প্লাস্টিকজাত দ্রব্য ধ্বংস করবে বাঙালি বিজ্ঞানী স্বপন কুমার ঘোষের বিরল আবিষ্কার

Mysepik Webdesk: রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ শতবার্ষিকী কলেজের বোটানির অধ্যাপক ডাঃ স্বপন কুমার ঘোষ। মানুষটি গবেষণা করেন ক্যানসার নিয়েও। তিনি একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছেন, যা নিয়ে সাড়া পড়ে গিয়েছে বাংলার বিজ্ঞানমহলে। প্লাস্টিকজাত দ্রব্য ধ্বংসকারী ছত্রাক এবং ব্যাকটিরিয়া আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানী স্বপন কুমার ঘোষ। প্রায় ১০ বছরের এই গবেষণা। প্রতিদিনের জীবনে ব্যবহারকারী ক্যারিব্যাগ, জলের বোতল, স্যালাইনের বোতল কিংবা ইনজেকশনের সিরিঞ্জ সবই ধ্বংস করতে সক্ষম নব-আবিষ্কৃত ব্যাকটেরিয়া।

আরও পড়ুন: শতাব্দী পেরিয়ে ভ্যাকসিনের ইতিকথা: স্মলপক্স-বিসিজি থেকে করোনার ভ্যাকসিনের দিকে ভারত

উল্লেখ্য যে, এই জাতীয় দ্রব্যগুলির রিসাইকেল হয় না। সেই কারণে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে। দূষণের মাত্রা বাড়ায় প্লাস্টিক। প্লাস্টিক এমন এক রাসায়নিক পদার্থ, যা পরিবেশে পচতে অথবা কারখানায় পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করতে প্রচুর সময় লাগে। তাই এটিকে ‘অপচ্য পদার্থ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। উদ্ভিদকূল, জলজ প্রাণী, দ্বীপ অঞ্চলের প্রাণীরা বর্জ্যের কারণে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। কেবলমাত্র উদ্ভিদ বা জলজ প্রাণী নয়, মানুষও প্লাস্টিক দূষণের শিকার। থাইরয়েড হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণের জন্য প্লাস্টিক দূষণ পরোক্ষভাবে দায়ী। তবে স্বপনবাবুর আবিষ্কার আশার আলো দেখাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ৫ লাখ ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বোতল দিয়ে বিলাসবহুল রিসর্ট বানালেন ৪ যুবক

উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহে বাস এই বাঙালি বিজ্ঞানীর। প্লাস্টিকজাত দ্রব্যগুলির প্রায় ২৪ শতাংশ রিসাইকেল হয়ে থাকে। অন্যদিকে, ৩.৮ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য আকারে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। এর থেকে বাঁচতেই প্লাস্টিকজাত দ্রব্যকে ধ্বংস করার ফরমুলা এবং ১৫টি প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক আবিষ্কার করেছেন তিনি। এরফলে মাটিতেই নষ্ট হবে প্লাস্টিক। জানা গিয়েছে যে, এক ফরাসি কোম্পানির কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েও আবিষ্কার স্বত্ব বিক্রি করতে রাজি হননি স্বপন কুমার ঘোষ। কারণ তিনি চান বাংলার জন্য কাজ করতে। রাজ্যের কর্পোরেশনগুলিকে তাঁর আবিষ্কৃত ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়াকে ব্যবহার করার সুযোগ করে দিতে চান তিনি। এর ফলে এই বঙ্গে প্লাস্টিক দূষণের সমস্যা অনেকটাই মিটবে বলে মনে করেন স্বপনবাবু।

Facebook Twitter Email Whatsapp

2 comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *