নাগপুরীতে এক বেলা!

সৈয়দ মিনহাজ হোসেন

আজকের গল্প এক্কেবারে অন্য রকম বেড়ানোর। আমারা কেউ ভালোবাসি পাহাড় কেউ সমুদ্র। কেউ অনুভব করি জঙ্গলের টান কেউ বা ছুটে যাই ঐতিহাসিক স্থান। কারও ভালো লাগে দেব দর্শন কারও পছন্দ রোমহর্ষক অভিযান। কিন্তু আজকের গল্প অনেকটাই বাঁধা গতের বাইরে, অথবা যাকে বলা যেতে পারে, মানুষ প্রকৃতি-ইতিহাস-বিজ্ঞান-সংস্কার-অভিযানের এক অনন্য মিশেল। আসলে এ গল্প এক ভয়ংকর সুন্দর প্রাণের দেশে এক বেলা কাটিয়ে আসার রূপকথা!

আরও পড়ুন: বাংলার সর্পবৈচিত্র্য ও সর্প দেবী মনসা

ছবি সৌজন্য: শিবপুরের এরোস্পেস বিভাগের অধ্যাপক পবিত্র হালদার

ছোটবেলায় পড়েছিলাম মানুষের ইতিহাস যেমন শ্রেণি সংগ্রামের, তেমনই আবার প্রকৃতির সঙ্গে দ্বন্দ্বেরও বটে। প্রতিবছরই কোনও না কোনও নির্বাচন তাই শ্রেণি সংগ্রামের বর্তমান আপাতত ভোটের লাইনে। ভবিষ্যতের কথা ভূতেরা ও বলতে পারবে কি না সন্দেহ। কিন্তু সেই যেদিন থেকে মানুষ আগুন জ্বালাতে শিখেছে, সেদিন থেকে শুরু করে হাল ফিলের জোয়ার জর্জরিত উন্নয়ন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই মানুষ-বন্যের দ্বন্দ্ব এতটাই প্রকট যে, চোখ খোলা রাখলেই দেখা যায়। চালশে চোখেও চশমা লাগে না। তথাকথিত সভ্যতার নামে, বিকাশের নামে আমরা বন ও বন্যের ক্ষতিই করে এসেছি— এ কথা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। উন্নয়নের ঠেলায় কত বন্য প্রজাতি হারিয়ে গেছে চিরকালের জন্য, তার হিসেব আর কে রাখে! শুধু বন্য প্রাণী কেন, জল-জঙ্গলের অধিকার হারিয়েছেন কত কোটি আদিবাসী মানুষও। এই তো সেদিন মহামান্য আদালতের রায়ে নিজভূমে উদ্বাস্তু হতে চলেছিলেন কয়েক লক্ষ মানুষ-জঙ্গলের আদি বাসিন্দা।

আরও পড়ুন: ফলের নাম পীচ!

ছবি: লেখক

অবনীকে মনে আছে? কয়েক মাস আগে দুই বাচ্চার মা অবনীকে আমরা রীতিমতো সাংবিধানিক ভাবে খুন করলাম, সে যতই আমাদের জাতীয় পশু হোক না কেন। দু’দিন আগেও কলকাতার উপকণ্ঠে যা ছিল রাজারহাট তৃণভূমি— লাল মুনিয়া সহ বিভিন্ন পাখির স্বর্গ রাজ্য, তা-ই এখন কংক্রিট এর জঙ্গল। এরকম দ্বন্দ্বের উদাহরণ রয়েছে ভূরি-ভূরি। লিখতে বসলে রাত ভোর হয়ে যাবে। কিন্তু আজ শোনাব এক উলট পুরাণ। ধ্বংস নয়— দ্বন্দ্ব নয়— সংরক্ষণের গল্প— শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মিষ্টি উপাখ্যান।

আরও পড়ুন: শতবর্ষ পেরিয়ে বিজ্ঞানী বিক্রম সারাভাই আজও প্রাসঙ্গিক

ছবি সৌজন্য: শিবপুরের এরোস্পেস বিভাগের অধ্যাপক পবিত্র হালদার

কলকাতা থেকে মাত্র ১৩০ কিলোমিটার দূরে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারের কাছে মঙ্গলকোট ব্লকের চারটি গ্রাম— মুশারু, পলসোনা, ছোট পোষলা আর বড় পোষলা। ছোট-বড় কাঁচা পাকা ঘর বাড়ি, পুকুর-মাঠ ঘাট দোকানপাট নিয়ে বর্ধমান কাটোয়া রোডের পশ্চিম পাড়ে কয়েকশো ঘর মানুষের বসবাস। গ্রামবাংলার আর পাঁচটা শস্যশ্যামলা বর্ধিষ্ণু গ্রামের সঙ্গে এমনিতে কোনও তফাত নেই। কিন্তু এদের বিশেষত্ব হল যে, এরা কেউটের মতো বিষধর সাপের সঙ্গে সংসার করে বললে একটুও বাড়িয়ে বলা হয় না। অন্যান্য গ্রামের চৌহদ্দির মধ্যে গোখরো কিংবা কেউটে সাপ দেখা গেলে হয় পিটিয়ে মেরে ফেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয় অথবা খুব শিক্ষিত সচেতন মানুষ জন হলে বন দপ্তরে খবর দিয়ে সাপের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু এই চারটি গ্রামের গল্প সম্পূর্ণ আলাদা। এরা কেউটে বা monocled cobra-কে সাপ বলে না, বরং গত প্রায় ৫০০ বছর ধরে (গ্রামের মানুষের মুখে শোনা কথা, সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ হয়নি এখনও) পুজো করে দেবী ঝঙ্কেশ্বরী নামে এক দেবীকে।

আরও পড়ুন: বলিপুরের অপভ্রংশ বোলপুর গেলে ঘুরে আসতেই পারেন সুপুর

ছবি: লেখক

দেবীর এরকম নামের উৎপত্তি নাকি বেহুলার চুড়ির ঝঙ্কার থেকে। গ্রামের মানুষেরা অবশ্য অত কঠিন নামে নয়, সংক্ষেপে ডাকে ঝাংলাই নামে। বেহুলা-লখিন্দরের পৌরাণিক কাহিনির সূত্র ধরে এখানকার মানুষের বিশ্বাস রানি বেহুলা শিবের তপস্যা করে তার স্বামী লখিন্দরের প্রাণ ফিরে পান। বিনিময়ে দেবী মনসাকে তাঁর বিষ ফেরত দেন। কিন্তু একটি শর্তে। এই যে চারটি গ্রাম তার সঙ্গে আরও তিনটি গ্রাম অর্থাৎ মোট সাতটি গ্রামের বাসিন্দারা যাঁরা দেবী ঝঙ্কেশ্বরীর পূজা করেন, তাঁদের ওপর কখনও এই বিষ প্রয়োগ করা যাবে না। ফলে এই এলাকার মানুষের বিশ্বাস যে, ঝাংলাইয়ের কামড়ে তাদের কোনও ক্ষতি হবে না। এরা অবশ্য কামড় বলে না, বলে দেবী প্রসাদ করেছেন। গল্প কথা আর অন্ধবিশ্বাস থেকে একটা ভালো কাজ অন্তত হয়েছে। এই গ্রামের মানুষেরা কখনও কেউটে সাপকে আঘাত করেন না, মারা তো দূরের কথা। তার ফলে এই অঞ্চল সাপেদের জন্য অভয়ারণ্য। গ্রামগুলি বর্ধিষ্ণু। সবার বাড়িতেই চাল ডাল রয়েছে। তাই রয়েছে প্রচুর ইঁদুর। সাপেদের বংশ বৃদ্ধির জন্য আর কি চাই? এই গ্রামগুলোতে কেউটে সাপের সংখ্যা এতটাই বেশি যে, শীতঘুমের সময়টুকু ছাড়া অন্য যে কোনও সময় গেলে গ্রামের পথেঘাটে, বাড়ির উঠোনে, মন্দির চাতালে, যত্রতত্র এদের দেখা পাওয়া যায়। আপনি হয়তো দেখলেন দরজার ঠিক বাইরে বসে আছে একটি কাল কেউটে। আর বাড়ির বউ নির্লিপ্তভাবে তাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া আসা করছে নির্দ্বিধায়। হয়তো দেখলেন বাড়ির স্কুলে পড়া বাচ্চা দাওয়ায় বসে লেখাপড়া করছে আর কয়েক ফুট দূরে ঘুরে বেড়াচ্ছে আস্ত কাল কেউটে। সে যদি মাকে বলে, ”মা দেখ ঝাইংলাই এসেছে”—  মা একটু ও বিচলিত না হয়ে বলছে, ”খোকা নিজের পড়া কর, মা ঝঙ্কেশ্বরী কিছু করবেন না।” এ ধরনের দৃশ্যের জন্ম এই গ্রামগুলিতে হামেশাই হয়। কপালে থাকলে আপনিও দেখতে পেতে পারেন।

আরও পড়ুন: সুদর্শনে গোপাল-গোবিন্দ

ছবি সৌজন্য: শিবপুরের এরোস্পেস বিভাগের অধ্যাপক পবিত্র হালদার

দেখা বা ছবি তোলায় কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে যদি কেউ ঝাংলাইয়ের কোনও ক্ষতি করেন বা সাপ ধরে আনার চেষ্টা করেন, তাহলে শুধু তার ক্যামেরা না শরীরের কোনও অংশই আর গ্রামের বাইরে আসবে না। এই গল্প গতবছর শুনেছিলাম আমার বেশ কয়েকজন প্রকৃতিপ্রেমিক বন্ধুর কাছ থেকে। তার পর থেকেই মনে ইচ্ছে, ছবি তুলতে যাব এই গ্রামগুলিতে। আর সুযোগ এসে গেল গতবছর দোলের ছুটিতে, হঠাৎ করেই।

আরও পড়ুন: আপন-ঈশ্বরকেও রক্ষা করতে রাখীবন্ধন

ছবি: লেখক

দোলের পরের দিন সকাল বেলা ১১টা নাগাদ পৌঁছে গেলাম মুশারু গ্রামের ঝঙ্কেশ্বরী মন্দির চত্বরে। গ্রামে ঢুকেই কয়েকজন বয়স্ক মানুষের সঙ্গে দেখা। বললাম, ঝাংলাই মায়ের দর্শন পেতে আর ছবি তুলতে চাই। তারা সাদরে অভ্যর্থনা করলেন আর বললেন, গ্রামের রাস্তা ধরে ঘোরাফেরা করুন—  বাচ্চারা দেখতে পেলে আপনাদের ডেকে নিয়ে গিয়ে দেখিয়ে দেবে। আমরা সেইমতো একটু এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা করছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই দু’টো বাচ্চা এসে আমাদের ডেকে নিয়ে গেল একটা পাকা বাড়ির দরজার কাছে। বাড়ির একজন বয়স্ক মহিলা বললেন যে, মা ঝাংলাই এখন তার উঠোনে রয়েছেন— একটু আগেই নাড়ু খেয়েছেন। দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকেই দেখি উঠোনের এক কোনায়, আমাদের থেকে ৮-১০ ফুট দূরে গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে এক আস্ত কেউটে, ইংরেজিতে যাকে বলে monocled cobra। দৈর্ঘ্যে প্রায় ৫ ফুট-পিঠের দিকটা কালচে বাদামি। ঘাড়ের কাছে একটা হলুদ পটি। উঠোনে ঢোকার সময় মাটিতে যে মৃদু কম্পন হয়েছিল, তাতেই তিনি সজাগ হয়ে ফণা তুলে অ্যালার্ট মোডে চলে গিয়েছিলেন। সাপেরা চোখে খুব একটা ভালো দেখতে পায় না, তাই আমরা কোন দিকে আছি, সে বিষয়ে তার কোনও ধারণা ছিল না বলেই আমদের দিকে পেছন ফিরে ফণা তুলে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেশ কিছুক্ষণ, যতক্ষণ না তেনার দৃষ্টি আমার লেন্সের নড়াচড়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়। এই ফাঁকে আমিও কয়েকটা সুযোগ পেয়ে গেলাম ফণার পেছন দিকের অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্য ক্যামেরাবন্দি করার। ঘাড়ের ওপরে এমনভাবে নাখ-চোখ মুখের নকশা করা যেন আমাদের দিকেই তাকিয়ে আছেন তিনি। প্রকৃতির দেওয়া সিকিউরিটি ফিচার-দৃষ্টিজনিত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার প্রাকৃতিক সমাধান সূত্র। এরপর কোনও এক কারণে সটান ঘুরে দাঁড়ালেন আমার লেন্সের দিকে তাক করে। সঙ্গে একটা হালকা ফোঁস। দুপুর ১১টার গরমেও কয়েক ফোঁটা বরফ গলা জল যেন বয়ে গেল শিরদাঁড়ার ভেতর দিয়ে— দূরত্ব যদিও দশ ফুটের বেশি। সেই ভদ্র মহিলা যিনি আমাদের প্রথম ঝাংলাই দর্শন করালেন— অভয় দিয়ে বললেন, মায়ের ফোটো তোলার শখ হয়েছে তাই ক্যামেরার সামনে পোজ দিচ্ছেন। দেবী একটু আগেই নাড়ু খেয়েছেন, তাই এখনই কাউকে প্রসাদ করবেন না। আমি নির্দ্বিধায় এগিয়ে যেতে পারি। আমি নাস্তিক মানুষ। এসব দেব-দেবীর মেজাজ মর্জির ওপর খুব বেশি আস্থা রাখি কি করে! তাছাড়া জীবনে প্রথমবার এত কাছ থেকে ফণা তোলা কেউটে দেখছি, তাও প্রথম চেষ্টাতেই— আর এগনোর কি দরকার? তাই ওনার কথায় খুব একটা আশ্বস্ত না হয়ে ১০ ফুট দূরে দাঁড়িয়েই ছবি তোলায় মন দিলাম। দশ ফুটের ছবি তোলাকে পাঁচ ফুটের পটল তোলায় রূপান্তরিত করার কোনও ইচ্ছে আমার নেই। এরপর প্রায় টানা ২/৩ মিনিট লেন্সের দিকে তাক করে পোজ দিয়ে গেলেন ঝঙ্কেশ্বরী দেবী।

আরও পড়ুন: ঝুলনের আনন্দরূপ

ছবি: লেখক

লেন্স যেদিকে যায় দেবীর ফণাও সেদিকে যায়। এরই মধ্যে সেই ভদ্রমহিলা ঝাংলাইয়ের নাড়ু খাওয়ার বিষয়ে আলোকপাত করলেন। আমরা যাকে ব্যাং বলি, ঝাংলাই তাকে খেয়ে নিলে সেই হয়ে যায় নাড়ু! ঝাংলাইয়ের নাড়ু খাওয়ার দৃশ্য দেখতে না পেলেও জীবনে প্রথম কাল কেউটের ফণা তোলার দৃশ্য দশ ফুট দূর থেকে ক্যামেরাবন্দি করতে পারার আনন্দই আলাদা! কথায় কথায় জানতে পারলাম এই বাড়িরই এক ছেলেকে ঝাংলাই প্রসাদ করেছে। প্রসাদ করলে গ্রামের নিয়ম অনুযায়ী কাউকে কিছু না বলে ঝঙ্কেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিতের কাছে যেতে হয়। তিনি মন্ত্রপুত গব্য ঘৃত প্রদান করেন। আর মানুষটিকে সারাক্ষণ জাগিয়ে রাখতে হয়। তাতেই নাকি কাজ হয়। ওষুধ-হাসপতাল-অ্যান্টিভেনমের ধারে কাছে এঁরা যান না। এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৫০ জন কেউটের কামড় খেয়েছেন, অনেকেরই কিছু অঙ্গহানি হলেও কেউ নাকি মারা যাননি বলে গ্রামবাসীদের দাবি। অনেক সময়ই সাপের পেট ভর্তি থাকলে অথবা সবে শিকার ধরতে বিষ খরচ করে ফেলেছে এমন হলে কিংবা হঠাৎ করে ভয় পেয়ে অতর্কিতে বিষধর সাপ কামড়ালেও মানুষের শরীরে মারণ মাত্রায় (leathal dose) বিষ ঢালতে পারে না। এই এ ধরনের কামড়কে বলে শুকনো কামড় বা dry bite। কেউটে সাপের lethal dose পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের জন্য ৫০ সিসি-র মতো। এক ছোবলে এতটা বিষ অনেক সময়ই ঢালার সুযোগ পায় না। হয়তো সেই কারণেই ঝাংলাইয়ের প্রসাদ করা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই dry bite। কেউটের বিষ neurotoxin অর্থাৎ এদের কামড়ে মানুষের স্নায়ু আক্রান্ত হয় প্রথমে। শরীর অবস হয়ে আসে। ঘুম পায়। আর ধীরে ধীরে ঢলে পড়ে মৃত্যুর দিকে। সেই জন্যই ঝাংলাই প্রসাদ করলে পুরোহিতে বলেন জাগিয়ে রাখতে। এদের অন্ধবিশ্বাসই হোক আর সংস্কারই হোক, এর কারণে এই অঞ্চলে কেউটে বা monocled cobra-র সংরক্ষণের যে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে, তা কেবল ওড়িশার গঞ্জাম জেলার ভেটনাই অঞ্চলের কৃষ্ণসার হরিণ সংরক্ষণের ইতিহাসের সঙ্গেই তুলনীয়। তবে এই একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও কেউটের ছোবল খাওয়ার পর অ্যান্টিভেনম না নেওয়ার মধ্যে যে কোনও বিজ্ঞান মনস্কতার পরিচয় নেই, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে গিয়ে সঠিক চিকিৎসা করালে হয়তো এতগুলো মানুষের অঙ্গহানি হত না। তবে কিনা আমাদের এই গ্রাম বাংলার ছোট্ট চারটি গ্রাম মানুষ-বন্যের দ্বন্দ্বের প্রতিকূলে দাঁড়িয়ে কেউটে সংরক্ষণের যে ইতিহাস রচনা করেছেন, তাকে কুর্নিশ না করার কোনও কারণ নেই। সেইসঙ্গে আশা রাখি, এঁরাও একদিন বৈজ্ঞানিক কারণেই বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণের কাজ চালিয়ে যাবেন কুসংস্কার মুক্ত হয়ে।

● কখন কীভাবে যাবেন

পুরো শীতকালটা সাপেদের শীতঘুমের সময়। তাই মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে সেপ্টেম্বর এদের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অযথা ভয় পাওয়ার বা অতিরিক্ত সাহস দেখানোর দরকার নেই। গ্রামের মানুষের সঙ্গে ঘুরে বেড়ান আর চাক্ষুষ করুন এই ভয়ংকর সুন্দর প্রাকৃতিক সৃষ্টিকে। সকাল সাতটা আটটা থেকে শুরু করে বিকেল চারটে সাড়ে চারটের মধ্যে দেবী দর্শন করে সন্ধে নামার আগেই ফিরে যান। কলকাতা থেকে দূরত্ব ১৩০ কিলোমিটারের মতো। গাড়ি নিয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টায় পৌঁছে যেতে পারেন বর্ধমান কিংবা কাটোয়া। সবথেকে ভালো হয়, যদি আগের দিন বর্ধমান কিংবা কাটোয়া চলে গিয়ে এক রাত ওখানে কাটিয়ে পরের দিন গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছে যান মুশারু। স্থানীয় মানুষেরা অবশ্যি মুশুরি বলেও ডাকে। বাকি গ্রামগুলো একেবারে পাশাপাশি।

●  লেখক পেশায় ভারতীয় প্রকৌশল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পদার্থবিদ্যার শিক্ষক। কিন্তু সে তো কেবল সোম থেকে শুক্র। শনি হলেই মিনহাজের পায়ের তলায় সরষের নড়াচড়া শুরু। দু’দিনের ছুটি পেলেই ট্রেনে বাসে চড়ে কিংবা গাড়ি নিয়ে সে বেড়িয়ে পড়ে কখনও পাহাড় জঙ্গল-নদী সমুদ্র অথবা নতুন পাড়া-গাঁয়ের উদ্দেশ্যে। চেনা গণ্ডির বাইরে নতুন জায়গা নতুন মানুষজন, তাঁদের জীবনচর্যার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার নেশায়। আর সে ভালোবাসে পাখি দেখতে। তাই সঙ্গে থাকে ক্যামেরার ঝোলা। নানা রকমের পাখির ছবি ক্যামেরাবন্দি করাও তার শখ। আর তাই কোনও নতুন জায়গায় গেলেই সে লেগে পড়ে সেখানকার পাখপাখালির সুলুকসন্ধানে। এই সব টুকরো টুকরো অভিজ্ঞতা জুড়ে তৈরি হয় এক একটা বেড়ানোর গল্প। ওর সাবলীল লেখায় ধরাপড়ে চেনা জায়গার নানা অচেনা ছবি।

Facebook Twitter Email Whatsapp

5 comments

  • মৌসুমী বসু

    খুব সুন্দর লেখা। পড়ার সময় স্নায়ু টানটান হয়ে ওঠে।

  • জয়তী দাস

    খুব ঝরঝর, সুন্দর, সাবলীল লেখা। ভাল লাগলো পড়তে। এমন লেখা আরও অনেক চাই।

  • সুদীপ্তা চক্রবর্তী

    ভয়ঙ্কর সুন্দরের অসাধারণ বর্ণনা।

  • Sudipta Chakrabarty

    ভয়ঙ্কর সুন্দরের অসাধারণ বর্ণনা।

  • নবব্রত ঘোষাল

    সুন্দর, টানটান, সাবলীল লেখা। গ্ৰামের পথঘাট মানুষজনের ছবি ভেসে উঠল চোখের সামনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *