খোলা চিঠি নয়, আলোচনা হোক খোলা মনে: চাইছে শান্তিনিকেতন

মহিউদ্দীন আহমেদ, বোলপুর

একটা সাত পাতার খোলা চিঠি। সহজ-সরল বাংলা ভাষায় লেখা। যা পিডিএফ ফরম্যাটে ঘুরছে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে। লিখেছেন বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। যে সাত পাতার লেখা চিঠির নির্যাস মূলত আত্মপক্ষ সমর্থনের। বিশ্বভারতী যা করছে তা কতটা ন্যায় ও প্রয়োজনীয়, তা বোঝাতে তিনি পরিষ্কারভাবে সব লিখেছেন। যারা তাদেরকে বহিরাগত বলে তির্যক সমালোচনা করেছে, চিঠিতে দিয়েছেন তার জবাবও। বিশ্বভারতীকে তাঁরা কতটা ভালোবাসেন, তা বোঝাতে কসুুর করেননি। এমনকী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও আত্মপক্ষে নিয়েছেন তিনি। আবার যে স্থানীয়রা চাকরি করছেন বিশ্বভারতীতে, তাঁরা কতটা যোগ্য তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।

আরও পড়ুন: বীরভূমে গণ ধর্ষনের অভিযোগ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে, গ্রেপ্তার ২

বিশ্বভারতীর বুকে সম্প্রতি পাঁচিল দেওয়া নিয়ে যে আপত্তি, তা খণ্ডন করতে পাঁচিলের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে পরিষ্কারভাবে লিখেছেন, অবাধ যৌনতা, মদ খাওয়া, জুয়া খেলার মতো অসামাজিক ও বিপজ্জনক কাণ্ড-কারখানা বন্ধ রাখতেই পাঁচিলের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাঁর লেখা চিঠির ২নং পাতার প্রথমাংশে অসামাজিক ও বিপজ্জনক কারবারের কথা বলতে গিয়ে মদ, জুয়া, পতিতাবৃত্তি শব্দগুলি তিনি ব্যবহার করেছেন। এখানেই পাল্টা প্রশ্ন উঠছে, নোবেল চুরির পর বিশ্বভারতীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর কথা বলা হয়। নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াও রয়েছে বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী। যাঁরা দিন-রাত সব সময় ডিউটি করে। তাহলে তাঁরা থাকতেও মদ, জুয়া, পতিতাবৃত্তি কীভাবে ঘটে? নিরাপত্তারক্ষীরা তবে কী করেন? তাঁদের পিছনে তবে এত টাকা খরচ করা হয় কেন?

আরও পড়ুন: এবার বাড়িতে বসেই হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে পেয়ে যাবেন বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষার সুবিধা

তবে পাঁচিল-কাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে যে খোলা চিঠি লিখেছেন উপাচার্য, তা প্রকাশ্যে আসতেই শান্তিনিকেতনবাসী মনে করছেন, এই চিঠির প্রেক্ষিতে সমস্যা মিটবে না। চিঠির মধ্যেও ‘আমরা-ওরা’ বিভাজন পরিষ্কার। যেখানে প্রতিপক্ষকে জবাব ও আত্মপক্ষ সমর্থনই মূল বিষয়। তাই খোলা চিঠি না লিখে খোলা মনে আলোচনা দরকার বলে মনে করছেন শান্তিনিকেতনবাসী। শান্তিনিকেতনের বিশিষ্ট সমাজকর্মী, বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী শিক্ষক নুরুল হক প্রকাশ্যেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, খোলা চিঠি নয়, খোলা মনে আলোচনা করা দরকার। বিশ্বভারতীর আর এক প্রাক্তনী সমাজকর্মী মনীষা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মানুষ যখন কথা বলতে চায় তখন উনি কথা বলেন না। ছাত্রছাত্রীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল বিষয়। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন না। খোলা চিঠি দিয়ে সমস্যা মিটবে না। সমস্যা মেটানোর জন্য জেলাশাসক মিটিং ডাকলেন। সেখানে অনেক প্রবীণ মানুষ, সমাজকর্মীরা গেলেন। অথচ উনি গেলেন না। রবীন্দ্র আর্দশকেই নষ্ট করতে চান উপাচার্য। উপাচার্য এক তরফা চিঠি লিখছেন।” মনীষা বন্দ্যোপাধ্যায় নুরুল হকের সুরেই বলেন, “খোলা মনে কথা বলতে পারতেন। খোলা চিঠিতে সমস্যার সমাধান হবে না। উনি জেলাশাসকের ডাকেও সাড়া দিলেন না।”

বিশ্বভারতীর পাঁচিল বির্তকের ঝড় এখনও থামেনি। রাজ্যের রাজ্যপাল থেকে দিল্লির দরবারে ঘটনাপ্রবাহ পৌঁছেছে। ভুবনডাঙা মেলার মাঠের প্রাচীর নিয়ে আর্থিক কোনও স্বার্থ নিয়ে কোনও সিন্ডিকেট রয়েছে কি না, সে নিয়ে তদন্তে নেমেছে কেন্ত্রীয় সংস্থা ইডি। বিশ্বভারতী অবশ্য সিবিআই তদন্তের দাবি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ। কবে বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে, তারও কোনও ঠিক নেই। উপাচার্যের খোলা চিঠি এখন অনেকের মোবাইলে ঘুরলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের খোলামেলা শান্তিনিকেতনে আজ খোলা মনের বড় অভাব।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *