Latest News

Popular Posts

পরিতোষ চক্রবর্তী: বাংলার ফুটবলের এক অবিসংবাদিত প্রতিভা

পরিতোষ চক্রবর্তী: বাংলার ফুটবলের এক অবিসংবাদিত প্রতিভা

অসিত কুমার বসু রায় চৌধুরী

কোভিড নামক মারণব্যাধি যখন গ্রাস করেছে সমগ্র সমাজকে। সামাজিক দূরত্ব রক্ষার্থে বাতিল হয়েছে বহু ম্যাচ। আবার কখনও কখনও দর্শক আসন শূন্য রেখে খেলা এগিয়ে গেছে খেলার গতিতে। এরকম এক পরিস্থিতিতে ক্রীড়াজগতের কিছু মানুষের কথা স্মরণ করার মাধ্যমেও পাওয়া যাতে পারে খেলার মাঠের কাল্পনিক উত্তেজনা ও বিনোদনের নির্যাস, যা আমাদের দিতে পারে মানসিক স্ফূর্তি ও সতেজতা।

আরও পড়ুন: সতেরো সেকেন্ডের অক্সিজেন

শ্রদ্ধেয় পরিতোষ চক্রবর্তী বাংলার ফুটবলের ইতিহাসে বর্ণময় এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হয়েও কোনও এক অজ্ঞাত কারণে আজ প্রায় বিস্মরণের নির্জন দ্বীপের অধিবাসী। বাংলার ফুটবলে তখন প্রায় প্রভাতকাল। সেই সময় ফুটবল মনস্ক যে কয়েকজন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি বাংলার ফুটবলকে পরাধীন ভারতের দরবারে উজ্জ্বল আসনটি দিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন পরিতোষ চক্রবর্তী। প্রাথমিকভাবে তাঁর সৃষ্টিশীলতার প্রকাশ ঘটেছে খেলাধুলো, বিশেষকরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করেই।

অত্যন্ত সাধারণ মধ্যবিত্ত চক্রবর্তী পরিবার ১৯০২ সালে পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর জেলা থেকে কলকাতার ভবানীপুর অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে চলে আসে, পরবর্তী সময়ে তাঁরা পাকাপাকিভাবে ঢাকুরিয়ায় এসে বসবাস করতে শুরু করেন। এই ঢাকুরিয়া অঞ্চলে ১৯১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে পরিতোষ চক্রবর্তী জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম নীলমাধব চক্রবর্তী ও মাতার নাম পূর্ণশশী দেবী। পরিতোষ চক্রবর্তীরা ছিলেন সাত ভাই ও দুই বোন। তিনি ছিলেন ভাইদের মধ্যে ষষ্ঠ। বাল্য বয়স থেকেই পরিতোষ চক্রবর্তীর পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে খেলাধুলোর প্রতি ভীষণ ভালোবাসা ছিল, বিশেষ করে ফুটবলের প্রতি ছিল অত্যন্ত আকর্ষণ। তাঁর বিদ্যালয় জীবন অতিবাহিত হয়েছিল বালিগঞ্জের জগবন্ধু ইনস্টিটিউশনে। স্কুলজীবন থেকেই তাঁর ফুটবল খেলার প্রতিভার বিকাশ ঘটে। এই বিদ্যালয়ের হয়ে তিনি বেশ কিছু ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন এবং প্রতি ক্ষেত্রেই সাফল্য লাভ করেন। বিদ্যালয়ের পাঠ সাফল্যের সঙ্গে সমাপ্ত করে তিনি কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজে প্রবেশ করেন। এই কলেজে থাকাকালীন তাঁর ফুটবল জীবনের ক্রমশ উত্তরণ ঘটতে থাকে। এই কলেজের সমস্ত রকম ফুটবল প্রতিযোগিতায় তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে নিজের ফুটবল খেলার চর্চা সমানভাবে চালিয়ে যেতেন।

আরও পড়ুন: ২৪ জুলাই: মহানায়কের মৃত্যুর চার বছর আগে

পরিতোষ চক্রবর্তীর খেলোয়াড় জীবন অত্যন্ত বর্ণময় ও বিচিত্র। বঙ্গবাসী কলেজে পড়ার সময় ওই কলেজে খেলাধুলোর ক্ষেত্রে দক্ষতা দেখানোর কারণে তিনি অতিপরিচিত হয়ে ওঠেন। ওই সময় বোলপুর শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবাসী কলেজের ফুটবল দলকে খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বঙ্গবাসী কলেজের ফুটবল টিম শান্তিনিকেতনে যায় এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল টিমের সঙ্গে এক প্রদর্শনী ম্যাচে অংশগ্রহণ করে। এই খেলা চলাকালীন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং মাঠে উপস্থিত থেকে খেলার আনন্দ উপভোগ করেন, বঙ্গবাসী কলেজের ফুটবল খেলোয়াড়দের খেলা দেখে তিনি বিশেষভাবে উল্লসিত হন। তাঁর আনন্দের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ তিনি প্রত্যেক খেলোয়াড়কে নিজের হাতে তাঁর রচিত ‘গীতাঞ্জলি’র একটি করে অনুলিপি উপহার দেন। এই উপহার পরিতোষ চক্রবর্তীকে যে কী আনন্দ দিয়েছিল, তা সারাজীবন তিনি সবার কাছে সুযোগ হলে বলতেন গল্পের ছলে।

অতঃপর ১৯৩৫ সালে দাদা শিশির চক্রবর্তীর হাত ধরে তিনি কলকাতার ময়দানে প্রবেশ করেন। তাঁর দাদা শিশির চক্রবর্তী তখন সুনামের সঙ্গে এরিয়ান ক্লাবে খেলতেন, তাই তিনি ভাই পরিতোষ চক্রবর্তীকে এরিয়ান ক্লাবে নিয়ে আসেন। এটি হল তাঁর জীবনে ময়দানের প্রথম ক্লাবে খেলা। এই ক্লাব থেকেই তাঁর ফুটবল জীবনের ক্রমশ উত্থান ঘটতে থাকে। এই এরিয়ান ক্লাবে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং বর্ণময়। এখানে তিনি দু’টি মরশুম কাটিয়ে ১৯৩৯ সালে মোহনবাগানের কোচ বলাই দাস চট্টোপাধ্যায়ের আহ্বানে ওই ক্লাবে যোগদান করেন। দলগত ক্রীড়ানিপুণতায় ১৯৩৯ সালে মোহনবাগান ক্লাব সর্বপ্রথম কলকাতা লিগ বিজয়ী হয়, আর সেক্ষেত্রে পরিতোষ চক্রবর্তীর ভূমিকা উল্লেখের দাবি রাখে। এরপর ১৯৪০ সালে এক অজ্ঞাত কারণে তিনি অপমানিত হয়ে মোহনবাগান ক্লাবে যাওয়া বন্ধ করে দেন। ১৯৪১ সালে তিনি কলকাতার কালীঘাট ক্লাবে যোগদান করেন। কিন্তু সেখানেও তিনি বেশিদিন স্থায়ী হননি। এরপর ১৯৪২ সালে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের তৎকালীন ফুটবল সেক্রেটারি জ্যোতিষ চন্দ্র গুহের আহ্বানে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে যোগদান করেন। সৌভাগ্যবশত ১৯৪২ সালে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব দীর্ঘ বাইশ বছর অপেক্ষার পর সর্বপ্রথম কলকাতার লিগ জয়লাভ করে। ইস্টবেঙ্গলের এই কলকাতার লিগ জয়ের ক্ষেত্রে মূল অবদান যাঁদের ছিল, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন পরিতোষ চক্রবর্তী। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে থাকাকালীন তাঁর জীবন নানা খ্যাতির অলংকারে ভূষিত হয়। তাঁর উপস্থিতিতে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল ওই দু’টি ক্লাব সর্বপ্রথম কলকাতার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়। শুধুমাত্র এই নজিরবিহীন সাফল্যের কারণে কলকাতার ফুটবলের ইতিহাসে তিনি উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসাবে বিরাজ করবেন। এখানেই শেষ নয়, ১৯৪৩ সালে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব তাঁর উপস্থিতিতে কলকাতার এইএফএ শিল্ড প্রথমবার জয়লাভ করে, সেটি ক্লাবের পক্ষে অত্যন্ত গর্বের। তাঁর সাফল্যের সীমারেখা আরও বিস্তারিত হয়ে মহিরুহে পরিণত হয়। তাঁর অধিনায়কত্বে ক্লাব ১৯৪৫ সালে একইসঙ্গে কলকাতা লিগ ও আইএফএ শিল্ড জয়ী হয়, একই বছরে দ্বিমুকুট লাভ করে। তাঁর ক্রীড়া জীবনে অসাফল্যের থেকে সাফল্যের ভাগ্য অনেক বেশি ছিল। একজন ফুটবল খেলোয়াড় হিসাবে তিনি গর্বিতবোধ করতে পারতেন, অথচ তিনি কখনও কারও কাছে কোনও রকম অহংকার বা আত্মগরিমা প্রকাশ করেননি। বরং সহ-খেলোয়াড়দের সঙ্গে একাত্মভাবে মিশে যেতেন, তাদের অনুপ্রেরণা দিতেন। ফলে দলের খেলোয়াড়রাও তাদের ক্রীড়া দক্ষতা যথাযথভাবে প্রকাশের চেষ্টা করত। কলকাতায় প্রতিবছর ইউরোপিয়ানদের সঙ্গে ভারতীয়দের একটা প্রদর্শনী ম্যাচ হত। ১৯৪৫ সালে ভারত একাদশ বনাম ইউরোপিয়ান একাদশের মধ্যে একটি ম্যাচ খেলা হয়েছিল এবং সেই খেলায় পরিতোষ চক্রবর্তী অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং খেলাটিতে ভারতীয় একাদশ ৪-১ গোলে জয়লাভ করেছিল। দুর্ভাগ্যবশত যথেষ্ট ক্রীড়া দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও ১৯৪৮-এর অলিম্পিক ফুটবল দলে রহস্যজনকভাবে পরিতোষ চক্রবর্তীকে অন্তর্ভুক্ত করা হল না; তিনি খেললে হয়তো আরেকটা নতুন পালক তাঁর মুকুটে যোগ হত।

আরও পড়ুন: চিরকুমার উত্তম-ফুটবল

এইভাবে ১৯৩৬ সাল থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ক্রীড়া মাঠে কাটিয়ে তিনি সসম্মানে খেলোয়াড় জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন। কিন্তু খেলা থেকে অবসর নিয়েও তিনি মাঠ-ময়দান থেকে সরে আসেননি। নানা ক্রীড়া সংগঠকদের সঙ্গে মিলিত হয়ে খেলাধুলোর উন্নতির জন্য কাজ করে গেছেন। বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে ১৯৫৪ সালে বাংলার অভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়ে তিনি ভেটারেন্স ফুটবল ক্লাব গড়ে তোলেন। পরবর্তীকালে ওই ক্লাবের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ভেটারেন্স স্পোর্টস ক্লাব। ফুটবল ছাড়াও তিনি অন্যান্য খেলাধুলোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ওয়েস্ট বেঙ্গল স্কুল স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। খেলাধুলোর অন্যান্য ক্ষেত্র, বিশেষত অ্যাথলেটিক্সের প্রতি তাঁর ছিল অত্যন্ত ভালোবাসা। ভলিবল খেলাতেও তিনি জাতীয় প্রতিযোগিতায় বাংলা দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর কর্মস্থল ছিল কাস্টমস অফিস। সেই সংস্থাতেও খেলাধুলো সংক্রান্ত ব্যাপারে তাঁর বিশেষ অবদান ছিল। সাংসারিক জীবনে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করে গেছেন অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে। আত্মীয়, পরিজন, বন্ধু-বান্ধব সবার সঙ্গে তাঁর মেলামেশা ছিল অবাধ, অনাবিল। ব্যক্তিগত জীবনের এত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি ১৯৬৯ সালে তাঁর আত্মজীবনী লিখে গেছেন।

জীবনে বহু প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়ে, ভালোয়-মন্দয় দিন কাটিয়ে অবশেষে এই দিক্‌পাল খেলোয়াড় ১৯৯৪ সালের ২২ এপ্রিল তাঁর আত্মীয়-পরিজন ও আপামর ফুটবল ক্রীড়ারসিক মানুষদের মায়া কাটিয়ে পরলোক গমন করেন। আজকে তাঁর সেই খেলোয়াড়ি মনোভাবের, লড়াকু জীবনের আদর্শের বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক আগামী প্রজন্মের কাছে, ইতিহাসকে সাক্ষী করে বর্তমান প্রজন্ম উজ্জ্বল করে তুলুক তাদের ভবিষ্যৎকে।

● ৭৩ ঊর্ধ্ব লেখক অসিত বসু রায় চৌধুরী একজন অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি কর্মচারী। কমার্সের ছাত্র হয়েও ফোটোগ্রাফির হাতছানি এড়াতে পারেননি কৈশোর থেকেই। কলকাতার মাঠে ময়দানে ক্যামেরা হাতে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন; বহুসময় স্নেহধন্য হয়েছেন বিশিষ্ট ফুটবল তারকাদের। চাকরি জীবনে অবসর গ্রহণের আগেই সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। প্রবীণ এই নাগরিকের আন্তরিক ইচ্ছা বাংলার বিস্মৃত খেলোয়াড়দের তাঁর লেখনীর মাধ্যমে জনসমক্ষে নিয়ে আসা।

টাটকা খবর বাংলায় পড়তে লগইন করুন www.mysepik.com-এ। পড়ুন, আপডেটেড খবর। প্রতিমুহূর্তে খবরের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন। https://www.facebook.com/mysepik

Related Posts

21 thoughts on “পরিতোষ চক্রবর্তী: বাংলার ফুটবলের এক অবিসংবাদিত প্রতিভা

  1. অসাধারণ..প্রণাম নিও..শিবদাস ভাদুড়ী কে নিয়ে জানতে চাই

  2. খুব সুন্দর লেখাটা
    বিসৃতির অতল থেকে আলোয় নিয়ে এসেছ অনেক অজানা কাহিনী।
    আমরা আরও কিছু জানতে চাই।

  3. দারুণ লেখা হয়েছে। পড়ে অনেক কিছু জানা গেল। এইরকম আরও লেখা পেলে খুব ভালো লাগবে।

  4. স্যার একটি অসামান্য কাজ করছেন আপনি। এমন অজানা তথ্য গুলো আজকের সময়ে জানা খুব জরুরী। অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল।

  5. অসিত বাবু কে অনেক ধন্যবাদ l লেখাটি যতটা তথ্যসমৃদ্ধ, তেমনি মনোগ্রাহী l অতীত দিকপাল খেলোয়াড়দের কীর্তি ও সংগ্রামী জীবন, এই প্রজন্ম কে শুধু শিক্ষাই দেয় না – গৌরবান্বিত ও করে l ভুলে যাওয়া বাঙালীদের গৌরব গাথা সবার সামনে তুলে ধারার জন্য অসিত বাবুকে আরেকবার সাধুবাদ l ভবিষ্যতে এরকম আরো অনেক গল্পগাথা তার লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ পাবে – এই আশায় রইলাম l

  6. লেখকের লেখাকে সম্মান দিয়েই বলছি, পড়িতোষ বাবুর জীবনী নিয়ে একটি বিস্তারিত লেখা আমি অনেক পূর্বেই ইস্টবেঙ্গল সমাচার পত্রিকায় প্রকাশিত করেছি… আমার সেই লেখার সাথে এই লেখার অভূতপূর্ব মিল… কিছু ক্ষেত্রে ভাষার ই যা পরিবর্তন করা হয়েছে…. যাই হোক, ভালো থাকবেন…

  7. প্রথমেই সাধুবাদ জানাতে চাই বর্ষীয়ান লেখক অসিত কুমার বসু রায় চৌধুরীকে। কোভিডের দমবন্ধ পরিবেশে আপনার এই লেখাটা আমাকে অক্সিজেন দিল। বহু অজানা তথ্য ও ঘটনা জানতে পারলাম, এক কথায় সমৃদ্ধ হলাম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন আমাদের সবার, ঠিক তেমনি স্বর্ণ যুগের এই খেলোয়াড়রা আমাদের একান্ত আপন। রবি ঠাকুরকে নিয়ে সৌভাগ্যবশত: চর্চা হয়, কিন্তু বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাওয়া এই কৃতী খেলোয়াড়দের নিয়ে ক’জন চর্চা করতে পারেন, বলুন?

    ঈশ্বর আপনাকে সুস্থ রাখুন; আরো আরো লেখা পড়তে চাই আপনার। রবি ঠাকুরের কথায় বলি, ‘জয়যাত্রায় যাও গো/ওঠো জয়রথে তব।’

    1. ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষেও যেসব ফুটবলাররা প্রায় অন্ধকারেই রয়ে গেছে, ভারতীয় ফুটবল যাঁদের কাছে ঋণী, যাঁদের ঋণ সেভাবে স্বীকার করা হয় না- এই অবসরপ্রাপ্ত জীবনে তাঁদের ঋণ জনসমক্ষে তুলে ধরা, নতুন করে ফুটবলের প্রাক্তন তারকাদের জীবনকথা আন্তর্জালিক মাধ্যমে মেলে ধরার অনন‍্য প্রয়াসকে কুর্নিশ জানাই।

  8. আপনার সংগ্রহের কথা অনেক শুনেছি আর খেলার মাঠে আপনার যাতায়াতের খবরও অনেক পাই। আপনি যে আপনার সংগ্রহের আর আপনার অভিজ্ঞতার কাহিনী আমাদের সকলের সামনে তুলে ধরেছে, এই প্রচেষ্টাকে আমি কুর্নিশ জানাই। ভবিষ্যতে এইরকম আরও লেখার আশায় রইলাম। আপনার এই লেখা অত্যন্ত তথ্যসমৃদ্ধ সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আপনার এই প্রচেষ্টাকে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য প্রকাশককেও আন্তরিক ধন্যবাদ।

  9. আপনার লেখনীর মধ্যে অভিনবত্ব রয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রচুর অজানা তথ্যের সন্ধান মিলেছে আপনার লেখায়। এই ধরণের আরো লেখার প্রত্যাশায় রইলাম। যে সমস্ত খেলোয়াড়রা পাদপ্রদীপের অন্ধকারে রয়ে গেছেন তারা এভাবেই অমল আলোয় আলোকিত হয়ে উঠুক। আপনাকে সাধুবাদ জানাই নতুন প্রজন্ম আপনার লেখনীর মাধ্যমে সমৃদ্ধ হবে।

  10. অসিতবাবু আপনার লেখনীর মধ্যে অভিনবত্ব রয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রচুর অজানা তথ্যের সন্ধান মিলেছে আপনার লেখায়। এই ধরণের আরো লেখার প্রত্যাশায় রইলাম। যে সমস্ত খেলোয়াড়রা পাদপ্রদীপের অন্ধকারে রয়ে গেছেন তারা এভাবেই অমল আলোয় আলোকিত হয়ে উঠুক। আপনাকে সাধুবাদ জানাই নতুন প্রজন্ম আপনার লেখনীর মাধ্যমে সমৃদ্ধ হবে।

  11. অত্যন্ত ভাল মানের একটি লেখা। আরো লেখার অপেক্ষায় রইলাম। আপনাদের মতো বয়স্ক মানুষরাই আমাদের অনুপ্রেরণা।

  12. আমার একবার সৌভাগ্য হয়েছিল আপনার সংগ্রহ দেখার। খুব ভাল কাজ করেন আপনি। শুধ খেলাই নয় অন্যান্য অনেক বিষয়েই আপনার আগ্রহ আছে। এভাবেই প্রতিভার বিকাশ হোক। লেখা অত্যন্ত মনোগ্রাহী। প্রণাম নেবেন। ভাল থাকবেন।

  13. খেলার মাঠে বিভিন্ন সময় আপনাকে দেখেছি কিভাবে আপনি খেলোয়াড়দের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। তাই আপনার অভিজ্ঞতার চোখ দিয়ে আপনি অনেক কিছুই পর্যবেক্ষণ করেছেন। তারই একফালি আমাদের সামনে তুলে ধরলেন। আরো অনেক খেলোয়াড়কে নিয়ে এই ধরণের মনোগ্রাহী লেখার অপেক্ষায় রইলাম।

  14. লেখা পড়ে ভীষণ ভালো লাগল। অনেক নতুন তথ্য জানতে পারলাম। অত্যন্ত সুন্দর লেখনী। ভাল থাকবেন।

  15. Ek Kathai ” Asadharan ”
    Ichha o uddomer kache boysh kichu noi
    Aro Sundar Sundar lekha beriye asuk ap apnar theke tahole amra aro kichu jante parbo

  16. অসাধারন…অনেক না জানা তথ্য নতুন মহিমায় সামনে এলো।
    আরও অনেক কিছু জানার ইচ্ছে রইলো।

  17. অসাধারণ…অনেক অজানা তথ্য নতুন মহিমায় সামনে এলো…
    আরও অনেক কিছু জানার ইচ্ছে রইলো।

  18. খুবই ভালো লাগল লেখাটি পড়ে। অনেক অনেক তথ্য জানতে পারলাম। যাঁদের নিয়ে চর্চা এখন প্রায় হয় না বললেই চলে, তাঁদের মধ্য একজনকে তুলে ধরেছেন আপনার লেখনীর মাধ্যমে। এত তথ্যসমৃদ্ধ একটি লেখা পড়বার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ জানাই আপনাকে, এই ধরনের আরও অনেক লেখার অপেক্ষায় রইলাম। ভালো থাকবেন।

  19. ভুলে যাওয়া এক বাঙালি ফুটবলার এর এই জীবন গাঁথা, গেঁথে থাকুক সকলের মনে। ধন্যবাদ স্যার আপনাকে এটা তুলে ধরার জন্য।

  20. খুব ভাল লাগল লেখা পড়ে। আপনি সবসময়ই ভাল কাজের সাথে যুক্ত। বিভিন্ন বিষয়ে আপনার কাজ আছে। খেলোয়াড়দের নিয়ে আরো লিখুন। আমরা সমৃদ্ধ হব। ভাল থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *