১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পুলওয়ামা হামলা, ক্যাম্পে ১ হাজার পাক জঙ্গির প্রশিক্ষণ, চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট চার্জশিটে

Mysepik Webdesk: জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলা ঘটানোর জন্য জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজাহারের ভাইপো উমর ফারুকের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১০ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছিল। তার পাকিস্তানের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ওই টাকা জমা দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএর পেশ করা চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে এই তথ্য। ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জঙ্গিরা সিআরপিএফের একটি কনভয়ে বিস্ফোরক ঠাসা গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়ে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল, যার ফলে ৪০ জওয়ান শহিদ হন।

আরও পড়ুন: জানুয়ারির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এবং মার্চের মধ্যে সারা ভারতে পৌঁছে যাবে করোনার ভ্যাকসিন

এই ঘটনার তদন্তে নামে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তদন্ত শেষ করে তারা কাশ্মীরের বিশেষ আদালতে চার্জশিট পেশ করেছে। সেই চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে, উমর ফারুকই ছিল পুলওয়ামার মূলচক্রী। গোটা পরিকল্পনার দায়িত্বে ছিল সে। জানা গেছে এই হামলার জন্য তাকে যে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে, সেই টাকা অ্যালাইড ব্যাঙ্ক ও মেজান ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টগুলিতে হামলা হওয়ার কয়েকদিন আগেই জমা দেওয়া হয়। ওই বছরেই জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ওই টাকা ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া হয়েছে। চার্জশীটে ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে একটি মারুতি ইকো গাড়ি এবং বিস্ফোরক সামগ্রী কিনতে খরচ হয়েছিল ৬ লক্ষ টাকা। মারুতি ইকো গাড়িটিই আসলে হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: এখনও বেঁচে আছে মনুষ্যত্ব, বিমানে করে পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজে ফেরাচ্ছেন মালিক

এছাড়াও বিস্ফোরক কিনতে খরচ হয়েছিল ২.৮০ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে ছিল অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট আরডিএক্স, জিলেটিন স্টিক। এছাড়াও চার কেজির অ্যালুমিনিয়াম পাউডার কেনা হয়েছিল অ্যামাজন থেকে। ওয়াজি উল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটও জোগাড় করা হয়েছিল। বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য একটি ১৬০ কেজি, অপরটির ৪০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক মজুত রাখা ছিল গাড়িটিতে। চার্জশিটে বলা হয়েছে, শাকির বাশিরের বাড়িতেই যাবতীয় বিস্ফোরক জড়ো করা হয়েছিল। শাকিরই সবার কাছ থেকে সংগ্রহ করে, ওই বিস্ফোরক নিজের বাড়িতে রাখে। এর মধ্যে ছিল আরডিএক্স, জিলেটিন স্টিক, অ্যালুমিনিয়াম পাউডার ও ক্যালসিয়াম-অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। পরে এগুলি দিয়েই পরে আইইডি তৈরি করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: আকাঙ্ক্ষা শর্মা খুনের ঘটনায় উদয়ন দাসকে যাবজ্জীবন সাজা

এনআইএ তদন্ত করে জানিয়েছে, পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ ই মহম্মদ, আল কায়েদা ও তালিবান মিলিতভাবে ভারতে এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলওয়ামা হামলায় মূল অপরাধী উমর ফারুকের ট্রেনিং হয়েছিল আফগানিস্তানের হেলমন্দ প্রদেশে। সেখানে আরও ১ হাজার পাকিস্তানি জঙ্গি আল কায়েদা ও তালিবান ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। সেখানে আল কায়েদা, তালিবান ও জইশ ই মহম্মদ গোষ্ঠীর একসঙ্গে মিলিতভাবে ট্রেনিং ক্যাম্প চলেছে। এছাড়াও কিছু জায়গায় হাক্কানি নেটওয়ার্কও রয়েছে। জঙ্গিদের আফগানিস্তানে পাঠানোর জন্য মূল দায়িত্বে রয়েছে জইশ ই মহম্মদ ও লস্কর ই তৈবা। এই জঙ্গিরা পরামর্শদাতা, অস্ত্র প্রশিক্ষণ ও শক্তিশালী বিস্ফোরক তৈরিতে পারদর্শী।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *