করোনাকালে ‘জনবিরোধী’ কাজের অভিযোগে বিধায়ককে বহিষ্কার নবীনের

Mysepik Webdesk: রবিবার বিজু জনতা দল তাদের বিধায়ক প্রদীপ পানিগ্রাহীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে জনবিরোধী কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত শেষে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী তথা দলীয় সভাপতি নবীন পট্টনায়েক। বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি দুর্নীতিবাজ কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এবং তাদের সঙ্গে পানিগ্রাহীকে বহুবার দেখা গেছে। উল্লেখ্য যে, এই ইস্যুতে বিরোধী দলগুলিও বিজেডিকে তীব্র আক্রমণ করেছিল।

আরও পড়ুন: কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় কৃষকরা, বাড়ছে ক্ষোভ

বিজেডির পক্ষে পানিগ্রাহীকে বহিষ্কারের আদেশ জারি করেছিলেন জেনারেল সেক্রেটারি মানস রঞ্জন মঙ্গলরাজ। সেখানে বলা হয়েছিল যে, তিনি জনবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন, তবে তিনি কোন কাজে জড়িত ছিলেন তা বলা হয়নি। প্রদীপ পানিগ্রাহী গোপালপুর থেকে তিনবার বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন। তিনি দলের প্রথম নেতা, যিনি তাঁর জনবিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কার হয়েছেন। বহিষ্কারের পরে, বিধায়ক কর্তৃক এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

আরও পড়ুন: দু-দিনের মধ্যে কৃষকদের দাবি মেনে না নিলে, দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক ট্যাক্সি ইউনিয়নের

প্রদীপ পানিগ্রাহীর বিরুদ্ধে এই মহামারির সময় বিলাসবহুল জীবনযাপন করবারও অভিযোগ উঠেছে। বিজু জনতা দলের পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা যে কতটা ন্যায়সংগত, মঙ্গলবার আবারও সেটা প্রমাণ হয়েছে। দলের তরফে বলা হয়েছে যে, মানুষ যখন তাদের নির্বাচনী এলাকার গঞ্জাম অঞ্চলে করোনা মহামারির সঙ্গে অসহায় অবস্থায় লড়ছিল, তখন প্রদীপ পানিগ্রাহী চার্টার্ড বিমানে করে মুম্বই ও পুণের মতো শহরে গিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন করতেন।

আরও পড়ুন: সোনা পাওয়া যাচ্ছে নদীর তীরে! ভিড় স্থানীয়দের

ছবি সৌজন্য এএনআই

এছাড়া প্রদীপ পানিগ্রাহী তাঁর নির্বাচনী এলাকার লোকদের প্রতারণা করছিলেন বলে অভিযোগ করেছে দলটি। ইতিমধ্যেই ওড়িশা পুলিশ চাকরিহীন বেকার যুবকদের টাটা মোটরসে চাকরির পাইয়ে দেওয়ার দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে বহিষ্কার হওয়া বিধায়কের সহযোগী আকাশ কুমার পাঠককে গ্রেপ্তার করেছে। আকাশ কুমার পাঠক আইএফএস কর্মকর্তা অভয় কান্ত পাঠকের ছেলে। দু’জনই এখন রয়েছেন শ্রীঘরে। কারণ দু’জনেই তাঁদের আয়ের বিষয়টি প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। মানুষ যখন গঞ্জমের করোনার সঙ্গে লড়াই করছিলেন, তখন প্রদীপ পানিগ্রাহী চার্টার্ড বিমানে তাঁর দুই সহকর্মী অভয় এবং আকাশের সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন। এছাড়া দলের পক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে যে, প্রদীপ পানিগ্রাহী তাঁর দুই সহকর্মী নিয়ে মুম্বইয়ের হোটেল তাজে ৮৪ লক্ষ টাকা উড়িয়ে দিয়েছেন। করোনাকালে যা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। তবে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক কড়া হাতে তাঁরই দলের বিধায়ককে এই করোনাকালে জনহিতে না লেগে নিজহিতে বিলাসবহুল জীবনযাপন করবার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করে সত্যিই এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্তমূলক নজির রাখলেন।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *