১৭৮ বছর ধরে পুজো হয়ে আসছে শান্তিপুরের চৈতলপাড়ায়

তিরুপতি চক্রবর্তী

একসময় এটি ছিল চৈতল বংশীয় উত্তর পুরুষদের পুজো। তাঁদের থেকেই এই পাড়ার ও নামকরণ৷  সম্ভবত তাঁরা ছিলেন চৈতল মহেশের বংশধর। তাঁদের জমিদার বাড়িতেই আগে দুর্গাপুজো হত। তাঁরা ছিলেন শক্তির উপাসক। কিন্তু পরবর্তীকালে ক্ষমতা হারিয়ে যাওয়ায় দু’টো পুজো চালাতে পারছিলেন না। তাই তাঁরা একটি পুজো পাড়ার মানুষদের হাতে ছেড়ে দেন। শুরু হয় চৈতল পাড়া বারোয়ারির পথ চলা।

আরও পড়ুন: ২০০৪-এর আগে গ্রামে হত না দুর্গাপুজা, স্থানীয় ঢাকিরা ঢাকে বোল তুলে পুজোর জানান দিত

সেই থেকে শান্তিপুরের এই চৈতলপাড়া বারোয়ারি আজ ১৭৮ বছর ধরে পুজো হয়ে আসছে। মহেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকেই এই চৈতলপাড়া বারোয়ারির আত্মপ্রকাশ। তিনিই চৈতল বংশীয় জমিদারের সেই মানুষ, যিনি এই পুজো সম্পাদনার দায়িত্ব দেন পাড়ার অধিবাসীদের।

আরও পড়ুন: ঔষধি গাছে ঘেরা ঝাড়গ্রামের কনক দুর্গা

মহেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন ওই পরিবারের বিখ্যাত মানুষ। তো সেই মহেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকেই এই বারোয়ারির সূচনা।  নন্দোৎসবের দিন পাট পুজোর মধ্যে দিয়ে এই পুজোর সূচনা হয় বংশ পরম্পরায় এই মূর্তি গড়েন প্রদীপ পালেরা। সারাপাড়ার সারাবছরের ক্লান্তি দূর হয়ে যায় এই পুজোর পাঁচদিনের আনন্দে। বেনারসি শাড়ির অঙ্গসজ্জা আলাদামাত্রা এনে দেয় এই মূর্তিকে। বিজয়া দশমীর যে শোভাযাত্রা হয়, রাত্রিবেলায় তাতে অগণিত মানুষ দাঁড়িয়ে থাকেন এই দেবীমূর্তির অপেক্ষায়।

ছবি লেখক

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *