Latest News

Popular Posts

জম্মু-কাশ্মীরের আসন পুনর্বিন্যাস ঘিরে বৈষম্যের অভিযোগ বিরোধীদের

জম্মু-কাশ্মীরের আসন পুনর্বিন্যাস ঘিরে বৈষম্যের অভিযোগ বিরোধীদের

Mysepik Webdesk: জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় ৭টি আসন বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিধানসভা কমিশন। এরমধ্যে ৬টি জম্মুতে এবং কাশ্মীরে ১টি আসন বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই সংশোধনীর পরে বিধানসভার আসন সংখ্যা ৮৩ থেকে বেড়ে ৯০ হবে। বিধানসভার মোট ৯০টি আসনের মধ্যে ৪৩টি হবে জম্মুতে। ৪৭টি আসন থাকবে কাশ্মীরে। কাশ্মীরের অ-বিজেপি দলগুলো এহেন প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “এই কমিশন কেবল বিজেপির রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণ করবার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। ধর্মীয় এবং ধর্ম সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আম-মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করাই হল কমিশনের উদ্দেশ্য।” তাছাড়াও ন্যাশনাল কনফারেন্স পার্টির প্রেসিডেন্ট তথা সাংসদ ফারুক আব্দুল্লাহর ছেলে ওমর আব্দুল্লাহ টুইটারে লেখেন, “জম্মু-কাশ্মীর সীমানা নির্ধারণ কমিশনের খসড়া প্রস্তাবনা গ্রহণযোগ্য নয়। জম্মুতে ৬টি ও কাশ্মীরে ১টি আসন দেওয়ার নয়া প্রস্তাব ২০১১ সালের আদমশুমারি তথ্য অনুযায়ী ন্যায়সঙ্গত নয়।”

আরও পড়ুন: জম্মুতে ৬টি এবং কাশ্মীরে ১টি বিধানসভা আসন বাড়ানোর প্রস্তাব, তোলপাড় রাজনীতি

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, কাশ্মীরের জনসংখ্যা ৬৮ লক্ষ ৪৪ হাজার ৪৭৫ জন, যা রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় ৫৪.৯৩ শতাংশ। এর আসনসংখ্যা ৪৬টি, যা বিধানসভায় প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে ৫২.৮৭ শতাংশ। অন্যদিকে, জম্মুতে বাস করে ৫৩ লক্ষ ৭৮ হাজার ৫৩৮ জন। এটি বিধানসভায় ৩৭টি আসন এবং ৪২.৫২ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে। সেই কারণেই কাশ্মীরি দলগুলোর দাবি, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বণ্টন হওয়া উচিত। উপত্যকার রাজনৈতিক দলগুলির যুক্তি, কাশ্মীর উপত্যকার জনসংখ্যা জম্মু থেকে ১.৫ লক্ষ বেশি। সেই কারণে এখান থেকে বিধানসভায় আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব পাওয়া উচিত। বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারে তপশিলি উপজাতিদের (এসটি) সংরক্ষণের কথা বলেছিল। জম্মু-কাশ্মীরের তাদের জনসংখ্যা ১১.৯ শতাংশ। এর জন্য সীমানা নির্ধারণ কমিশন ৯টি আসনের প্রস্তাব করেছে। তাদের সর্বাধিক জনসংখ্যা জম্মুতে। অর্থাৎ প্রায় ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে, কাশ্মীরে এই সংখ্যাটা ৩০ শতাংশ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গুজ্জর, বাকওয়াল, সিপ্পি এবং গাদ্দি। তপশিলি জাতি (এসসি)-র জন্য ৭টি আসন প্রস্তাব করা হয়েছে। রাজ্যে তাদের জনসংখ্যা ৯ লক্ষ ২৪ হাজার ৯৯১ জন। তারা জনসংখ্যার ৭.৩৮ শতাংশ। কাশ্মীর উপত্যকায় এদের সংখ্যা খুবই কম।

আরও পড়ুন: ৪০০ কোটি টাকার হেরোইন-সহ গুজরাট উপকূলে আটক পাকিস্তানী নৌকা

গত বিধানসভা নির্বাচনে পিডিপি ২৮টি, বিজেপি ২৫টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স ২৫টি, কংগ্রেস ১২টি আসন পেয়েছিল। বিজেপি সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছিল জম্মুতে, যেখানে হিন্দুদের প্রভাব রয়েছে। ২০১৪ সালে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে ৪৪ আসন কমে ছিল। এখন সীমানা নির্ধারণের পর বিজেপি চাঙ্গা হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলির মতে, জম্মুতে এসসি এবং এসটি জনসংখ্যার উপর ফোকাস বাড়িয়ে বিজেপি আসন্ন নির্বাচনে ৪৫ আসনের সংখ্যা অতিক্রম করতে চায়। বিজেপি-র মতে, জম্মু ২৬ হাজার ২৯৩ বর্গ কিলোমিটার এবং কাশ্মীর ১৫ হাজার ৯৪৮ বর্গ কিলোমিটারে বিস্তৃত। তাই কেবল জনসংখ্যা নয়, এলাকার কথা মাথায় রেখে সীমাবদ্ধকরণ করা উচিত। তবে একথা স্পষ্ট, বিজেপি কাশ্মীরে তাদের আধিপত্য বাড়াতে চায়। সে-কারণে রাজ্য দলের প্রধান রবিন্দর রায়না এখানে কিছু সীমান্ত এলাকায় ইতিমধ্যেই সমাবেশ করেছেন।

তপশিলি উপজাতি থেকে আসা গুজ্জর এবং বাকারওয়াল সম্প্রদায়কে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা হবে। কেন্দ্র এবং জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন বলেছে, সীমানা নির্ধারণের পরেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ, সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা দেশাই ৬ মার্চ, ২০২২-এর মধ্যে তাঁর রিপোর্ট চূড়ান্ত করবেন। এর পরেই হবে নির্বাচন। এ বিষয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি সভাপতি মেহবুবা মুফতির টুইটে লিখেছেন, “ডিলিমিটেশন কমিশনের সামনে আপত্তি জানিয়েছিলাম। তা ভুল ছিল না। তাদের চেষ্টা হচ্ছে মানুষকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো। আদমশুমারির তথ্যও আমল দেওয়া হচ্ছে না।” একটি অঞ্চলকে ৬টি আসন এবং কাশ্মীরকে ১টি আসন দেওয়া হচ্ছে। বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা দিতে এই কমিশন তৈরি করা হয়েছে। ধর্ম ও আঞ্চলিকতার ভিত্তিতে বিভাজন করা হচ্ছে। ২০১৯ সালের আগস্টে নেওয়া পদক্ষেপের ভিত্তিতে সরকার গঠনের চেষ্টা চলছে বলেও সোচ্চার অ-বিজেপি দলগুলি।

আরও পড়ুন: বিপিন রাওয়াতের মৃত্যু থেকে শিক্ষা নিয়ে ভিভিআইপি কপ্টার ওড়ানোর প্রটোকল বদলাচ্ছে বায়ুসেনা

জম্মু ও কাশ্মীরের কংগ্রেস প্রধান গুলাম আহমেদ মীর বলেছেন, “আসন ইতিমধ্যেই এসসি এবং এসটি-র জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। এটি জনসংখ্যার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, জম্মু ও কাশ্মীরের জনসংখ্যা ১.২২ কোটি। জনসংখ্যার দিক থেকে কোনও সীমাবদ্ধতা নেই।” প্রাক্তন মন্ত্রী ও পিপলস কনফারেন্সের প্রধান সাজ্জাদ গণি লোন বলেন, “আমরা সীমাবদ্ধতা কমিশনের সুপারিশ একেবারেই মানি না। যাঁরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, তাঁদের জন্য এটা বড় ধাক্কা।” আলতাফ বুখারিও এহেন সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করেছেন। বলেছেন, “জনসংখ্যা ও জেলাকে বেস করা উচিত ছিল।”

রাজনৈতিক দল ছাড়াও সাধারণ মানুষও এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রিসার্চ স্কলার শাহিদ আহমেদ বলেন, “বিজেপি যা চেয়েছিল তা-ই হচ্ছে। আমি বুঝতে পারছি না কীসের ভিত্তিতে জম্মুতে ৬টি এবং কাশ্মীরে মাত্র ১টি আসন বাড়ানো হচ্ছে।” প্রবীণ সাংবাদিক আহমেদ আলি ফায়াজ বলেন, “১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ১০টি বিধানসভা আসনের পার্থক্য ছিল। তখন কাশ্মীরে ৪২টি এবং জম্মুতে ৩২টি আসন ছিল। এখন কমিশন বলছে, কাশ্মীরে ৪৮টি এবং জম্মুতে ৫২টি আসন থাকবে।”

টাটকা খবর বাংলায় পড়তে লগইন করুন www.mysepik.com-এ। পড়ুন, আপডেটেড খবর। প্রতিমুহূর্তে খবরের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *