‘মৃত্যুবার্ষিকী’তে নেতাজিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সমালোচনার মুখে প্রিয়াঙ্কা: পরে মুছে দিলেন ‘মৃত্যুবার্ষিকী’ শব্দটি

Mysepik webdesk: বিতর্ক তাড়া করে গেছেন বারবার। তবু তিনি অকুতোভয়। ব্রিটিশ তাঁকে স্বীকৃতি দিয়েছিল ‘এনিমি নাম্বার ওয়ান’। তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। ৭৫ বছর আগে তাঁকে শেষবারের মতো প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল। দেশনায়কের শারীরিক উপস্থিতি এর পর না দেখা গেলেও তিনি প্রবলভাবে ভারতীয়দের মনে রয়ে গেছেন। তাঁকে ঘিরে অজস্র বিতর্কিত বিষয়গুলির মধ্যে আজকের দিনে সবচেয়ে আলোচিত তর্ক ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইহোকু বিমানবন্দরে বিমান দুর্ঘটনা নেতাজির মৃত্যুবরণ করেছিলেন কিনা। ভারত সরকারের তরফে দু’টি কমিশন একটি তদন্ত কমিটি গড়েও এই বিষয়ে কোনও সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: পুত্রসন্তান লাভের আশায় চার বছরের শিশুকে বলি, অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড আদালতের

আজ কথিত বিমান দুর্ঘটনার ৭৫তম বর্ষ পূর্তিতে জাতীয় কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বঢরা সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতাজিকে তাঁর ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানান। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তৈরি হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলতে থাকেন, এ বিষয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধির কাছে আদৌ কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ আছে কি না। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, মনমোহন সিংয়ের সরকারে থাকাকালীন বিচারপতি মনোজ মুখার্জির রিপোর্টে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়নি বলা হলেও কেন্দ্রীয় সরকার সেই রিপোর্ট খারিজ করে দেয়।

গান্ধির বিরোধিতার মুখে ১৯৩৯-এ দ্বিতীয়বারের জন্য ত্রিপুরা অধিবেশনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছিলেন সুভাষ চন্দ্র বসু। সুভাষচন্দ্র বসুর প্রস্তাব ছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে সুবিধা নিয়ে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে ত্বরানিত করা উচিত। তিনি বিশ্বাস করতেন, ভারতবর্ষের স্বাধীনতা নির্ভর করে অন্য দেশের রাজনৈতিক, সামরিক ও কুটনৈতিক সমর্থনের উপর। কংগ্রেস সভাপতির পদত্যাগ করার পরে তিনি কিছুদিন ফরওয়ার্ড ব্লক নামে নিজস্ব একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে লড়াই জারি রাখেন। এরপর তিনি দেশের বাইরে গিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। জার্মানিতে ভারতের স্বাধীনতার জন্য ইন্ডিয়ান লিজিয়ন নামে একটি সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এরপর তিনি সাড়ে তিন মাস সাবমেরিন যাত্রা করে জাপানে চলে আসেন এবং ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী (ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি), যা গড়ে উঠেছিল মূলত গড়ে উঠেছিল জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী নেতা রাসবিহারী বসুর হাতে, তার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে।

আরও পড়ুন: করোনার আবহে ব্যবসায়ে ক্ষতি, ৭০০০ কর্মী ছাঁটাই করবে মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার

একটি আলাদা নারী ব্রিগেড (রানি লক্ষ্মীবাঈ কমব্যাট)-সহ এতে প্রায় ৮৫,০০০ (পঁচাশি হাজার) সৈন্য ছিল। এই বাহিনীর কর্তৃত্ব ছিল সরকারের হাতে, যা পরিচিত ছিল আর্জি হুকুমত-এ-আজাদ হিন্দ নামে। এই সরকারের নিজস্ব মুদ্রা, আদালত ও আইন ছিল। অক্ষশক্তির ৯টি দেশ এই সরকারকে স্বীকৃতি দান করে। যদিও শেষপর্যন্ত এই বাহিনী সফল হতে পারেনি। তবে আইএনএ-র আত্মত্যাগের কথা দেশের মানুষ জানতে পারলে ভারতের অভ্যন্তরে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠে। তবে নেতাজির ভারতে ফেরা সম্ভবপর হয়নি। বলা হয়, তাইহোকু বিমানবন্দর থেকে একটি ছোট্ট সামরিক বিমানে মঞ্চুরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার সময় টেকঅফের পরে ভেঙে পড়ে এবং তাতেই প্রাণ হারান নেতাজি।

কিন্তু এই বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে প্রচুর পরস্পর বিরোধী সংবাদে দেশবাসীর মধ্যে তীব্র ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। স্বয়ং গান্ধিজি এই বিমান দুর্ঘটনার তত্ত্বকে মেনে নেননি এবং এক টেলিগ্রামে নেতাজির পরিবারকে তাঁর পারলৌকিক কাজকর্ম করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এরপর থেকেই বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি তদন্ত হলেও এই বিষয়ে কোন স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব হয়নি। এমত অবস্থায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধিরর আজকের পোস্ট নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করে। নেতাজি প্রতিষ্ঠিত ফরোয়ার্ড ব্লকের তরফে এই পোস্ট প্রত্যাহার দাবি জানানো হয়। অবশ্য পোস্ট করার কিছুক্ষণ পর দেখা যায় এই পোস্ট থেকে মৃত্যুবার্ষিকী শব্দটি মুছে দেওয়া হয়েছে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *