Latest News

Popular Posts

পূর্ণচন্দ্র ব্যানার্জি, মোহনবাগান এবং বাঙালির প্রথম অলিম্পিকে অংশগ্রহণ: ১৫ আগস্ট, ১৯২০

পূর্ণচন্দ্র ব্যানার্জি, মোহনবাগান এবং বাঙালির প্রথম অলিম্পিকে অংশগ্রহণ: ১৫ আগস্ট, ১৯২০

শুভ্রাংশু রায়

বিস্মৃতির নিকষ কালো আস্তরণে চাপা পড়ে গেছেন তিনি। সরকারি খাতায় তিনি পূর্ণচন্দ্র ব্যানার্জি। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে পরিচিতি পি সি ব্যানার্জি। আর ময়দান তাঁকে ডাকত পুঁইয়া ব্যানার্জি নামে। কে তিনি? তিনি এক সময়ে ভারতের প্রথম সারির অ্যাথলেট। তাঁর কৃতিত্ব? প্রথম বাঙালি অ্যাথলেট হিসেবে অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করা। সাল? ১৯২০। হ্যাঁ। এই বছর সেই ঘটনার শতবর্ষ পার করে একশো এক বছর পূর্ণ হল। তবে এটাই শেষ নয়। আরও দু’টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে।

আরও পড়ুন: ১৫ আগস্ট: ভারতীয়দের অলিম্পিক ইতিহাসে এক সোনায় বাঁধানো দিন

Antwerp 1920 Summer Olympics - results & video highlights

১৯২০ সালে প্রথম যখন তিনি অলিম্পিকে গিয়েছিলেন, তখন তিনি ছিলেন মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবের নিয়মিত অ্যাথলিট। সিনিয়র পর্যায়ে পূর্ণবাবু কেবলমাত্র মোহনবাগান ক্লাবের তরফে আজীবন প্রতিনিধিত্ব করে গেছেন। আর ১৯২০ সালে বেলজিয়ামের অ্যান্টোয়ার্পে অনুষ্ঠিত সেই অলিম্পিকে ১০০ মিটার দৌড়ে হিটে প্রথম বাঙালি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন ১৫ আগস্ট তারিখেই। হ্যাঁ, ঠিকই হিসেব করেছেন। আজকের দিনেই গত বছর একশো বছর পূর্ণ হয়েছিল বাঙালির প্রথম অলিম্পিকে অংশগ্রহণের। বাঙালির লিখলাম। সেই কারণেই আশা রাখি, কারও মনে নরম্যান প্রিচার্ড-এর কথা উঠে আসবে না। কারণ কলকাতার অ্যাংলো ইন্ডিয়ান প্রিচার্ড নিজ উদ্যোগে সেই ১৯০০ সালের অলিম্পিকেই অংশগ্রহণ এবং পদক জিতে ফিরেছিলেন। তবে প্রথম বাঙালি হিসেবে অলিম্পিকের ট্রাকে একশো এক বছর আগে পা দিলেও পূর্ণচন্দ্র ব্যানার্জির পক্ষে কোনও পদক জেতা, এমনকী কোনও ইভেন্টের ফাইনালে পৌঁছনো সম্ভবপর হয়নি।

আরও পড়ুন: রোমন্থন এবং ভালোবাসায় ১৫ আগস্ট

Antwerp 1920 Olympic Games: Facts and figures - Olympic News

১৯২০-তে অর্থাৎ সেই বারের অলিম্পিকে মোট দু’টি ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলেন ময়দানের পুঁইয়াদা। প্রথম দিন অর্থাৎ ১৫ আগস্ট ১০০ মিটার দৌড়ের ২ নম্বর হিটে পঞ্চম স্থান পেয়েছিলেন তিনি। খুব স্বাভাবিক কারণে ফাইনাল রাউন্ড কোয়ালিফাই করার কোনও সম্ভাবনাই ছিল না। পূর্ণচন্দ্রের পরবর্তী ইভেন্ট ছিল ৪০০ মিটার দৌড়। ২০ আগস্ট সেই ৪০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় আট নম্বর হিটে অংশ নিয়ে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছিলেন। বলাই বাহুল্য, পরের পর্যায়ে নামার সুযোগ পূর্ণচন্দ্রের সামনে ছিল না। তবে সেবারের অলিম্পিকে ছ’জনের ভারতীয় দলের তরফে মার্চ পাস্টে পতাকা বহনের সুযোগ হয়েছিল তাঁর।

যুগান্তর — ১৫ নভেম্বর, ১৯৫৪

পূর্ণচন্দ্রের এই অলিম্পিক অভিযান কিন্তু ভারতীয় ক্রীড়া ইতিহাস চর্চায় তেমনভাবে আলোচিত হয়নি। সেই সময় তাঁর ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় সাফল্য ছিল চূড়ান্ত। শোনা যায়, মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবের হয়ে ১৯১৬ থেকে ১৯২০ পর্যন্ত বিভিন্ন সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতায় তিনি নাকি তাঁর নামা সবক’টা ইভেন্টে তিনি অপরাজেয় ছিলেন। এবং প্রায় একদশক তিনি মোহনবাগানের হয়ে বিভিন্ন সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। মোহনবাগান ক্লাবের হয়ে জুনিয়র পর্যায়ে কিছুদিন তিনি ফুটবলও খেলেছেন। গ্রহণের পরেও মোহনবাগানের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ অক্ষুণ্ন ছিল। প্রকৃতপক্ষে তিনিই মোহনবাগান ক্লাবের প্রথম অলিম্পিয়ান এবং সম্ভবত সবথেকে অনালোচিত ‘ঘরের ছেলে’।

১৯৫৪ সালের ১৩ নভেম্বর ইহলোক ত্যাগ করেন এই কৃতী অ্যাথলেট। মোহনবাগান ক্লাবের প্রতিষ্ঠা দিবস, দেশের স্বাধীনতা দিবস এবং প্রথম বাঙালি হিসেবে অলিম্পিকের আসরে অংশগ্রহণ এই সবই একসূত্রে গাঁথা পূর্ণচন্দ্র ব্যানার্জিকে বাঙালি সেইভাবে মনে রাখেনি। দেশে-বিদেশে থাকা অসংখ্য মোহনবাগান সমর্থক আজ ক্লাবের প্রতিষ্ঠা দিবসে তাঁদের ‘ঘরের ছেলে’ পুঁইয়াদার এই কৃতিত্বের কথা হয়তো সেইভাবে জানেন না। কারণ বাঙালির অলিম্পিক যাত্রার ইতিহাস সেইভাবে চর্চিত নয়। প্রথম বাঙালি অলিম্পিয়ান পূর্ণচন্দ্র ব্যানার্জিকে মনে করার প্রয়োজনীয়তা বোধহয় ঠিক এই প্রেক্ষিতেই। যে চর্চা বা আলোচনা প্রথম পর্বের অনেক বাঙালি অলিম্পিয়ানের ক্রীড়াজীবন আমাদের সামনে নতুন করে উদ্ভাসিত করে তুলতে পারে।

লেখক সোনারপুর মহাবিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে কর্মরত

টাটকা খবর বাংলায় পড়তে লগইন করুন www.mysepik.com-এ। পড়ুন, আপডেটেড খবর। প্রতিমুহূর্তে খবরের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন। https://www.facebook.com/mysepik

Related Posts

10 thoughts on “পূর্ণচন্দ্র ব্যানার্জি, মোহনবাগান এবং বাঙালির প্রথম অলিম্পিকে অংশগ্রহণ: ১৫ আগস্ট, ১৯২০

  1. বাহ্ খুব ভালো লাগলো, আজকের দিনে পূর্ণবাবু কে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে আলোচনা। অনেক অজানা কাহিনী লেখক প্রতিনিয়ত আমাদের কাছে তুলে ধরেন। লেখকের প্রতি অসংখ্য ধন্যবাদ রইলো এই ধরনের প্রতিবেদন আজকের দিনে উপহার দেওয়ার জন্য।

  2. Simply fascinating article. Informative as well as very much important regarding the concept of History of Sports and Society.

  3. 15ই আগস্ট সবাই স্বাধীনতা দিবস বা সমকালীন সময়ের বিভিন্ন ঘটনা এবং বিভিন্ন আন্দোলন শহীদের বলিদান নিয়ে আলোচনা করে। আপনি ভারতীয় ক্রীড়া ইতিহাসের পাতা থেকে এমন অজানা তথ্য তুলে ধরলেন যা অনবদ্য।
    দারুন।

  4. ‘ অনালোচিত ঘরের ছেলে’ নিয়ে এতো ঝরঝরে ভাষায় এতো তথ্যসমৃদ্ধ লেখা কেবল আমরা ই নয়, এই প্রজন্ম ও উপকৃত হবে। ক্রীড়া শিল্পের এই কারিগরদের নতুন ক’রে পাদপ্রদীপের আলোর সামনে আনার কৃতিত্ব লেখক শ্রী শুভ্রাংশু রায়ের বিশেষ ক’রে ‘ক্রীড়া ‘ যখন বিষয় হিসেবে গবেষণার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে।

  5. ‘অন্যধারার ঘরের ছেলে’ নিয়ে এতো ঝরঝরে এবং তথ্য সমৃদ্ধ লেখায় কেবল আমরাই নই এই প্রজন্ম ও উপকৃত হবে। ক্রীড়া শিল্পের এই অনালোচিত কারিগর দের পাদপ্রদীপের সামনে আনার কৃতিত্ব শ্রী শুভ্রাংশু রায়ের– বিশেষ ক’রে যখন ‘ক্রীড়া ‘ বিষয় হিসাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হ’য়ে উঠেছে।

  6. 15ই আগষ্টের যে আর এক ইতিহাস আছে, তাও আবার অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ যা আমাদের কাছে অজানা ছিল, আজ তা জানলাম ।।

  7. আপনার জন্য অনেক তথ্য জানার সুযোগ হয়

  8. Thank you so much for making this great sportsperson visible. Very informative and illuminating piece of writing.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *