হেয়ার স্কুলে নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারীর জীবনকাহিনির উপর গ্রন্থ প্রকাশ

Mysepik Webdesk: কলকাতার ঐতিহ‍্যমণ্ডিত হেয়ার স্কুলের সভাঘরে সেন্ট্রাল ক‍্যালকাটা ভেটারেন্স স্পোর্টস ক্লাব স্মারক কমিটির উদ্যোগে ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে ‘ভারতের ফুটবলের জনক ক্রীড়াসম্রাট নগেন্দ্র প্রসাদ সর্বাধিকারী’র কর্মজীবনের অজানা কাহিনি নামক বইটি প্রকাশিত হল। বইটি সম্পাদনা করেছেন ক্লাবের সম্পাদক বিশ্বপতি নাথ মিত্র। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার, মোহনবাগান ক্লাবের অর্থসচিব দেবাশিস দত্ত, নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারীর নাতি ময়ূখচন্দ্র সর্বাধিকারী, দেব সাহিত‍্য কুটিরের কর্ণধার রূপা মজুমদার, ফুটবল প্রশিক্ষক অনন্ত ঘোষ, শিশির রায়, প্রকাশ মল্লিক, প্রবীর সাহা, সোমনাথ বসু, দেবাশিস ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট ফুটবল গবেষক ড. শুভ্রাংশু রায়, আর্য কমল মিত্র-সহ বহু বিশিষ্ট ব‍্যক্তি। নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারীর  জীবন ও কর্মের উপর বক্তারা আলোকপাত করেন। ভারতীয় ফুটবলে তাঁর অবদানের কথা সশ্রদ্ধ চিত্তে বক্তারা তাঁদের মূল‍্যবান বক্তব্যের মাধ‍্যমে তুলে ধরেন। স্কুলপাঠ‍্যে নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারীর অন্তর্ভুক্তির দাবি সভায় জোরালো কণ্ঠে উচ্চারিত হয়। সভার শেষপর্বে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার ক্লাবের তরফ থেকে পাঁচশো বই ক্রয় করবার কথা ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: এক বাঙালি ফুটবলপ্রেমীর শহিদের মৃত্যু: চল্লিশ বছর পরে কিছু কথা

বই প্রকাশের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর নগেন্দ্রপ্রসাদের আবক্ষ মূর্তিটি  হেয়ার স্কুলের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সেই মাঠ, যে মাঠে একদিন একঝাঁক উজ্জ্বল ছাত্র রাগবি বল নিয়ে ফুটবল খেলতে শুরু করেছিল আট বছরের বালক নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারীর নেতৃত্বে। ১৮৭৭-এ কলকাতা ময়দানে নগেন্দ্রপ্রসাদের ফুটবলে কিক অফের পাশাপাশি হেয়ার স্কুলের এই ঘটনাও  তো আজ ইতিহাসের পাতায় স্থান পেয়েছে। ভারতীয়দের নিজেদের উদ‍্যোগে ফুটবল খেলার ইতিহাসের প্রথম পৃষ্ঠা সেটি। এইদিন শেষ বিকেলের আলোয় নগেন্দ্রপ্রসাদের আবক্ষ মূর্তিটিকে সেই মাঠে একটি টেবিলের উপর রেখে উপস্থিত সবাইকে নিয়ে ছবি তোলার পর্ব চলে। নগেন্দ্রপ্রসাদের ক্রীড়াভূমিতে তাঁরই আবক্ষ মূর্তির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সময় উপস্থিত সকলের মধ‍্যেই এক অদ্ভুত আবেগ সঞ্চারিত হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ৬০০ উইকেট নিয়ে নজির ঝুলন গোস্বামীর

আসলে ইতিহাস কখনও থেমে থাকে না। তার রেশ বহন করে চলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। আজকের প্রজন্ম কতটুকু মনে রেখেছে নগেন্দ্রপ্রসাদকে? প্রায় বিস্মরণের অতলে তলিয়ে গিয়েছিল যেন তাঁর জীবন। সেই ১৯৪৪-এ পি এল দত্ত (P. L. Dutt) ইংরেজিতে তাঁর একটা জীবনী গ্রন্থ লিখেছিলেন আর ১৯৬৩-তে শৌরীন্দ্রকুমার ঘোষ লিখেছিলেন ‘ক্রীড়াসম্রাট নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারী’। তারপর প্রায় চল্লিশ বছর ধরে চলে বিস্মরণের পর্ব। সম্প্রতি তাঁর সার্ধ শতবর্ষে তাঁকে কেন্দ্র করে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন রচনা পত্রপত্রিকায়, ওয়েব পোর্টালে দেখতে পাওয়া গেছে, তৈরি হয়েছে তাঁর জীবন অবলম্বনে তৈরি সিনেমা ‘গোলন্দাজ’। এইসব শুভ প্রচেষ্টার পাশাপাশি তৈরি হল একটা গোটা বই তাঁর জীবনের নানান অজানা কাহিনি নিয়ে। বইটির সম্পাদক বিশ্বপতি নাথ মিত্র বলছিলেন, বহু পরিশ্রম করে প্রায় আড়াই বছর ধরে তিলে তিলে নানা জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করে এই বই তৈরি করা হয়েছে। নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারীর পরিবারের মানুষদের কাছে পৌঁছে তিনি শুনেছেন ভারতের ফুটবল জনকের জীবনের বহু অজানা কথা। লিপিবদ্ধ করেছেন তাঁর জীবনের  শেষ দিনগুলিকে। আত্মবিস্মৃতির দায় থেকে বাঙালিকে মুক্ত করবার এই উদ‍্যোগ সফলতা পাক। বইটি পাঠকধন‍্য হয়ে উঠলেই এই প্রচেষ্টা সার্থক হয়ে উঠবে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *