প্রয়োজনের তুলনায় দিল্লি চারগুণ বেশি অক্সিজেন চাওয়ায় ১২ রাজ্যে অক্সিজেনের ঘাটতি: অডিট রিপোর্ট

Mysepik Webdesk: করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ায় দেশজুড়ে দেখা দিয়েছিল অক্সিজেনের অভাব। অক্সিজেনের অভাবে প্রায়ই করোনা রোগীর মৃত্যুর খবর আমরা দেখেছি। কিন্তু, দেশজুড়ে এই অক্সিজেনের অভাব কেন ঘটল? কারণ জানতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠন করা অক্সিজেন অডিট কমিটির রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রিপোর্টে জানানো হয়েছে, দিল্লিতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে ঠিক যতটা পরিমান অক্সিজেন প্রয়োজন ছিল, তার চারগুন পরিমান অক্সিজেন ছোয়া হয়েছিল কেন্দ্রের কাছে। ফলে, শুধুমাত্রই দিল্লিতে সেই বিপুল পরিমান অক্সিজেন যোগান দেওয়ার ফলে দেশের ১২টি রাজ্যে অক্সিজেনের অভাব দেখা যায়।

আরও পড়ুন: গোটা দেশে আরও ১০ লক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ, সৌজন্যে রিলায়েন্স রিটেল

ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গোটা দেশ যখন অক্সিজেনের অভাবে ধুঁকছিল, ঠিক তখনই বার বার কেন্দ্রের কাছে অক্সিজেনের জন্য তাগাদা দিচ্ছিল দিল্লির কেজরিওয়াল সরকার। এমনকি অক্সিজেন নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে দিল্লি সরকারের তর্কাতর্কি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। এরপরেই সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লিকে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়, যার পরোক্ষ ফল ভোগ করে অন্যান্য রাজ্যগুলি। রিপোর্টে আরও জানা গিয়েছে, যেখানে দিল্লিতে দৈনিক ৩০০ মেট্রিক টন অক্সিজেনের প্রয়োজন ছিল, সেখানে দিল্লির চাহিদা ছিল ১২০০ মেট্রিক টন অক্সিজেনের।

আরও পড়ুন: পেট্রল-ডিজেলের বিকল্প হিসেবে ইথানলের ব্যবহার, বড়োসড়ো পদক্ষেপ কেন্দ্রের

জাতীয় টাস্ক ফোর্স জানাচ্ছে, গত ১৩ মে দিল্লির হাসপাতালগুলিতে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত অক্সিজেনের ট্যাংক ভর্তি ছিল। সেই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে অক্সিজেনের ট্যাংক পাঠানো হলেও সেগুলিকে খালি করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি হাসপাতালগুলো থেকেও ভুল তথ্য দেওয়া হয় অক্সিজেন সরবরাহকারীদের। এর ফলে ২৯ এপ্রিল থেকে ১০ মে -এই সময়ের মধ্যে দিল্লিতে অক্সিজেনের বরাত বাড়তে থাকে। পরবর্তী সময়ে দিল্লি সরকার যখন সেই ভুল সংশোধন করে যখন সঠিক তথ্য দেয়, তখন দেখা যায়, দিল্লির দৈনিক অক্সিজেনের প্রয়োজন ছিল ২০৯ মেট্রিক টন। ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। বেশ কয়েকটি রাজ্যেই অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে রোগী মৃত্যুর খবর আসতে থাকে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *