পদ্মশ্রী ডাঃ কে কে আগরওয়াল করোনায় মৃত্যুবরণ করার আগে বললেন ‘দ্য শো মাস্ট গো অন’

DR

Mysepik Webdesk: অতি সম্প্রতি স্বনামধন্য চিকিৎসক কে কে আগরওয়াল করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন। তিনি অবশ্য ভ্যাকসিনের দু’টি ডোজই গ্রহণ করেছিলেন। সাধারণভাবে বলা হচ্ছে ভ্যাকসিনের দু’টি ডোজ নেওয়া থাকলে মৃত্যুর সম্ভাবনা খুবই কম। কিন্তু দু’টি ডোজ গ্রহণ করেও করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এক্ষেত্রে ডাঃ আগরওয়ালের মৃত্যু তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মেদন্ত হাসপাতালের চিকিৎসক অরবিন্দ কুমার এই প্রসঙ্গে বলেছেন, “টিকা নেওয়ার পরেও অনেক কারণ ঘটে থাকতে পারে, যে কারণে এমন দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটতে পারে।” তিনি একটি নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরো বলেছেন যে, “এই নিয়ে আরো গবেষণা করা দরকার।” তিনি কিছু সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন, যাতে ভ্যাকসিনের দু’টি ডোজ নিলেও সংক্রমণের কারণে মৃত্যু হতে পারে।

ডাঃ কুমার বলেছেন যে, “সম্প্রতি উভয়ের টিকাকরণের হলে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, সেই সংখ্যা গতবারের তুলনায় এবার কম। আমরা ফেজ-৩ ট্রায়ালগুলিতে মৃত্যুর হার ০% ধরেছিলাম। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি অন্যরকম বলে মনে হচ্ছে।” এর অনেক কারণ থাকতে পারে। ডাঃ কুমার ইঙ্গিত দিয়েছেন— এমনও হতে পারে যে, উভয় ডোজ গ্রহণের পরেও পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি ছিল না বা এই স্ট্রেইনগুলির বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন কার্যকর ছিল না।

তবে মেদন্তের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জনসাধারণের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন যে, এর অর্থ এই নয় যে টিকাকরণ প্রক্রিয়াটি আদতে অকেজো। একশো শতাংশ সুরক্ষা নেই, তবে তবুও এটি মৃত্যু কিংবা গুরুতর অসুস্থতা প্রতিরোধে খুবই কার্যকর। ভ্যাকসিনই এখনো পর্যন্ত আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।

এদিকে বিশিষ্ট চিকিৎসক কে কে আগরওয়ালের মৃত্যুকে দেশের চিকিৎসক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশিষ্ট এই চিকিৎসকের পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, কোভিড নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর দিল্লির এইমসে তিনি ভর্তি ছিলেন গত কয়েকদিন ধরে। ক্রমাগত এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে চালিয়েছিলেন লড়াই। ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়েছিল তাঁকে। অবশেষে জীবনযুদ্ধে করোনাভাইরাসের কাছে হার স্বীকার করতে হয় স্বনামধন্য এই পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত চিকিৎসককে।

মৃত্যুকালে ডাঃ কে কে আগরওয়ালের বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। মহামারি সময় তিনি আমজনতাকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে ১০ কোটি মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিয়েছেন তাঁর তৈরি করা ভিডিয়ো। মাত্র দু’সপ্তাহ আগে তিনি ফেসবুকে একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছিলেন। তিনি যে করোনায় আক্রান্ত, সে-কথা প্রকাশ্যে সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়। তিনি বলেছিলেন, তাই বলে আমাদের লড়াই থামালে চলবে না। এই মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি রাখতেই হবে। ‘দ্য শো মাস্ট গো অন’। থেমে না যাওয়ার মন্ত্র দিয়ে সোমবার রাত এগারোটা নাগাদ আনন্দলোক যাত্রা করেন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *