এআইএফএফ-এর দাবি নস্যাৎ করলেন কুরেশি

Mysepik Webdesk: অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) ২১ নভেম্বর ২০২০-তে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল যে, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ মূল সময়ের থেকে বাড়ানো হোক। তাদের দাবি, কোর্ট দ্বারা নিযুক্ত প্রশাসকরা এখনও এআইএফএফ সংবিধানের খসড়া চূড়ান্ত করতে পারেনি। এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা নিযুক্ত প্রশাসক এস ওয়াই কুরেশি ২৭ নভেম্বর, শুক্রবার এআইএফএফ-এর এই দাবি খণ্ডন করে জানান যে, তিনি মহামান্য আদালতের কাছে আরও সময় চেয়েছেন এআইএফএফ সংবিধানের খসড়া চূড়ান্ত করার জন্য। তিনি আরও জানান, সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সুপ্রিম কোর্টের কাছে ইতিমধ্যেই পেশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: করোনায় পিছিয়ে গেল প্রিমিয়ার ব্যাডমিন্টন লিগ

২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট তার নির্দেশ অনুযায়ী প্রাক্তন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কুরেশি এবং ফুটবলার ভাস্কর গাঙ্গুলিকে নিয়ে একটা কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করেছিল, যাতে তারা জাতীয় ক্রীড়া নিয়ম মেনে এআইএফএফ-এর জন্য একটি নতুন সংবিধান তৈরি করতে পারে। পিটিআই-কে কুরেশি জানিয়েছেন, এটা সম্পূর্ণ ভুল দাবি যে তাঁরা এআইএফএফ সংবিধানের খসড়া চূড়ান্ত করেননি। ২০১৯-এর ডিসেম্বরে সব কাজ এবং খসড়া শেষ করে তারা আইনগত পরামর্শের জন্য উকিলের হাতে দিয়েছেন। উকিল সব খতিয়ে দেখে খসড়াটি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী খামবন্ধ করে ২০২০-র জানুয়ারিতে কোর্টে পেশ করেছেন। কুরেশি আরও জানান যে, অনেকেই এটা জানেন। কোর্ট তাঁদের যা কাজ দিয়েছিল, তা শেষ করে ভাস্কর গাঙ্গুলি বাড়ি চলে গেছেন। তাঁদের দায়িত্ব ছিল জাতীয় ক্রীড়া বিধি মেনে এআইএফএফ-এর জন্য একটি নতুন সংবিধান তৈরি করার। তাঁরা তা করেছেন এবং তাঁদের কাজ শেষ।

এআইএফএফ তার সকল সদস্যদের সম্প্রতি চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল যে, তারা সুপ্রিম কোর্টে বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে পারে। কারণ সংবিধান চূড়ান্ত না হওয়ার ফলে সামনের মাসের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন সম্ভব নয়। চিঠিতে এআইএফএফ-এর পক্ষ থেকে মুখ্যসচিব কুশল দাস চিঠিতে জানান যে, তাঁদের লোকপদ (কার্যনির্বাহী কমিটি) ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০-তে একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের কাছে এবং সংবিধানের খসড়া জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ করেছে। যেহেতু আদালতের ১০ নভেম্বর ২০১৭-র নির্দেশ অনুযায়ী সংবিধানের খসড়া চূড়ান্ত হয়নি, এআইএফএফ কিছুতেই নির্বাচন করতে পারবে না। যদিও কার্যনির্বাহী কমিটির চার বছরের মেয়াদ ২১ ডিসেম্বর ২০২০-তে শেষ হচ্ছে। তাই ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আদালতকে ২১ নভেম্বর ২০২০-তে এই বিষয়ে জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব সমস্ত সদস্য সভাপতিকেও এই বিষয়ে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: আইএসএলের প্রথম ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলকে উড়িয়ে দিয়ে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল মোহনবাগান

বর্তমান সভাপতি প্রফুল্ল প্যাটেল পরিচালিত কার্যনির্বাহী কমিটির চার বছরের মেয়াদ শেষ হবে পরের মাসে। বার্ষিক মিটিং হওয়ার কথা ২১ ডিসেম্বর। সাধারণ অবস্থায় মিটিংয়ের আগেই নির্বাচন হয়তো হয়ে যেত। প্রফুল্লবাবু ২০০৮ সাল থেকে সভাপতি পদে আছেন এবং ওনার মেয়াদ নিয়ম অনুযায়ী আর বাড়ানো যাবে না। কুরেশি এও জানান যে, বর্তমান অতিমারির জন্যই হয়তো কেসটি দেরি হয়ে থাকতে পারে। কোভিড অতিমারির জন্য সুপ্রিম কোর্ট এখন শুধুমাত্র জরুরি মামলার শুনানি করছে। তাঁরাও জমা করা কাগজপত্রের হেফাজত এবং সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত। তবুও তাঁর আশা যে, খুব শীঘ্রই শুনানি হবে।

ফেডারেশন অবশ্য আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে চায়। সেই অনুযায়ী সামনের মাসের মিটিংয়ে প্রসঙ্গটি তোলা হবে। নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তি টানা ৩ বার সভাপতি পদে মনোনীত হতে পারেন। চার বছরের মেয়াদ ধরলে একজন ১২ বছরের জন্য সভাপতি নিযুক্ত হতে পারেন। কিন্তু প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রফুল্ল প্যাটেল ২০০৮-এ একবছরের জন্য সভাপতি পদে নিযুক্ত হন। এর কারণ প্রিয় রঞ্জন দাস মুন্সি-র (তৎকালীন সভাপতি) আকস্মিক হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়া। এরপর প্রফুল্লবাবু ২০০৯, ২০১২ এবং ২০১৬-তে টানা ৩ বার সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন।

Similar Posts:

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *