তীব্র গরমে শরীর সুস্থ রাখতে খাদ্যতালিকায় এই খাবারগুলো রাখুন

Fruits

Mysepik Webdesk: তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। সূর্যের তেজ যেন বেড়েই চলেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ। ঘরের বাইরে পা রাখায় দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে থেমে নেই জনজীবন। নানা প্রয়োজনে ঝাঁজাল রোদ মাথায় নিয়েই পা রাখতে হচ্ছে ঘরের বাইরে। প্রচণ্ড গরম বা সূর্যের আঁচে যেকোনো মুহূর্তে যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। ফলে তীব্র গরমে নিজেকে সুস্থ রাখা খুব জরুরি। এই গরমে সুস্থ থাকতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, তীব্র গরমে শরীরে জলশূন্যতা দেখা দিতে পারে। সেই সঙ্গে হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যাও হতে পারে। তাই গরমে সুস্থ থাকতে খেতে হবে কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার উচিত। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই সময়ে কোন খাবারগুলো খেলে শরীর সুস্থ থাকবে।

আরও পড়ুন: আপনি কি ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন? খাদ্যতালিকায় রাখুন এই খাবারগুলো

১. লেবুর শরবত: সবচেয়ে সহজলভ্য পানীয় হলো লেবুর শরবত। লেবু, লবণ আর সামান্য জল দিয়েই এই পানীয় খুব সহজেই ঘরেই তৈরি করে নেওয়া যায়। ইচ্ছা অনুযায়ী স্বাদ বাড়াতে একটু চিনি বা মধুও যোগ করে নেওয়া যেতে পারে। লেবু ‘ভিটামিন সি’ এর ভালো উৎস। ভিটামিন সি শরীরে অ্যান্টিআক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও সাইট্রিক এসিড, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফরফরাস ও ম্যাঙ্গানিজের ভালো উৎস লেবুর রস। শরীরের পিএইচ মাত্রা ভারসাম্যপূর্ণ রাখে লেবুর রস। তীব্র গরমে শরীরে লবণের ভারসাম্য আনতে সাহায্য করে লেবুর শরবত।

২. ডাব: গরমে প্রাণ জুড়োতে ডাবের জলের জুড়ি মেলা ভার। ডাব স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী। ডিহাইড্রেশনের মোকাবিলা থেকে শুরু করে শরীরের ইমিউনিটি গড়ে তোলা, নানা গুণ রয়েছে ডাবের জলে। শরীরে ভিটামিন সি, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, ক্লোরাইড এবং কার্বোহাইড্রেট জাতীয় প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে ডাবের জল। এতে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে এবং বার্ধক্য রোধেও এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আরও পড়ুন: প্রচণ্ড গরমের মধ্যে রোযায় যেভাবে সুস্থ থাকবেন

৩. তরমুজ: মৌসুমি ফল হিসেবে বেশ চাহিদা রয়েছে তরমুজের। তরমুজ রসে ভরপুর সুস্বাদু একটি ফল। তরমুজ স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী ফল। এর পুষ্টিগুণ ভাণ্ডারও বেশ সমৃদ্ধ। এর মধ্যে ৯০% জলীয় অংশ থাকে, ফলে এটি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও শরীরের বেশ কিছু জরুরি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায় তরমুজ থেকে, যা শরীরকে সুস্থ রাখে। তরমুজে সিট্রুলাইন নামের অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে যা শরীরে একটি অ্যামিনো অ্যাসিড আর্জিনিনে রূপান্তরিত হয়। গবেষণা বলছে যে এই আর্জিনিন হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে।

৪. পাকা পেঁপে: ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এই ফলটি সকলেই খেতে পারেন। জন্ডিস, গাউট, আর্থারাইটিস, ডায়াবেটিস, কোষ্ঠাকাঠিন্য়, হার্টের রোগ এই সব কিছুর জন্য একেবারে আদর্শ হল এই পাকা পেঁপে। বলে রাখা ভাল, গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতেও জুড়ি নেই এই ফলটির।

৫. আম: গ্রীষ্মকালে একটি সেরা ফল হচ্ছে আম। আমে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টি অক্সিডেন্টস উপাদান রয়েছে, যা কোলন, প্রস্টেট, লিউকেমিয়া প্রভৃতি ক্যানসার থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করে। আমে থাকা প্রচুর পরিমানে ফাইবার , পেকটিন , ভিটামিন সি কোলেস্টেরল লেভেলের ভারসাম্য বজায় রাখে। আম হজমের সমস্যা দূর করে, হজমশক্তি বাড়ায়। এক কাপ আম আমাদের শরীরে ২৫ শতাংশ ভিটামিন এ প্রদান করে। যা আমাদের চোখের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। আম পোড়া শরবত, কাঁচা আমের চাটনি বা পাকা আমের স্মুদি, নানা ভাবে আম খাওয়া যেতে পারে।

৬. জাম: গরমে জাম একটি লোভনীয় ফল। জামে থাকা লিউটিন নামক অ্য়ান্টি অক্সিডেন্ট হিটস্ট্রোক, বদহজম, রোদেপোড়া ত্বক বা সানবার্ন এবং সেল ড্যামেজ থেকে রক্ষা করে।

৭. শশা: এই ফলটি বারোমাস পাওয়া গেলেও গ্রীষ্মকালে এই ফলটি যেন মহার্ঘ্য় হয়ে ওঠে। কারণ এই ফলটির বেশিরভাগটাই হল জল। শুধু জলই নয় সেই সঙ্গে শশাতে থাকে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম। তৃষ্ণা মেটানোর সঙ্গে সঙ্গে দেহের ইলেকট্রোলাইটস ব্যালান্স ঠিক রাখে শশা।

৮. জামরুল: শসার মত এই ফলেও জলের পরিমাণই বেশি থাকে। জামরুলে সোডিয়ামের মাত্রা কম থাকলেও বেশি মাত্রায় থাকে পটাশিয়াম। কাজেই হাই ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখে জামরুল। আর প্রচণ্ড গরমে গলদঘর্ম অবস্থায় ডিহাইড্রেশন কমাতে এই ফলের জুড়ি মেলা ভার।

৯. লিচু: লিচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি থাকে। স্ট্রেস ও স্ট্রেন কাটাতে লিচু খুব কার্যকরী। গরমে ক্লান্তি ও পিপাসা লিচুর সরবতের জুড়ি মেলা ভার।

তবে উপরের সব ফল সবার জন্য নয়। কিছু কিছু ফলে অনেকের এলার্জি থাকে। আবার কিছু কিছু অসুখের জন্য কিছু ফল খাওয়া নিষিদ্ধ থাকে। তাই পরিমিতভাবে ফল খেতে হবে। আর ফল খাওয়ার সময়ে চেষ্টা করবেন একসঙ্গে তিন-চার রকমের ফল মিশিয়ে খেতে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *