নদিয়ার পুতুলনাচ

দেবদুলাল কুণ্ডু

জনপ্রিয় লোকশিল্পগুলির মধ্যে একটি হল পুতুলনাচ। ১৩০০ শতক থেকে ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে পুতুলনাচ একটি স্থায়ী শিল্পমাধ্যম হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রাচীন গ্রিসে ও রোমে পুতুলনাচ যথেষ্ট জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। প্রাচ্যে, বিশেষ করে চিন, জাভা, বার্মা, ভিয়েতনাম, জাপান ইত্যাদি দেশে পুতুলনাচ অন্যতম শ্রেষ্ঠ লোকশিল্পের তকমা পেয়েছিল।

ভারতবর্ষের মতো বৈচিত্র্যময় দেশেও লোকশিল্পের এই মাধ্যমটি কম জনপ্রিয় নয়। অন্ধ্রপ্রদেশ, অসম, কেরল, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, রাজস্থান, তামিলনাড়ু প্রভৃতি রাজ্যের মতোই পশ্চিমবঙ্গে পুতুলনাচ অস্বাভাবিক জনপ্রিয়তা লাভ করে। বিশেষ করে গতশতকের নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত গাঁ-গঞ্জে পুতুলনাচের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। ‘নদিয়া জেলার পুতুলনাচ’ বিষয়ক আলোচনাতে যাবার আগে পুতুলনাচের প্রকারভেদের দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

আরও পড়ুন: স্বাধীনতার সূর্যদের লড়াইধন্য সেইসব পবিত্র ভূমি

পুতুলনাচের দৃশ্যপট আঁকছেন শিল্পী মোহন বৈরাগী

ত্রিমাত্রিক (থ্রি ডাইমেনশনাল) পুতলের নাচকে মোটামুটিভাবে ছয় ভাগে ভাগ করা যায়।

১। সুতোয়টানা পুতুল এই জাতীয় পুতুল তৈরি হয় মসলিন বা সুতি কাপড়ের টুকরো, পোড়ামাটি, কাঠের টুকরো ইত্যাদি দিয়ে। নাচিয়েরা পুতুলের ন’টি জায়গায় সুতো বেঁধে পুতুল নাচান। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও গুজরাত, তামিলনাড়ু, রাজস্থান প্রভৃতি জায়গায় এই পুতুলনাচের প্রচলন আছে।

২। দণ্ড পুতুল বা ডাঙ্গের পুতুল এই জাতীয় পুতুল নাচানো হয় মঞ্চের নিচে দাঁড়িয়ে। এখানে সুতোর জায়গায় লাঠি বা দণ্ড জুড়ে দেওয়া হয়। পুতুলগুলোর দৈর্ঘ্য হয় একজন প্রমাণ-মাপের মানুষের মতো। পুতুলগুলোকে সহজেই বাঁকানো যায়। এই জাতীয় পুতুলের অপর নাম ডাঙ্গের পুতুল। মূলত, দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে এই জাতীয় পুতুলনাচের প্রচলন আছে।  

৩। দস্তানা পুতুল এই জাতীয় পুতুল ফাঁপা দস্তানার আকৃতি বিশিষ্ট হয়ে থাকে। হাত বা হাতের আঙুল পুতুলগুলির ভেতরে ঢুকিয়ে নিয়ে নাচ দেখানো হয়। নাচানোর সময় পুতুলের মাথার ভেতরে তর্জনী, আর দুই হাতের ভেতরে মধ্যমা আর বৃদ্ধাঙ্গুল ঢোকানো হয়ে থাকে। আমাদের দেশে এই ধরনের পুতুলের প্রচলন কম। তবে টিভি চ্যানেলের বিভিন্ন টকশো-তে এই ধরনের একপ্রকারের পুতুল দেখানো হয়, যেখানে পুতুলের সঙ্গে পুতুলের মালিকের কথোপকথনের দ্বারা দর্শকের মনোরঞ্জন করা হয়ে থাকে। এই পুতুলগুলি একটু বড়, হালকা ও অনেকটা সফট্‌-টয়েজ ধরনের হয়ে থাকে।

৪। বেণিপুতুল এটাও অনেকটা দস্তানা-পুতুলের মতো হাত দিয়ে নাচানো হয়। তবে আকৃতিতে বড় হয়ে থাকে। এই পুতুলের মাথাটা মাটির তৈরি; আর হাতদু’টো কাঠের হয়ে থাকে। মাথার ভেতরে তর্জনী আর হাতদু’টির ভেতরে মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুল ঢোকানো হয়। পুতুলের মাথার নিচে থেকে বাকি অংশ থাকে কাপড়ে ঢাকা। একটা টেবিলের উপর পুতুল নাচানো হয়ে থাকে। একজন নাচিয়ে দুই হাতে দু’টো পুতুল নিয়ে একসঙ্গে নাচাতে পারে; সেই ব্যক্তি নিজেই দু’টি পুতুলের সংলাপ বা গান আউড়ে যায়। পাশে থাকে একজন ঢোলক-বাদক। প্রধানত, পূর্ব মেদিনীপুরে এই জাতীয় পুতুলনাচের প্রচলন আছে।

৫। তারের পুতুল এই জাতীয় পুতুল সবচেয়ে জনপ্রিয়। এগুলো মূলত শোলার তৈরি। এই পুতুলনাচের জন্য স্টেজ, লাইট, মাইক, প্যান্ডেল ইত্যাদি দরকার হয়। এটা মূলত দলগত পারফরমেন্স। এই জাতীয় পুতুলনাচ নদিয়া জেলায় লক্ষ করা যায়। (এই জাতীয় পুতুলনাচ নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।)

৬। চদর বদর বা চদর বাদনি (সাঁওতালি পুতুলনাচ) এটা একটা অভিনব পুতুলনাচ। একটা লম্বা টেবিলাকৃতির বাক্সের উপর ছোট ছোট একাধিক কাঠের পুতুল থাকে। পুতুলগুলো নাচের ঢঙে দাঁড়িয়ে; আবার কারো হাতে ধামসা-মাদল। পুতুলগুলো একসঙ্গে একটা কাঠের লিভার বা সুতোয় বাঁধা থাকে। পুতুলের পরনে রংচঙে পোশাক। টেবিলের পাশে বা নীচে একজন দাঁড়িয়ে একটা কাঠের লিভার ঘুরিয়ে বা নাড়িয়ে নাড়িয়ে পুতুলগুলো নাচায়। ওই নাচিয়ে লোকটিই আবার নিজের মুখেই গান গায়। পাশে দাঁড়িয়ে দু’জন বা তিনজন ধামসা-মাদল বাজায়। সকলের পায়ে ঘুঙুর বাঁধা থাকে। মূলত বীরভূম জেলায় সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ভেতরে এই ধরনের পুতুলনাচ দেখা যায়।

আরও পড়ুন: মনে পড়ে সবার সঙ্গে গলা মিলিয়ে চিৎকার করে বলা ‘বন্দে মাতরম’

পুতুলনাচ দেখাচ্ছেন বগুলার পুতুলনাচের একজন নাচিয়ে স্বপন বিশ্বাস। রানাঘাটের বরেন্দ্রনগর ‘ঐতিহ্য’ সংগ্রহশালা থেকে ছবিটি তুলেছেন সুজিত কুমার বিশ্বাস

এগুলো ছাড়াও আরও দুই ধরনের পুতুলনাচের প্রচলন আছে; এগুলিকে বলা হয় দ্বিমাত্রিক পুতুল।

কাগজ বা পিচবোর্ডের তৈরি পুতুল কাগজ বা পিচবোর্ড কেটে পুতুল তৈরি করে কাঠের ব্লকের উপর আটকানো হয়। ফলে পুতুলটির দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষেত্রে সুবিধা হয় এবং সহজে নাচানো যায়।

ছায়া পুতুল একটি সাদা পর্দায় পুতুলের ছায়া ফেলে এই ধরনের পুতুলনাচ দেখানো হয়; এর নাম ছায়া পুতুলনাচ বা শ্যাডো পাপেট। পুতুলটি একটা কাঠের দণ্ডের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। এই পুতুলের হাতদু’টো যুক্ত থাকে কাঁধের সঙ্গে। সুতোর সাহায্যে পুতুলের চোয়াল নড়ানো হয়ে থাকে। পৃথিবীর প্রাচীন ছায়াপুতুলের মধ্যে অন্যতম হল জাভানিজ পুতুল। পরবর্তীতে এই জাতীয় পুতুলনাচ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

নদিয়ার পুতুলনাচ

সারাদেশে একসময় অসম্ভব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল তারের পুতুলনাচ। এই পুতুলনাচের উৎস মূলত নদিয়া জেলা। নদিয়ার বগুলা, মুড়াগাছা কলোনি, বড়বড়িয়া, কৃষ্ণনগর প্রভৃতি অঞ্চলে একসময় পঞ্চাশটিরও বেশি পুতুলপার্টি ছিল। এই দলগুলোর নেশা ও পেশা ছিল পুতুলনাচ দেখানো। দেশবিভাগের পরে ওপার বাংলা থেকে আগত সাধারণ মানুষ কলোনি গঠন করে থাকতে লাগল; ফলে মুড়াগাছা বা বড়বেড়িয়া অঞ্চল হয়ে উঠল পুতুলনাচের আঁতুড়ঘর।

আরও পড়ুন: সৎ মানুষের লোভ

শিল্পী মোহন বৈরাগী। ছবি লেখক

আগে খালে-বিলে প্রচুর ফুলশোলা জন্মাত। এই শোলাগুলো তুলে এনে প্রায় একহাত পরিমাণে কাটা হত। তারপর আঠা দিয়ে সেগুলোকে আটিবাঁধার মতো করে জুড়ে রোদে শুকোতে দেওয়া হত। শুকিয়ে গেলে ব্লেডের মতো ধারালো চাকু বা ছোরার ন্যায় একটা অস্ত্র দিয়ে শোলার গায়ের আস্তরণকে চেঁছে ফেলা হত। তারপরে শোলার গায়ে মাটির প্রলেপন দিয়ে নাক-চোখ-মুখ তৈরি করে সুতির কাপর সেটে দেওয়া হত। তারপর রোদে শুকিয়ে রং করা হত। এভাবেই আলাদা আলাদা করে তৈরি করা হত মুখমণ্ডলসহ পুতুলের উপরের অংশ এবং দু’টো হাত। সেগুলো জুড়ে দিয়ে মাথায় চুল লাগিয়ে কাপড় পরানো হত। এভাবেই তৈরি হত আস্ত একটা পুতুল। এই পুতুলের উচ্চতা হয়ে থাকে তিনফুট। পুতুলের কাঁধ বা ঘাড় স্থির থাকে। শুধু হাতদু’টো আর মাথাসহ সারাদেহ নাড়ানো হয়। তাই মোটামুটি চারটে কডসুতো বাঁধা থাকে চারমুখওয়ালা ক্রসচিহ্নের মতো করে জোড়া সরু বাঁশের টুকরোর সঙ্গে; এই ক্রসকে বলা হয় কাঠি বা সাট। পুতুলের বাঁ-হাতের সুতো লাগানো থাকে ক্রশের মাঝখানে; ডানহাতের সুতো বাঁধা থাকে সামনের কাঠির সঙ্গে; আর মাথার দু’পাশের সুতো যুক্ত থাকে ক্রশের দু’পাশের সরু মুখদু’টির সঙ্গে।   

আরও পড়ুন: স্বাধীনতা আন্দোলনে মুর্শিদাবাদ

নাচিয়ে শিল্পীর বাড়িতে পুতুলের সংসার। ছবি অনিরুদ্ধ বসু

একটা স্টেজের উপর দাঁড়িয়ে কলাকুশলীরা পুতুলনাচ দেখিয়ে থাকে। স্টেজটা চারপাশ থেকে ঘেরা থাকে। নাচিয়ে আর পুতুলগুলির মাঝখানে থাকবে পর্দা; সেই পর্দার উপরে আবার সিনারি লাগানো থাকে। সিনারি থাকে একাধিক; সিনের প্রয়োজনে সেগুলো পালটানো হয়। দর্শকেরা নাচিয়েদের কোনওভাবেই দেখতে পায় না। স্টেজের ভেতরে মঞ্চের ডানদিকে বসে মাস্টার। আর বাঁ-দিকে বসে লাইটম্যান। পুতুল নাচায় নাচিয়েরা; কিন্তু সংলাপ আর সংগীত পরিবেশন করে মাস্টার। সে একাধিক গলায় বিভিন্ন চরিত্রের সংলাপ বলে। পুতুলের হয়ে মাস্টারকেই কাঁদতে ও হাসতে হয়।  মাস্টারের পাশে আরও দু’একজন থাকে; যারা বিভিন্ন রকম ইন্সট্রুমেন্ট বাজায়; কখনও কখনও গানের ধুয়ো ধরে। তারের পুতুলের ক্ষেত্রে একটা সমস্যা হল, মাস্টারের সংলাপ লক্ষ্য করে নাচিয়েকে পুতুল নাচাতে হয়; আর এক্ষেত্রে পুতুলের অঙ্গভঙ্গি বা অঙ্গসঞ্চালন সংলাপ বা গানের অনুরূপ না হলে ভালো লাগবে না। পুতুলনাচের মঞ্চের সামনে চেয়ার পেতে রাখা হয় দর্শকদের জন্য।

আরও পড়ুন: গীতিকার টানে…

রানাঘাটের বরেন্দ্রনগর ‘ঐতিহ্য’ সংগ্রহশালা থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হল স্বপন বিশ্বাস মহাশয়কে। ছবি সুজিত কুমার বিশ্বাস

বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনি অনুসরণ করে পুতুলনাচের পালা বাঁধা হয়। যেমন রাজা হরিশ্চন্দ্র, নিমাই সন্ন্যাস ইত্যাদি। আবার কখনও রোমান্টিক বা প্রেমের কাহিনি বেছেও নেওয়া হয় যেমন রূপবান কন্যা, বেদের মেয়ে জোছনা ইত্যাদি পালা। একাধিক  নায়ক বা নায়িকা-পুতুল তৈরি করতে হয়; বিভিন্ন সিচুয়েশন অনুযায়ী আলাদা আলাদা পোশাক পরানো হয় তাদের। সৎ ও অসৎ পুতুল আলাদাভাবে চিহ্নিত করার জন্য একটা সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য রাখা হয় পুতুল তৈরির ক্ষেত্রে। যে পুতুল সৎ বা ভালো ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তাদের চোখ হবে টানাটানা। অন্যদিকে অসৎ বা খারাপ চরিত্রের ভূমিকায় যারা অবতীর্ণ হয়, তাদের চোখদু’টি একটু ছোট ছোট বা গর্তের ভেতরে ঢোকানো থাকে। আর এই চোখ দেখেই দর্শকেরা ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে পারে।

দেশবিভাগের পরে ওপার বাংলা থেকে এপারে চলে আসার সময় কেউ কেউ ধামার ভেতরে খড়ের তৈরি পুতুল নিয়ে আসে। মুড়াগাছা কলোনিতে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরা কয়েকজন মিলে দল গঠন করেন। প্রথম দিকের এই রকম কয়েকজন বিশিষ্ট পুতুল-নাচিয়ে হলেন জিতেন হালদার, অনিল মিস্ত্রি, নীলকান্ত ঠাকুর, দুলাল বৈরাগী প্রমুখ। যাত্রার দলের মতো পুতুল নাট্যসংস্থাগুলিরও আলাদা আলাদা নাম ছিল; যেমন সন্তোষীমা পুতুলনাট্য সংস্থা, রাধাশ্রী পুতুলনাট্যসমাজ, ভারতমাতা পুতুলনাট্য সংস্থা ইত্যাদি। বর্ষাকাল বাদ দিয়ে বাকি ৮/৯ মাস তারা সারা ভারতে ঘুরে ঘুরে পুতুলনাচ দেখাত। পুতুলনাচের এবং নাচিয়েদের উন্নতিকল্পে আশির দশকে ‘পশ্চিমবঙ্গ পুতুলনাট্য সঙ্ঘ’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যার প্রশিক্ষক-সংযোজক-সমন্বয়ী ছিলেন বগুলা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক শ্রীসুশান্ত হালদার মহাশয়।

আরও পড়ুন: সিসিফাস ও স্বচ্ছতার পাঠান্তর

পুতুল নামানোর কায়দা দেখাচ্ছেন নাচিয়ে শিল্পী মোহন বৈরাগী ও তাঁর এক সহশিল্পী। ছবি লেখক

কিন্তু এই শতকের প্রথম দশক থেকেই পুতুলনাচের দুর্দিন আরম্ভ হয়েছে। আগে মানুষ ভিড় করে মেলা-ঘাটে বা বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত পুতুলনাচ দেখত। এখন দর্শক কমতে কমতে এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে, বর্তমানে সচরাচর পুতুলনাচ হয় না। টিভির পর্দায় সিরিয়াল দেখার নেশা কেড়ে নিয়েছে পুতুলনাচ আর যাত্রার প্যান্ডেলের ভিড়। তবুও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যসংস্কৃতি দপ্তরের আনুকূল্যে পুতুলনাচের শিল্পীরা একটা ভাতা পেয়ে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি করোনাভাইরাসের কারণে এই সব শিল্পীর রুটি-রোজগার বন্ধ। বড়বেড়িয়াতে পুতুলনাচের টিম নেই বললেই চলে। বগুলার মুড়াগাছা অঞ্চলে বর্তমানে সাকুল্যে দু’টি কি তিনটি পুতুলনাচের দল টিকে আছে। তবুও প্রয়াত দুলাল বৈরাগীর ছেলে মোহন বৈরাগী বাবার রেখে যাওয়া অপসৃয়মান সংস্কৃতির জোয়াল কাঁধে নিয়ে চলেছেন আজও; তিনিই দুঃখ করে বললেন, “নতুন করে এই পেশায় আর কেউ আসতে চায় না। তাই বাড়ির সবাইকে দলে শামিল করেছি। লকডাউনের কারণে অন্যকাজ করে পয়সা রোজগার করলেও পুতুলের শো করতে না পেরে বড্ড হাঁফিয়ে উঠেছি।”

লেখক ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *