অসমের বন্যা: ভেসে যাচ্ছে একের পর এক গ্রাম, জলের নিচে কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান

ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে অসমের বন্যা পরিস্থিতি, ভেসে যাচ্ছে একের পর এক গ্রাম। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রবল বৃষ্টির কারণে ব্রহ্মপুত্র নদের জল বইছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে। এপর্যন্ত সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা ৭৩ হলেও সংখ্যাটা আরও বেশি বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অসমের ২৬টি জেলা জলের তলায় চলে গেছে। একের পর এক গ্রামের ওপর দিয়ে বইছে বন্যার জল।

আরও পড়ুন: ঐতিহাসিক মঞ্চ থেকে বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে যে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

ইতিমধ্যেই বন্যার কারণে কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানে ৮৬টি বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ১৪টি হরিণ এবং ৪টি ৪টি একশৃঙ্গ গণ্ডার জলে ডুবে মারা গেছে। ওই জাতীয় উদ্যানের অন্তত ৮৫ শতাংশ এলাকা জলের তলায়। জলে ডোবার হাত থেকে বাঁচতে প্রায় ৪টি বাঘ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গ্রামে চলে এসেছে। তাদের জঙ্গলে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এপর্যন্ত ১২৫টি বন্যপ্রাণীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন: শরীরে হালকা উপসর্গ, হাসপাতালে ভর্তি হলেন ঐশ্বর্য রাই বচ্চন

বিপর্যয় মোকাবিলা দল নেমে পড়েছে বন্যা কবলিত মানুষজনকে উদ্ধারের কাজে। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ধুবরি, বরপেটা, মরিগাঁও, লখিমপুর, দারাং, গোলাঘাট, গোয়ালপাড়া ও বঙ্গাইগাঁওয়ের। এপর্যন্ত প্রায় ৩২০১ টি গ্রাম বন্যা কবলিত। মানুষের সঙ্গে পশুরাও এক ছাদের নিচে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এপর্যন্ত বহু গবাদি পশু বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত মোট ২৪টি জেলার ৩০০ রিলিফ ক্যাম্পে ৪৯ হাজার ৯৭৭ মানুষকে আশ্রয় দেওয়া গিয়েছে। ৪৪৫টি রিলিফ ডিস্ট্রিবিউশন ক্যাম্প থেকে চাল, ডাল, নুন, সরষের তেল, গম, বেবি ফুড, ত্রিপল, গবাদি পশুর খাবার, স্যানিটারি ন্যাপকিন-সহ বিভিন্ন অত্যাবশ্যক পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে বন্যা কবলিত মানুষদেরকে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *