রাষ্ট্রপতি পুরস্কারজয়ী ফুলিয়ার বীরেন বসাকের বাড়ির দুর্গোৎসব বাড়ির পুজোয় থিমের ব্যবহার আনে প্রথম

Durga Puja Shantipur

তিরুপতি চক্রবর্তী

শহর শান্তিপুরের খুব কাছেই আরেকটি জনপদ। নাম ফুলিয়া। তাঁতের শাড়ির আরেকটি বিখ্যাত স্থান। আজ আমরা সেই ফুলিয়ার অন্যতম বিখ্যাত পুজো বসাক বাড়ির দুর্গোৎসব কথা বলব। শান্তিপুর থানার অন্তর্গত এই ফুলিয়ায় কমবেশি শতাধিক পুজো হয়। তার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য এই বসাক বাড়ির পুজো।

আরও পড়ুন: শান্তিপুরের বড় অদ্বৈত অঙ্গনে শারদীয়ায় পূজিতা হন দেবী কাত্যায়নী

ফুলিয়ার অতি বিখ্যাত তাঁতবস্ত্র ব্যবসায়ী, রাষ্ট্রপতি পুরস্কারজয়ী শ্রদ্ধেয় বীরেন কুমার বসাকের বাড়ির পুজো। শুধু রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপকই নন তিনি, লংগেস্ট শাড়ি বানিয়ে ওয়ার্ল্ড রেকর্ডও করেন। এহেন এক মানুষের বাড়ির পুজো যে অন্যমাত্রা পাবে, সেটাই স্বাবাভিক৷

এই পুজো তামাম অঞ্চলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পুজো। ফুলিয়ায় প্রথম বাড়ির পুজোয় থিমের ব্যবহার আনে এই বাড়ি। ৪৪ ববছরের পুজোয় আমরা সেই ২০০০ সাল থেকেই থিমের ব্যবহার হচ্ছে দেখে আসছি। কখনও অজন্তা, ইলোরা, কখনও আগ্রার তাজমহল, কখনও পুরোনো ঠাকুরদালান, কখনও আইফেল টাওয়ার, কখনও পিসার হেলানো টাওয়ারের আদলে মণ্ডপ দেখি। যা এই অঞ্চলে বেশ অভিনব হিসাবেই বিভন্ন সময় দর্শকদের উচ্চপ্রশংসা লাভ করে।

আরও পড়ুন: ১৭৫ বছরের পুরনো কাটোয়ার দত্তবাড়ির দুর্গাপুজো

বীরেনবাবুর কথায়, “পুজোটি আমার বাড়ির পুজো হলেও সারা ফুলিয়ার মানুষের অংশগ্রহণে তা আজ প্রকৃতই সর্বজনীন।” এই পুজোর আর একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই পুজোর অসামান্য মৃন্ময়ী মূর্তি৷ এই মূর্তিটি নির্মাণ করেন কৃষ্ণনগরের প্রখ্যাত শিল্পী শ্রীসুবীর পাল।

উল্লেখ্য যে, প্রতিমা শিল্পী সুবীর পালও রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত। সেই অসাধারণ মৃৎশিল্প দেখতে দূরদূরান্ত থেকে অগণিত মানুষ ভিড় করেন এই মণ্ডপে। এবার করোনাকালেও সব বিধিনিষেধ মেনেই পুজো হবে। এবছরও জেলার একমাত্র এই বাড়ির প্রতিমা নির্মাণ করবেন সুবীর পাল মহাশয়। ফলে জেলার মানূষের আকর্ষন এবার আরও বেশি৷

ফুলিয়ার বসাকবাড়ির পুজোর বিজয়ায় বিসর্জনের পর্বটিও দেখার মতো। বিজয়ার দিন এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাও করেন এই বাড়ির মানুষজন। আসেন বহিরাগত বহু শিল্পী মানুষ।

ছবি: লেখক

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *