনঅরণ্যে সম্প্রীতির বার্তা

কাশিমবাজার রাজবাড়িতে প্রথম বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের মধ্যমণি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সম্মেলন শুরুর প্রথম থেকেই রবীন্দ্রনাথ সভামঞ্চ আলো করে বসেছিলেন। এই সভার অন্যতম অতিথি নলিনীরঞ্জন পণ্ডিত লিখেছেন, ‘‘বেদির উপর মাহারাজা বাহাদুর, লালগোলার রাজা যোগেন্দ্রনারায়ণ রায় ও অনেক প্রসিদ্ধ সাহিত্যিক পরিবৃত হইয়া সভাপতি রবীন্দ্রনাথবাবু রহিয়াছেন দেখিলাম।’’ (সূত্র: ঝড়। আলোকপাত, জুন, ২০১২) বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের এই প্রথম সভায় সবাইকে ‘মাতৃভাষাকে মা এবং বাংলা সাহিত্যের বিকাশ সাধনে আত্মনিয়োগকে মাতৃপূজা জ্ঞান করার মন্ত্রে’ উদ্বুদ্ধ করতে সফল হয়েছিল। এই সভায় রবীন্দ্রনাথ সভাপতির আসন থেকে সাবাইকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, ‘‘অদ্যকার সভায় আমার নিবেদন এই যে, সাহিত্য পরিষদের মধ্যে আপনারা সকলে মিলিয়া স্বদেশকে সত্য করিয়া তুলুন। বহরমপুরের প্রতি এবং সেই সঙ্গে বাংলাদেশের সমস্ত জেলার কাছে আজ আমাদের নিবেদন এই যে, সাহিত্য পরিষদের চেষ্টাকে আপনারা অবিচ্ছিন্ন করুন। দেশের হৃদয় পলিতাটির একটি প্রান্ত ধরিয়া উঠিতে দিন, তাহা হইলেই এমন একটি ক্ষুদ্র সভার প্রয়াস সমস্ত দেশের আধারে স্বাভাবিক প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়া অমর হইয়া উঠিবে।’’

নজরুল ইসলাম

‘‘আর কতকাল থাকবি বেটি মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল?

স্বর্গ যে তোর জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল।

দেবশিশুদের মারছে চাবুক, বীর যুবাদের দিচ্ছে ফাঁসি

ভূ-ভারত আজ কষাইখানা, আসবি কখন সর্বনাশী!’’

১৯২২-এর ২৬ সেপ্টেম্বর, নজরুল ইসলামের ‘ধূমকেতু’ পত্রিকায় ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতা প্রকাশিত হয়। এরফলে ৮ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে ‘ধূমকেতু’ পত্রিকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় নজরুল ইসলাম ও প্রকাশক আফজালুল হকের বিরুদ্ধে। ১৯২২ এর ২৩ নভেম্বর, কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার হন নজরুল। ১৯২৩-এর ২৭ জানুয়ারি কলকাতার চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সুইনহো রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে নজরুলকে একবছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। কবির ঠাঁই হয় আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে। এরপর হুগলি জেল হয়ে ১৯২৩-এর মে মাসে বহরমপুর ডিস্ট্রিক্ট জেলে আনা হয় কবি নজরুলকে। এখন যেটি বহরমপুর মানসিক হাসপাতাল, তখন সেটি ছিল বহরমপুর জেল। এই জেলের দু’নম্বর সেলে বসে লিখে চললেন একের পর এক কবিতা। যার বেশিরভাগ পরবর্তী কালে ‘দোলনচাঁপা’ কাব্যগ্রন্থে স্থান পায়।

আরও পড়ুন: শ্রমিকের সামান্য ‘পান্তা ভাতে’ একটু লবণের ব্যবস্থার হোক

১৯২৩-এর ১০ ডিসেম্বর, কবি নজরুলকে বহরমপুরের সাবডিভিশন ম্যাজিস্ট্রেট মিঃ এন কে সেনের এজলাসে নিয়ে আনা হয়। বিখ্যাত উকিল শ্রীব্রজভূষণ গুপ্ত ও কংগ্রেস নেতা শ্রীজ্ঞান সরকার নজরুল ইসলামের পক্ষ সমর্থন করেন। ১৯২৩-এর ১৫ ডিসেম্বর, নজরুল মুক্ত হন। সেই সময় কৃষ্ণনাথ কলেজ ছিল সে কালের বিপ্লবী ঐতিহ্যের কেন্দ্র। নজরুল ইসলাম জেল থেকে ছাড়া পেলে কৃষ্ণনাথ কলেজের ছাত্ররা মিছিল করে জেলগেট থেকে নজরুলকে নিয়ে আসেন সায়েন্স মেস-এ৷ সেখানে কবিকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেয় তারা। সেখান থেকে নজরুল বন্ধু নলিনাক্ষ সান্যালের বাড়িতে যান৷ শোনা যায়, এই সান্যাল বাড়ির এক বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘মুসলমান নজরুল’ পঙ্ক্তিভোজনের সমস্যায় ‘জাতের নামে বজ্জাতি’ কবিতাটি রচনা করেছিলেন৷ এর পরে কাদাই-এর বন্ধু উমাপদ ভট্টাচার্যের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি৷ এই সময়েই কবির শশাঙ্ক শেখর সান্যাল, নিতাই ঘটক, ব্রজভূষণ গুপ্তদের সঙ্গে নজরুলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়৷ এছাড়াও জঙ্গিপুরের শরত্‍চন্দ্র পণ্ডিতের সঙ্গেও নজরুলের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ঘটে। নজরুল তাঁর ‘চন্দ্রবিন্দু’ কাব্যটি তাঁকে উৎসর্গ করেছিলেন।   

লালগোলার এম এন অ্যাকাডেমির প্রধানশিক্ষক ছিলেন বরদাচরণ মজুমদার। তিনি যোগী হিসাবে পরিচিত ছিলেন। শোনা যায় সুভাষচন্দ্র বসু, কবিয়াল গুমানী দেওয়ানের মতো ব্যক্তিরাও বরদাচরণের কাছে আসতেন। এই বরদাচরণের কাছেই যোগাভ্যাস করতেন নজরুল। পুত্র বুলবুলের অকালমৃত্যুর পর তার ব্যথা ভুলতে কবি এই বরদাচরণকে গুরু মেনেই লালগোলায় রাজা যোগীন্দ্রনারায়ণ রায় প্রতিষ্ঠিত কালীমন্দিরে যেতেন। এর পরেই কবি ধীরে-ধীরে তন্ত্রে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন।

নেতাজি সুভাচন্দ্র বসু

১৯২৩-এ ৩নং রেগুলেশান আইনে বন্দি নেতাজি সুভাষচন্দ্র  বসুকে প্রেসিডেন্সি জেল থেকে স্থানান্তরিত করা হয় বহরমপুর ডিস্ট্রিক্ট জেলে। আগেই বলেছি, এখন যেটি বহরমপুর মানসিক হাসপাতাল, তখন সেটি ছিল বহরমপুর ডিস্ট্রিক্ট জেল। এই জেলের ৭নং ঘরে বন্দি ছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু। এই সালেই সুভাষচন্দ্র জেল থেকে ছাড়া পেলে বহরমপুরের বিপ্লবী তরুণরা সুভাষকে জেল থেকে বরণ করে নিয়ে গোটা শহর পরিক্রমা করে। রাস্তার পাশে অগণিত মানুষ তাঁকে অভিনন্দন জানান। দুই পাশের বাড়িগুলোর উপর থেকে করা হয় পুষ্পবৃষ্টি।

এছাড়াও ১৯৩১ সালে জাতীয় কংগ্রেসের বঙ্গীয় প্রাদেশিক সম্মেলনে যোগ দিতে বহরমপুরে এসেছিলেন সুভাষচন্দ্র। সে সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছিলেন ড. রাজেন্দপ্রসাদ, কে. এফ নরিম্যান, ড. প্রফুল্ল ঘোষ প্রমুখ। এই সম্মেলনে কংগ্রেস নেতৃত্ব প্রথমে সুভাষকে বক্তব্য দিতে দেননি। পরে জনতার চাপে সুভাষকে দশ মিনিট বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়। এছাড়াও নির্বাচন, বিভিন্ন সমাবেশে যোগদান করতে সুভাষচন্দ্র বহরমপুর, জিয়াগঞ্জ, জঙ্গিপুরে এসেছেন। অনেক কংগ্রেস নেতৃত্বের বাড়িতে আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন তিনি। 

ক্রমশ…       

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *