কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ভিটেমাটি দখলের অভিযোগ, ধুন্দুমার কান্ড নদিয়ার হরিপুরে

নদিয়া, ১৯ সেপ্টেম্বর: নদিয়ার শান্তিপুর হরিপুর অঞ্চলে ১৮৮০ সালের ২৬ জুন কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি পড়াশোনার জন্য কালনার মামার বাড়িতে বেশিরভাগ সময় থাকতেন। কিন্তু তাঁর জন্মস্থান পিতা-মাতা এমনকি তাঁর বাল্যকালের বেশ খানিকটা সময় কেটেছে হরিপুরের এই অঞ্চলে। মা-বাবার মৃত্যু পরবর্তীতে কবি আর কোনদিনই আসেনি এই বাড়িতে। সেই থেকে ফাঁকাই পড়ে থাকত ঘরবাড়ি। বিদেশে থাকা কবির কনিষ্ঠ ভ্রাতা শেষবারের জন্য এসেছিলেন হাজার ১৯৭৮ সালে।

আরও পড়ুন: সরকারি ভাতা ঘোষণায় উৎসাহী ব্রাহ্মণদের রানাঘাট প্রদক্ষিণ

বর্তমান এখানেই বসবাসকারী নীলা দেবনাথের স্বামী স্বর্গীয় রাধেশ্যাম দেবনাথ সে বছর বন্যায় ছিলেন আশ্রয়হীন তাই একটি ঘরে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন ১৯৭৮ সালে বাড়ির প্রবেশের সামনে একটি অংশে কবির নামাঙ্কিত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তারপর থেকে আর কোনও দিন আসেননি তিনি। কিন্তু ক্রমেই সে অধিকার বাড়তে থাকে আশ্রয়প্রাপ্ত পরিবারের। কবির মূল বাসগৃহ থেকে বেশ খানিকটা দূরে কবির স্মৃতিফলক সম্বলিত জমি দখলের চেষ্টা করেছেন বহুদিন ধরেই। শুধু এলাকা নয় সমগ্র শান্তিপুরের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন কিছু মানুষ একটি স্মৃতি কমিটি গঠন করে সেখানে একটি লাইব্রেরী এবং কবির বিভিন্ন লেখনীর সংগ্রহশালা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: অনলাইন যোগা কম্পিটিশনে নদীয়ার শান্তিপুরের স্বপ্নজিৎ-এর স্বপ্ন পূরণ

পঞ্চায়েত প্রধান সভা সরকার, বিডিও সুমন দেবনাথ-সহ প্রশাসনিক স্তরের একাধিক কর্মকর্তা সদিচ্ছা থাকা সত্বেও বেশ কিছু আইনি বাধার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। অথচ দলিল পর্চা সর্বত্রই কবির পরিবারের বিভিন্ন সময়ের পদবীর উল্লেখ থাকলেও, বর্তমান দখলকৃত পরিবারের দেবনাথ পদবীর কোথাও উল্লেখ নেই। কিন্তু উদাসীন কবি এবং উত্তরসূরিদের বিদেশে থাকার কারণে এত বছর বাদে কারোর সঙ্গেই যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই জানান কবি স্মৃতিরক্ষা কমিটির সভাপতি সোমনাথ ব্যানার্জি। প্রধান শোভা সরকার জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বাড়িটি দখল করে রয়েছেন ওই পরিবার, বিক্রি বা দানের কোনও কাগজই দেখাতে পারেননি আজ পর্যন্ত। অথচ এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে একটি লাইব্রেরী করার মতো শুভ কাজেও বিঘ্ন ঘটাচ্ছেন দীর্ঘদিন। ওই বাড়িতে বর্তমান বসবাসকারী নীলা দেবী জানান, “কবির পরিবারে কোনও দিন আসলে তাঁদের কাছ থেকে উপযুক্ত টাকা দিয়ে কিনে নেওয়া হবে। কিন্তু দখলদারি আমাদের। কিন্তু পাড়ার লোকের কথা শুনতে আমরা বাধ্য নই।”

আরও পড়ুন: সাইকেল লেনের প্রস্তাব খারিজ করল কলকাতা পুলিশ

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *