ইউটার্ন পাকিস্তানের, ভারত থেকে তুলো ও চিনি আমদানিতে ‘না’ ইমরান মন্ত্রিসভার

Mysepik Webdesk: বুধবার পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সমন্বয় কমিটি (ইসিসি) ভারত থেকে তুলো ও চিনি আমদানির প্রস্তাবকে অনুমোদন দিয়েছিল, যা ইমরান মন্ত্রিসভা প্রত্যাখ্যান করেছে। বুধবার ইসিসি ভারত থেকে চিনি, তুলো আমদানির ঘোষণা করেছিল। পাকিস্তানের মানবাধিকার মন্ত্রী শিরিন মাজরি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে আর্টিকেল ৩৭০-এর অধীনে জম্মু ও কাশ্মীরকে দেওয়া বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না।

আরও পড়ুন: বলিউডি সুরে জমে উঠল ইন্দো-মার্কিন বন্ধুত্ব

ইসিসির সভাপতিত্বে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী হামমাদ আজহার ভারত থেকে আমদানির ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, ভারত থেকে ৫০ লাখ টন চিনি আমদানির প্রস্তাব ইসিসি অনুমোদন করেছে। চিনি ছাড়াও জুনের মধ্যে তুলো আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা অপসারণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। আজহার বলেছিলেন যে, দেশে চিনির ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে এবং এর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত থেকে আমদানি অনুমোদিত হয়েছে। ভারত থেকে সংগ্রহ করা চিনি অন্যান্য দেশের থেকে কেজি প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা সস্তা পড়বে। তিনি আরও বলেন যে, প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে তুলো আমদানি করলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার ক্ষেত্রেও ফায়দা হবে।

আরও পড়ুন: খুব শীঘ্রই শিশুদের জন্যও চালু হবে করোনার ভ্যাকসিন!

এদিকে, ভারত থেকে চিনি ও তুলো সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তান সরকার বিরোধী দলগুলির তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছিল। পাকিস্তান মুসলিম লিগের নেতা আহসান ইকবালের জানিয়েছিলেন, ইমরান সরকারের ব্যর্থতার মূল্য চোকাচ্ছে পাকিস্তানের মানুষ। ইকবাল ইসলামাবাদে বলেছিলেন যে, “আমি জানতে চাই আর্টিকেল ৩৭০ নিয়ে ভারত কি তার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছে? ভারত কি কোনও ছাড় দিয়েছে? এসবই প্রমাণ করে যে, সরকার দেশকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।”

পাক অর্থমন্ত্রীর কথায়, শস্য নষ্টের কারণে পাকিস্তান ভারত থেকে আমদানির কথা ভেবেছে। এ সম্পর্কে ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী রেহাম খান সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন যে, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে, অন্যদিকে ভারতে এত তুলো হয়েছে যে, তারা অন্য দেশে তা বিক্রি করছে। তবে আপাতত পাকিস্তান সরকার ইউটার্ন নিয়েই জানিয়ে দিয়েছে যে, আর্টিকেল ৩৭০-এর অধীনে জম্মু ও কাশ্মীরকে দেওয়া বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না। ততদিন পর্যন্ত তুলো ও চিনি তারা ভারত থেকে আনাবে না।

Similar Posts:

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *