Latest News

Popular Posts

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুর পথ পরিবর্তন করবে নাসা

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুর পথ পরিবর্তন করবে নাসা

Mysepik Webdesk: প্রায়ই পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুর কথা আমরা শুনেছি। যদিও সেগুলি পৃথিবীর সঙ্গে ধাক্কা না খেয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। আজ থেকে কয়েক কোটি বছর আগে একটি গ্রহাণুর ধাক্কার ফলে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল ডাইনোসর। কিন্তু আগামী দিনে যে এমন ঘটনা কোনও দিন ঘটবে না, সেকথাও জোর দিয়ে বলা যায় না। সেক্ষেত্রে কী কোনও ভাবেই পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুর গতিপথকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়? এই বিষয়ের ওপর অনেক দিন ধরেই গবেষণা চালিয়ে গিয়েছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা।

আরও পড়ুন: মহাকাশ থেকে আসা অণুজীবদের দ্বারা করোনার চেয়েও ভয়াবহ সংক্রমণ হতে পারে, আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের

পৃথিবীতে গ্রহাণু আঘাত হানলে কি ঘটবে?

মহাশূন্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এমন কোনও ছোট সাইজের গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত হানলে কোনও শহর কিংবা তার চেয়েও বড়ো এলাকা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু, ওই গ্রহাণুর আকার যদি কয়েকশ’ মিটার চওড়া হয়, সেক্ষেত্রে যে ধ্বংসযজ্ঞ ঘটতে পারে, সেটা এতোই ব্যাপক হারে হবে যে, গোটা একটা উপমহাদেশে তার প্রভাব পড়বে। ১৬০ মিটার চওড়া কোন গ্রহাণু যদি বিস্ফোরিত হয়, সেটা হবে একটি পারমাণবিক বোমার চেয়েও বহুগুণ তীব্র। এতে জনবসতি আছে, এমন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হবে এবং হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হবে। ৩০০ মিটার বা তার চেয়ে বেশি বড় কোন গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত করলে তা একটি পুরো মহাদেশের মত বড় এলাকা জুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ ঘটবে। যদি এক কিলোমিটারের চেয়ে বড় আকারের গ্রহাণুর সাথে পৃথিবীর সংঘর্ষ হয়, তাতে ক্ষয়ক্ষতি হবে সারা পৃথিবী জুড়েই।

আরও পড়ুন: হারিয়ে যাওয়া গবেষণাগারের খোঁজে

কী পরিকল্পনা করেছে নাসা?

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে, এমন কোনও গ্রহাণুকে তার গতিপথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য নতুন এক প্রযুক্তির পরীক্ষা চালাচ্ছে নাসা। গত সপ্তাহে বুধবার পরীক্ষামূলকভাবে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ‘ডার্ট’ নামে একটি মহাকাশযান পাঠিয়েছে। পরীক্ষা চালানো হচ্ছে ‘ডাইমর্ফোস’ নামে একটি গ্রহাণুর ওপর। নাসার মহাকাশযানটি ওই গ্রহাণুর ওপর আঘাত হানবে। এরপর পরীক্ষা করে দেখা যাবে এর কক্ষপথ এবং গতিবেগে কোন পরিবর্তন হলো কিনা। যদিও আঘাত হানার পর রকেটটি ধ্বংস হয়ে যাবে। নাসার দাবি, কোনও গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে এটাই মানব জাতির প্রথম উদ্যোগ। যদিও ‘ডাইমর্ফোস’ গ্রহাণুটিকে নিয়ে পৃথিবীবাসীর চিন্তার কোনও কারণ নেই, কারণ সেটি আদৌ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে না।

আরও পড়ুন: কুকুরেও ব্যবহার করতে পারবে মোবাইল ফোন, যুগান্তকারী আবিষ্কার স্কটল্যান্ডের বিজ্ঞানীর

কীভাবে কাজ করবে মিশন ‘ডার্ট, খরচই বা কত?

‘ডার্ট’ মহাকাশযান বহনকারী রকেট ফ্যালকন-নাইন নামে একটি রকেট গত সপ্তাহেই ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এই মিশনে ব্যয় হচ্ছে ৩২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এদের মধ্যে বড়টির নাম ডিডাইমোস, যা ৭৮০ মিটার চওড়া। ছোটটির নাম ডাইমর্ফোস, এটি ১৬০ মিটার চওড়া। নাসার বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ‘ডার্ট’ নামে মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণের পর সেটি মহাশূন্যে যাবে এবং সূর্যের চারদিকে তার নিজ কক্ষপথে ঘুরতে শুরু করবে। এরপর ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ ওই জোড়া গ্রহাণু যখন পৃথিবীর ৬৭ লক্ষ মাইলের মধ্যে আসবে তখনই ঘণ্টায় প্রায় ১৫ হাজার মাইল বেগে তাদের একটির সাথে সংঘর্ষ ঘটবে ডার্টের। ডার্টের গায়ে বসানো আছে একটি বিশেষ ক্যামেরা যার নাম ড্রাকো। এই ক্যামেরায় দুটি গ্রহাণুরই ছবি উঠবে। ফলে, সঠিক সময়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হবে ‘ডার্ট’।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *