কৃষক আন্দোলনের জের: পঞ্জাব পুরভোটে ধরাশায়ী বিজেপি, পটভূমিতে শুনুন এক বাঁশিওয়ালার গপ্পও

Mysepik Webdesk: পঙ্খ হতে তো উড় যাতি রে… এই গানের সুরে বাঁশিতে সুর তুলতেন একজন। ব্যস, বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে কর্তারপুরের মানুষজন তৎক্ষণাৎ আকৃষ্ট হয়ে পড়তেন। তিনি কোনও পেশাদার বাঁশিবাদক নন। প্রচারও চাননি কখনও। তবে কর্তারপুরে, গত প্রায় ২০ বছর ধরে, প্রতিটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাঁশি বাজান সাবা। বাঁশি বাজানো সাবার কোনও পেশা নয়, এটি তাঁর আবেগ। এবার নির্বাচনী প্রচারেও যা নতুন সুর পেয়েছিল। উল্লেখ্য যে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্জাবে পুরভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রদেশ দুর্ঘটনায় মৃত বেড়ে ৫১, জলের স্রোতে পাতার মতো ভেসে গিয়েছে ৫ মাসের শিশু, শোকের পরিবেশ চারিদিকে

পঞ্জাবের কর্তারপুরে ১৫টি ওয়ার্ডে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরমধ্যে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ৬টি আসন জয়লাভ করেছে। বিজেপি কার্যত ধরাশায়ী হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, দিল্লিতে কৃষক আন্দোলন এবারের পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। তবে এই আবহে অন্য গল্প বলব। কর্তারপুরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতীক ছিল বাঁশি। নির্বাচনী প্রতীক বাঁশির প্রার্থীরা প্রচারে সাবার কাছে প্রচুর সহায়তা পেয়েছিলেন।

সাবা প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি বড় অনুষ্ঠানে বাঁশি বাজিয়ে নিজের উপস্থিতি জানানও দিয়েছিলেন। নির্বাচনের পরিবেশ বাঁশুরিয়া সাবাকে দেওয়া হয়েছিল বাঁশি চিহ্নের টি-শার্ট। এই সাবা একটি দোকানে কাজ করেন। প্রায় দুই দশক ধরে শহরে অনুষ্ঠিত প্রতিটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাঁশি বাজান এবং এ-থেকে কোনও অর্থ নেন না। নির্বাচনেও তিনি কারও কাছ থেকে কোনও টাকা নেননি, এমনকী প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতীক বাঁশি হলেও তাঁর আদর্শচ্যুতি হয়নি। তাঁর কাছে প্রতিদ্বন্দ্বী সকল প্রার্থী সমান এবং তিনি সকলের কাজকর্মে অংশ নিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন। এভাবেই এলাকায় রিকশায় কিংবা ভ্যান রিকশায় চলছিল নির্বাচনী প্রচার।

আরও পড়ুন: খোলা বাজারেও মিলবে করোনার টিকা, কিন্তু কবে থেকে? জানালেন এইমসের ডিরেক্টর

কর্তারপুর থেকে ৭২ জন প্রার্থী নির্বাচনী ময়দানে ছিলেন। এমন অবস্থা হয়েছিল যে, এলাকায় রিকশা কম পড়ে গিয়েছিল। কারণ প্রার্থীরা রিকশায় রিকশায় নির্বাচনী প্রচার সেরেছিলেন। প্রার্থী প্রদীপ আগরওয়াল কথায়, গড়ে প্রতি প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারের জন্য দুই থেকে তিনটি রিকশা ব্যবহার করেছিলেন। এ-কারণে রিকশার ভাড়াও বেশি নেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। রিকশায় রিকশায় লাউডস্পিকার লাগিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালানো হয়েছিল।

উল্লেখ্য, নির্বাচনের ফলাফলের পরে আজাদ এখানে কিং মেকার হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। কর্তারপুরের ১৫টি ওয়ার্ডে কংগ্রেস ৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৯টি আসন জিতেছে। জয়ের পরে নেতারা সমর্থকদের সঙ্গে ঢোল বাজিয়ে সিলিব্রেশনে মেতেছেন এবং ভোটারদের তাদের ওয়ার্ডে গিয়ে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। বিজয়ী কাউন্সিলররা মন্দির এবং গুরদোয়ারা পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুন: রাতভর পার্টি, বেঙ্গালুরুর একটি অ্যাপার্টমেন্টে আক্রান্ত ১০৩

Image result for punjab election

এছাড়াও বুধবার সকাল থেকে পঞ্জাবের ৮টি কর্পোরেশন এবং ১০৯টি মিউনিসিপাল কাউন্সিল আর নগর পঞ্চায়েতের ভোট গণনা শুরু হয়েছিল। ৭টি কর্পোরেশন-সহ অধিকাংশ পুরসভাই কংগ্রেসের দখলে যায়। একক শক্তিতে এবং নির্দলদের সঙ্গে নিয়ে পঠানকোট, বাটালা, হোশিয়ারপুর, অবোহর, ভাতিন্ডা, কপূরথলা, মোগা, কর্পোরেশন দখল করে কংগ্রেস। অন্যদিকে, বিজেপি জিতেছে ৭টি মাত্র আসনে। উল্লেখ্য যে, ‘অকালি গড়’ নামে পরিচিত ভাতিন্ডায় ৫৩ বছর পর জয় পেল কংগ্রেস।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *