রক্তক্ষরণ নিয়ে খেলে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা কাকে বলে, তা দেখালেন মেসি

Mysepik Webdesk: অন্য কোনও ফুটবলার হলে হয়তো অমন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হতেন। কিন্তু তিনি লিওনেল মেসি। বিপক্ষ কলম্বিয়ার ডিফেন্ডারদের ট্র্যাকেলে মেসেজ একটি সময় পায়ে চোট পেয়েছিলেন লিও মেসি। এমনকী তাঁর গোড়ালি থেকে রক্তক্ষরণ হতেও দেখা যায়। কিন্তু আর্জেন্টিনীয় দলনায়ক মাঠ ছাড়েননি। দেশের প্রতি এবং দলের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং খেলার প্রতি তীব্র আবেগ থাকলেই এমনটা সম্ভব হয়। দলনায়ক যদি নিজেই চোট পি বসে যান, তবে বাকিদের মনোবলে প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই মেসি মাঠে ছিলেন পুরো ৯০ মিনিট। নির্ধারিত সময়ে সেমিফাইনালের ম্যাচটি ১-১ অবস্থায় শেষ হল। এরপর টাইব্রেকারে প্রথম শটটি নিতে আসলেন ‘এলএম১০’। এবং অসাধারণ পেনাল্টি শ্যুটআউটে গোলও করলেন। তাঁর দলও জিতে কোপা আমেরিকার ফাইনালে প্রবেশ করল। ব্যথা নিয়েও যে এমন পারফরম্যান্স করা যায়, তা প্রমাণ করলেন লিও মেসি। আর তা দেখে তাঁর উত্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

আরও পড়ুন: অলিম্পিকের ১৬ দিন আগে বদলে গেল কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী, কিরেন রিজিজুর স্থলাভিষিক্ত অনুরাগ ঠাকুর

ম্যাচের সপ্তম মিনিটে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম গোলটি করেছিলেন লুটারো মার্টিনেজ। এই গোলটির ক্ষেত্রে মেসি সহায়তা করেছিলেন। প্রথমার্ধ শেষ হয়েছিল আর্জেন্টিনার পক্ষে ১-০ অবস্থায়। তবে ম্যাচের ৬১ মিনিটে লুইস ডিয়াজ গোল করে কলম্বিয়াকে সমতায় ফেরান। এর ঠিক ৬ মিনিট আগে ৫৫ মিনিটে কলম্বিয়ার ফ্র্যাঙ্ক ফ্যাবরা মেসির কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য তাঁর পায়ে জোরালো ভাবে আঘাত করে বসেন। আর্জেন্টিনার অধিনায়কের গোড়ালি থেকে শুরু হয়ে যায় রক্তক্ষরণ। রেফারি ফ্যাবরাকে হলুদ কার্ড দেখান। উল্লেখ্য যে, আর্জেন্টাইন ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের হয়ে খেলেন এহেন ফ্যাবরা।

আরও পড়ুন: ‘ক্যাপ্টেনে’র জন্মদিন

https://twitter.com/BoadiAsemah/status/1412632243508551683?s=20

আগামী রবিবার ১১ জুলাই ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে পাঁচটায় রয়েছে বহু প্রতীক্ষিত আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিলের ফাইনাল ম্যাচটি। ম্যাচটি হবে রিও ডি জেনিরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে। এর আগের দিন তৃতীয় স্থান নির্ণায়ক ম্যাচটি হবে কলম্বিয়া এবং পেরুর মধ্যে। আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছে ১৪ বার। শেষবার তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেই ১৯৯৩ সালে। এরপর থেকে কোপা আমেরিকার শিরোপা তাদের অধরা। এদিকে মেসিও চাইবেন দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক একটি ট্রফি জিততে। সেই কারণে মরিয়া হয়েই মেসির নেতৃত্বে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে আগামী রবিবার উদ্বুদ্ধ হয়ে মাঠে নামতে চলেছে আকাশি-সাদা ব্রিগেড। তার আগে অবশ্য চোট পেয়েও দেশের প্রতি দায়বদ্ধ মেসিকে দেখে মনে হচ্ছিল— ‘আঘাত সে যে পরশ তব, সেই তো পুরস্কার’। সত্যিই, মেসিই পারেন! রক্তক্ষরণ নিয়ে খেলেও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা কাকে বলে, তা দেখালেন মেসি। নিজের দেশকে কোপার ফাইনালে তুলে এভাবেই উপহার দিলেন লিও।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *