৫৬টি ইসলামি দেশের মধ্যে তালিবানের সঙ্গে রয়েছে একমাত্র পাকিস্তান

Mysepik Webdesk: আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলকারী তালিবান এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য আশায় রয়েছে। তালিবান নেতারা মুসলিম দেশগুলিকে রাজি করানোর জন্য দোহা থেকে দুশানবে ভ্রমণ করছেন। বিশ্বের ৫৬টি ইসলামিক কান্ট্রির মধ্যে কেবল পাকিস্তানই একমাত্র দেশ, যারা তালেবানকে সমর্থন করছে। এদিকে, আর্থিক সুবিধার জন্য চিন এবং রাশিয়া তালিবানকে সমর্থন করলেও তাদের অবস্থান এখনও ঠিক স্পষ্ট নয়। কারণ তাদের নিজেদের দেশে এরজন্য প্রবল বিরোধিতার মুখে সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তবে, মুসলিম দেশগুলি যে তাদের সঙ্গে যোগ দেবে না, এমন সম্ভাবনার কথা আঁচও করতে পারেনি তালিবান। প্রতিবেশী দেশ তাজিকিস্তান এবং কাজাখস্তানও তালিবান মোকাবিলায় সীমান্তে সেনাবাহিনী বাড়িয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রাক্তন আফগান ফুটবল অধিনায়ক খালেদা পোপলের আতঙ্কিত আর্জি: ‘মুছে ফেলুন যাবতীয় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট, পুড়িয়ে দিন নিজেদের কিট’

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, মুসলিম দেশগুলি বুঝতে পেরেছে যে, এই লড়াই সম্পদ দখলের জন্য। প্রশ্ন উঠছে পাকিস্তান কতটুকু তালিবানকে সমর্থন করবে? ভারত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইরান এবং তুরস্কে বিশ্বের মুসলিম জনসংখ্যার ৬২ শতাংশ মানুষ রয়েছেন। তবে, পাকিস্তানের জনগণ তালিবানি নীতিকে কখনোই সমর্থন বা গ্রহণ না করলেও পাকিস্তানই বিশ্বের একমাত্র দেশ, যারা তালিবানের সঙ্গে আছে। অন্যদিকে, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া ইসলামি শক্তিকে পছন্দ করলেও তারা কিন্তু তালিবানি গোঁড়ামি মেনে নেবে না। এমনটা চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোণঠাসা হয়ে যাবে তালিবান।

আরও পড়ুন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবার কো-এডুকেশন বন্ধের ফতোয়া তালিবানের

৫৬টি দেশের অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি) নিঃসন্দেহে একটি বড় সংগঠন। কিন্তু সংগঠনটি তার রাজনৈতিক মর্যাদা হারিয়ে ফেলেছে। আফগানিস্তান ইস্যুতে তাদের ভূমিকা বড় কোনও ব্যাপার নয়। কারণ, আফগানিস্তানে তালিবানের বিরুদ্ধে লড়াই করছে যে শক্তিগুলি, তারাও ইসলামিক শক্তি। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো যদি এর সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলেই তা একমাত্র নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে পারে। যদিও এই মুহূর্তে এমন কোনও সম্ভাবনা দেখা যেতে পারে বলে মনে হয় না। অন্যদিকে, কাতার নিয়েও ধন্দ রয়েছে। অন্য সব উপসাগরীয় দেশ তালিবানকে সমর্থন করতে অস্বীকার করেছে। গত দু’মাসে এসব দেশের বিভিন্ন সংগঠন আফগান সরকারের সমর্থনে বিবৃতি দিয়েছে। যদিও এখন তারা নীরব। তা সত্ত্বেও একটি বিষয় স্পষ্ট যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের মতো প্রধান উপসাগরীয় দেশগুলো আমেরিকার পক্ষে থাকবে। এমনটা হলে স্বভাবতই তালিবানদের পক্ষে থাকছে না এই সমস্ত উপসাগরীয় দেশ।

আরও পড়ুন: তালিবানে আতঙ্কিত প্রথম আফগান মহিলা পাইলট নিলুফার বললেন, ‘তাদের কথায় বিশ্বাস নেই’

আপাতত ইসলামি দেশ এবং মুসলিম সংগঠনগুলি ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ অবস্থানে রয়েছে। কারণ, তালিবানের মধ্য অনেকগুলি শাখা গোষ্ঠী রয়েছে। তাদের মধ্যেও চিন্তার তারতম্য রয়েছে। তাই এমনটা ভাবার কারণ নেই যে, তালিবান কোনো ঘোষণা করলেই তা হুবহু বাস্তবায়িত হবে। তাই তালিবান কমান্ডারদের তাদের এলাকাকে নিজেদের মতো ক’রে শাসন করতে দেখা যায়।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *