মঙ্গল গ্রহের মাটিতে অক্সিজেন তৈরি করে ইতিহাস রচনা করলো নাসা

Mysepik Webdesk: পৃথিবীর বিকল্প বাসস্থান নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনেক দিনের। সৌরমণ্ডলে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে অবস্থান করা মঙ্গল গ্রহ নিয়ে তাই বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত গবেষণা করে চলেছেন। লাল গ্রহের সেই অজানা তথ্য জানার জন্য একাধিকবার পৃথিবী থেকে মঙ্গলগ্রহের মাটিতে পাঠানো হয়েছে রোভার। নাসার রোভার পারসিভেরান্স-এর সঙ্গে ফেব্রুয়ারিতেই মঙ্গলে পৌঁছায় একটি হেলিকপ্টার। মঙ্গলের উদ্দেশ্যে প্রায় ৬ মাস যাত্রা করার পর নির্বিঘ্নে মঙ্গলের মাটি ছোঁয় পার্সিভিয়ারেন্স ও ইনজেনুইটি। চলতি মাসের শুরুতেই পার্সিভিয়ারেন্স-এর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বেরিয়ে আসে ওই হেলিকপ্টারটি। নাসা জানিয়েছে, ওই হেলিকপ্টারটি প্রায় ৩০ দিন পর্যন্ত কাজ করবে মঙ্গল গ্রহে। পৃথিবীতে পাঠাবে লাল গ্রহ সম্পর্কে নানা অজানা তথ্য।

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে নিরাপদে প্রত্যাবর্তন ৩ মহাকাশচারীর

এবার মঙ্গলগ্রহের বুকে অক্সিজেন তৈরি করলো পারসিভেরান্স। জানা জানিয়েছে, গত ২০ এপ্রিল রোভারটি সফলভাবে মঙ্গলগ্রহের বাতাসে মিশে থাকা কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে অক্সিজেন তৈরি করে পারসিভেরান্স। এই ঘটনাকে নাসার প্রথম ও বড় পদক্ষেপ বলে দাবি করেছেন নাসার স্পেস টেকনোলজি মিশনের কর্তা জিম রয়টার। আগামী দিনে মঙ্গলগ্রহে নভোশ্চর পাঠানোর কথা আগেই ঘোষণা করছে নাসা। আর নভোশ্চরদের জন্য দীর্ঘ সময় মঙ্গলে থাকার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত অক্সিজেনের। সেক্ষেত্রে অক্সিজেন উৎপাদনের ঘটনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা।

আরও পড়ুন: ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন থেকে ধরা পড়ল পৃথিবীর স্বর্গীয় রূপ

তাছাড়া রকেটের জ্বালানির জন্যও প্রয়োজন অক্সিজেনের। নাসার দাবি, মঙ্গলগ্রহ থেকে পৃথিবীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করার সময় ওই অক্সিজেন কাজে আসবে। আলাদা করে পৃথিবী থেকে অতিরিক্ত অক্সিজেন বয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। নাসা জানিয়েছে, পারসিভেরান্স রোভারটির সামনের ডানদিকে দিকে থাকা সোনালি রঙের বাক্সের মতো দেখতে মক্সি (MOXIE) নামক একটি যন্ত্র অক্সিজেন তৈরির এই কাজটি সুসম্পন্ন করছে। জানা গিয়েছে, প্রথম রান-এ MOXIE মোট ৫ গ্রাম অক্সিজেন উৎপাদন করছে, যা একজন নভোশ্চর প্রায় ১০ মিনিট পর্যন্ত শ্বাস নিতে পারবেন। যন্ত্রটি আপাতত ঘণ্টায় ১০ গ্রাম পর্যন্ত অক্সিজেন উৎপন্ন করতে সক্ষম। নিকেলের কোটিং দেওয়া প্রায় ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতাযুক্ত যন্ত্রটি নির্মিত হয়েছে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির গবেষণাগারে।

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *