রবীন্দ্রনাথ ও শিক্ষা

রাহুল দাশগুপ্ত

১৯২২ সালের আগস্ট মাসে রবীন্দ্রনাথ প্রকাশ করলেন, ‘লিপিকা’। ওই বইতে অনেকগুলো ছোটো ছোটো গদ্য ছিল। তার মধ্যে একটির নাম, ‘তোতা-কাহিনী’, ১৯১৭ সালে প্রকাশিত হয়েছিল প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত ‘সবুজ পত্র’ কবিতায়। সেই গদ্যে ছিল একটি তোতাপাখিকে শিক্ষা দেওয়ার কথা। রাজার আদেশে বানানো হয়েছিল একটা সোনার খাঁচা। কারণ ভালো খাঁচা না হলে যে ভালো শিক্ষা হয় না। আর তারপর সবাই সেই খাঁচা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়ল। পাখিটার খোঁজ আর কেউ রাখে না। একদিন মহারাজ স্বয়ং শিক্ষাশালা দেখতে এলেন। শিক্ষার বিপুল, বিরাট আয়োজন দেখে তাজ্জব বনে গেলেন রাজা! তিনি দেখলেন, খাঁচায় দানা-পানি কিছুই নেই, শুধু রাশি রাশি পুঁথি থেকে রাশি রাশি পাতা ছিঁড়ে কলমের ডগা দিয়ে পাখির মুখের মধ্যে ঠাসা হয়েছে। পাখির গান তো বন্ধই হয়ে গেছে, কথা বলার শক্তিও লোপ পেয়েছে।

আরও পড়ুন: রবীন্দ্রনাথ, সুভাষচন্দ্র এবং মহাজাতি সদনের ৮২-তে পা

পাখিকে শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব যাদের ওপর বর্তেছে, তাদের জুটতে থাকে একটির পর একটি শিরোপা। আর পাখির বেড়েই চলে ছটফটানি। সে আর খাঁচার ভিতর থাকতে চায় না। বাইরে যেতে চায়, ডানা মেলে উড়তে চায়, স্বাধীনতা চায়। কিন্তু সোনার খাঁচার মতো চোখধাঁধানো শিক্ষাব্যবস্থায় মুক্তি কোথাও নেই! বরং মুক্তির ইচ্ছা প্রকাশ পাওয়ায় বন্ধন আরও জোরালো হয়ে ওঠে। পাখির জোটে লোহার শিকল। তার ডানা কাটা যায়। মৃত্যু, শুধু মৃত্যু ছাড়া এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ থেকে মুক্তির আর কোনও উপায় থাকে না তার। পাখিটা মরে যায়। রাজার ভাগ্নে বলে, ‘পাখিটার শিক্ষা পুরা হইয়াছে’। পাখিটা লাফায় না, ওড়ে না, গান গায় না, দানা না পেলে প্রবল ক্ষুধায় চেঁচায় না, শুধু তার পেটের মধ্যে পুঁথির শুকনো পাতা খসখস গজগজ করতে থাকে। পাখিটার বেশ শিক্ষা হয়, আর সেই শিক্ষার মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ তীব্র শ্লেষ করে যান শিক্ষাব্যবস্থার অমানবিকতার প্রতি।

আরও পড়ুন: একতারা যাহাদের

‘শিক্ষার হেরফের’ (১৮৯২) প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ তাই লিখেছেন, “স্বাধীন চলাফেরার জন্য অনেকখানি স্থান রাখা আবশ্যক, নতুবা আমাদের স্বাস্থ্য এবং আনন্দের ব্যাঘাত হয়। শিক্ষা সম্বন্ধেও এই কথা খাটে। যতটুকু কেবলমাত্র শিক্ষা অর্থাৎ অত্যাবশ্যক তাহারই মধ্যে শিশুদিগকে একান্ত নিবদ্ধ রাখিলে কখনোই তাহাদের মন যথেষ্ট পরিমাণে বাড়িতে পারে না।” শিক্ষা মানে শুধু বাধ্যতা নয়, বন্ধন নয়, শাসন নয়, শিক্ষা মানে ভালোবাসাও, শিক্ষা মানে স্বাধীনতাও। যে শিক্ষা মানুষের শ্বাসরোধ করে, সে শিক্ষায় ডিগ্রি হতে পারে, কেরিয়ার হতে পারে, কিন্তু সে শিক্ষা আসলে অন্ধ গলির মতোই, আসলে তা মানুষকে কোথাও পৌঁছে দেয় না, শুধুমাত্র তাকে আত্মিক মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে থাকে, একথাই যেন বলতে চেয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি স্পষ্টই আরো বলেছেন, ছেলেবেলা থেকেই শিক্ষার সঙ্গে আনন্দকে যুক্ত করতে হবে। শিশুদের মনে সেই আনন্দ দিতে হবে। শেখানোর নামে শাসন করে তাদের স্রেফ ভুলিয়ে রাখলে চলবে না। এতে একটি শিশুমনের প্রসার ও চরিত্রের বলিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে না! রবীন্দ্রনাথ আরও বলেছেন, সেই শিক্ষাই দিতে হবে যার মাধ্যমে একটি শিশুর চিন্তা ও কল্পনাশক্তির বিকাশ হবে। কারণ ছেলেবেলা থেকেই চিন্তা ও কল্পনার চর্চা না করলে কাজের সময়ে তাদের কাউকেই হাতের কাছে পাওয়া যাবে না। মাটি যত সরস থাকে ধান তত ভালো হয়। চিন্তা ও কল্পনাই একটি শিশুর মনকে সরস রাখে, উর্বর করে তোলে। যেসব গ্রন্থ তারা পাঠ করে এবং যেভাবে জীবন কাটায়, তাদের মধ্যে এতই তফাত যে কোনো যোগসূত্রই তৈরি হয় না। শিক্ষার সঙ্গে জীবনের, সমাজের, অভিজ্ঞতার সামঞ্জস্যবিধান অত্যন্ত জরুরি। কারণ, “সকল দেশেই শিক্ষার সঙ্গে দেশের সর্বাঙ্গীণ জীবনযাত্রার যোগ আছে।” শিক্ষা মানে নিছক বিদ্যা-সংগ্রহ নয়। মালমশলা জড়ো করলেই হয় না, নির্মাণের কৌশলও জানতে হবে। যদি সামঞ্জস্য আসে, তবে নির্মাণও সম্ভব। নীরস শিক্ষায় মানুষের জীবন কেটে যায় কতগুলো কথার বোঝা টেনে। এই বোঝায় পিঠের মেরুদণ্ড বেঁকে যায়, মনুষ্যত্বের বিকাশ হয় না। এই বিকাশের প্রয়োজন ছেলেবেলা থেকেই, কারণ, রবীন্দ্রনাথেরই ভাষায়, ‘‘ছেলে যদি মানুষ করিতে চাই, তবে ছেলেবেলা হইতেই তাহাকে মানুষ করিতে আরম্ভ করিতে হইবে, নতুবা সে ছেলেই থাকিবে, মানুষ হইবে না।” রবীন্দ্রনাথের মতে, শিক্ষার কাজ ভাব ও ভাষার মধ্যে মেলবন্ধন ঘটানো। এ বিষয়ে তিনি একটি গল্প বলেছেন। একজন দরিদ্র সমস্ত শীতকালে অল্প অল্প ভিক্ষা সঞ্চয় করে যখন শীতবস্ত্র কিনতে সক্ষম হত তখন গ্রীষ্ম এসে পড়ত। আবার সমস্ত গ্রীষ্মকাল চেষ্টা করে যখন সে হালকা কাপড় কিনে উঠত, ততদিনে শীত পড়ে যেত। একদিন দেবতা তার প্রতি দয়ালু হয়ে তাকে বর দিতে চাইলেন। সে তখন বলল, “আমি আর কিছু চাই না, আমার এই হেরফের ঘুচিয়ে দিন।” শিক্ষার কাজ ভাব ও ভাষার মধ্যে এই হেরফের ঘোচানো। ভাবের প্রকাশের জন্য যদি উপযুক্ত ভাষা না পাওয়া যায় আর ভাষায় প্রকাশের সময় যদি প্রয়োজনীয় ভাব না জোটে, তবে শিক্ষা কখনোই সার্থক হতে পারে না।

আরও পড়ুন: রবীন্দ্রনাথ, গীতাঞ্জলি এবং নোবেল প্রাপ্তি

বিলেতের কোনো হোটেলের ব্যালকনিতে রবীন্দ্রনাথ

সারাজীবন শিক্ষা নিয়ে ভেবেছেন রবীন্দ্রনাথ। যুক্ত থেকেছেন শিক্ষা-সংক্রান্ত নানা কর্মসূচিতে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে দেশের মাটির বিচ্ছেদ তাঁকে অবিরাম ভাবিয়েছে। ১৯০৬ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গভাগ হওয়ার দশ মাস পরে কলকাতায় জাতীয় শিক্ষাপরিষদের কাজ শুরু হয়। পরিষদের শিক্ষা-আদর্শ, পাঠ্যসূচি ও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা চলে দীর্ঘকাল। রবীন্দ্রনাথ এই সবকিছুর সঙ্গেই জড়িত ছিলেন। ১৯১২ সালের ২৪ মে পুত্র রথীন্দ্রনাথ ও পুত্রবধূ প্রতিমা দেবীকে সঙ্গে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ বিলাত-যাত্রা করেন। ইংল্যান্ডকে তিনি ভালো করে দেখতে চান, তাই কয়েক সপ্তাহ গ্রামে গিয়ে বাস করলেন। ইংল্যান্ডের শিক্ষাবিধি দেখার জন্য কয়েকটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করলেন। যা পড়ছেন, যা দেখছেন, যা ভাবছেন, সে সব কিছুই লিখে রাখছেন। এইসব ভাবনাচিন্তা নিয়েই পরে প্রকাশ পেয়েছে। তার ‘শিক্ষা’ নামের বইটি। ১৯১৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কমিশন আসে, দেশের সর্বত্র শিক্ষা নিয়ে আলোচনা চলছে তখন।

আরও পড়ুন: শিশুমনের ছড়া এবং রবীন্দ্রনাথ

১৯২৬ সালে বার্লিনে রবীন্দ্রনাথ। সঙ্গে ভক্তরা…

১৯১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর একটি প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ দেশীয় ভাষায় যাবতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান দেশের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বললেন। বাংলা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে ইংরেজি ও বাংলার দু’টি ধারা সৃষ্টি করার সুপারিশ করে তিনি বললেন, দু’টি আলাদা ধারা হলেও গঙ্গা-যমুনার মতো তারা একসঙ্গেই বয়ে চলবে। ১৯৩৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতায় শিক্ষাসপ্তাহ পালন ও নবশিক্ষা-সংঘের অধিবেশন হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট হলে। নবশিক্ষাসংঘ বা নিউ এডুকেশন ফেলোশিপ ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান, ১৯৩০ সালে ইউরোপ ভ্রমণকালে এলসিনোরে এঁদের এক অধিবেশনে কবি উপস্থিত ছিলেন। ভারতে তার এক শাখা শান্তিনিকেতনে স্থাপিত হয়েছিল। এই সম্মেলনে রবীন্দ্রনাথ ‘শিক্ষা’ নিয়ে দু’টি ভাষণ দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে বিশ্বভারতীতে ‘লোকশিক্ষা সংসদ’ স্থাপন করে বাঙালির ঘরে ঘরে তিনি বাংলায় লেখাপড়া চর্চার ব্যবস্থা করে দেন।

আরও পড়ুন: পঁচিশে বৈশাখের আগে করোনার বদলে কবিতার কথা

শান্তিনিকেতন আবাসিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা…

১৯০১ সাল থেকেই শান্তিনিকেতনে আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপন করার কথা ভেবেছেন রবীন্দ্রনাথ। বলেন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে শেষপর্যন্ত এই আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়, তার নাম হয়, ব্রহ্মবিদ্যালয়। পাঁচটি ছাত্র নিয়ে বিদ্যালয়ের কাজ শুরু হয়। বিদ্যালয় সংগঠনের কাজে কবি পাশে পান ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়কে। এইভাবে যে স্বপ্নের সূচনা হয়, তা শেষপর্যন্ত পরিণতি পায় ১৯১৮ সালে। ৭ পৌষ উৎসবের পরদিন মহাসমারোহে বিশ্বভারতীর ভিত্তিপত্তন হয়। অধ্যয়নের কাজ শুরু হয় ১৯১৯ সালের ৩ জুলাই। এই সময় দিনরাত শিক্ষা নিয়ে ভাবছেন রবীন্দ্রনাথ, লিখছেন ‘লিপিকা’র ছোটো ছোটো কথিকাগুলি। ১৯২১ সালে রবীন্দ্রনাথ ফ্রান্স ও জার্মানি সফরে যান। এর ফল হয়েছিল অসামান্য। ফরাসি ও জার্মানরা বিশ্বভারতীর গ্রন্থাগারের জন্য প্রচুর বই উপহার দেন। বিশ্বভারতীর দ্বিতীয় পর্বের সূচনা হয়, ১৯২২ সালের ডিসেম্বর মাসে। ১৯২৮ সালে কানাডার ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশন’ রবীন্দ্রনাথকে শিক্ষা বিষয়ে ভাষণ দিতে আহ্বান করে। ১৯৩০ সালে ইংল্যান্ডের শিক্ষা-বিষয়ক অধ্যাপক ফিনডলে তাঁর ‘ফাউন্ডেশন অফ এডুকেশন’ নামে বিরাট গ্রন্থ রবীন্দ্রনাথকেই উৎসর্গ করেন। শিক্ষাদর্শন ও শিক্ষাপদ্ধতি বিষয়ে কবির স্থান যে কতটা উঁচুতে, তা জানা যায় এই গ্রন্থ থেকেই।

আরও পড়ুন: করোনাকালের ডায়েরি ২

ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়

‘শিক্ষা-সংস্কার’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, মুখস্থ করে শিক্ষার্জন একটা ভুল পদ্ধতি। মানুষ তখন শিক্ষার বোঝার নিচে চাপা পড়ে যায়। চলন্ত ‘পুঁথি’ হওয়া কোনো গর্বের বিষয় নয়। এতে উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ হয় না। অথচ ‘‘শিক্ষার প্রকৃত ক্ষেত্র সেইখানেই যেখানে বিদ্যার উদ্ভাবনা চলিতেছে।” মুখস্থ করে পাওয়া বিদ্যা আমাদের অস্থি-মজ্জার সঙ্গে মিশে যায় না। কারণ, ‘‘নিজে চিন্তা করিবে, নিজে সন্ধান করিবে, নিজে কাজ করিবে, এমনতরো মানুষ তৈরি করিবার প্রণালী এক, আর পরের হুকুম মানিয়া চলিবে, পরের মতের প্রতিবাদ করিবে না, ও পরের কাজে জোগানদার হইয়া থাকিবে মাত্র, এমন মানুষ তৈরির বিধান অন্যরূপ।” শিশুকে যদি পুঁথির গোলাম বানিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তার স্বাভাবিক বুদ্ধি বলে কিছু থাকে না। শিক্ষা তখন দুর্বিষহ উৎপীড়ন হয়ে ওঠে। শিশুর মন যতটুকু শিক্ষার ওপরে সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব করতে পারে, অল্প হলেও সেটুকু শিক্ষাই শিক্ষা। এই শিক্ষার অভাবেই আমাদের যা দশা হয়, তা এইরকম:

ভয়ে ভয়ে যাই, ভয়ে ভয়ে চাই
ভয়ে ভয়ে শুধু পুঁথি আওড়াই।

আরও পড়ুন: সুখের সন্ধানে

জার্মানির বার্লিনে বক্

শিক্ষা-প্রসঙ্গেই এসেছে শিক্ষকদের কথা। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, তাঁরাই শিক্ষক হবার উপযুক্ত যারা ধৈর্যবান। ছেলেদের প্রতি স্বভাবতই যাঁদের স্নেহ আছে এই ধৈর্য তাঁদেরই স্বাভাবিক। চাকরির অধিকার নয়, মনুষ্যত্বের অধিকার অর্জন করার জন্যই শিক্ষার প্রয়োজন। আর শিক্ষার জন্য প্রয়োজন বিদ্যালয় বা স্কুলের। যে দেশে জলাশয় নেই, সে দেশে আকাশের বৃষ্টিপাত ব্যর্থ হয়ে যায়। জলাশয় সেই স্থান, যেখানে জল ধরে রাখা হয়। বিদ্যালয় এই জলাশয়। মানুষের প্রতিভা, জানার আকাঙ্ক্ষা ও খোঁজার স্বপ্নকে এখানে ধরে রাখা হয়। তাই কবির ভাষায়, ‘‘বিদ্যালয়ের প্রাণকে অনুভব করো, সমস্ত বাঙালিজাতির প্রাণের সঙ্গে এই বিদ্যালয়ের যে প্রাণের যোগ হইয়াছে। তাহা নিজের অন্তঃকরণের মধ্যে উপলব্ধি করো, ইহাকে কোনোদিন একটা ইস্কুলমাত্র বলিয়া ভ্ৰম করিয়ো না।”

আরও পড়ুন: কাঙ্ক্ষিত আঁধারে

‘ছাত্রসম্ভাষণ’ প্রবন্ধে শিক্ষা নিয়ে বলতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে এই কবিতাটি বলেছেন:

হে বিধাতা, দাও দাও মোদের গৌরব দাও
দুঃসাধ্যের নিমন্ত্রণে
দুঃসহ দুঃখের গর্বে।
টেনে তোলো রসাক্ত ভাবের মোহ হতে।
সবলে ধিকৃত করো দীনতার ধুলায় লুণ্ঠন।

দূর করো চিত্তের দাসত্ববন্ধ,
ভাগ্যের নিয়ত অক্ষমতা,
দূর করো মূঢ়তায় অযোগ্যের পদে
মানবমর্যাদা বিসর্জন,
চূর্ণ করো যুগে যুগে স্তূপীকৃত লজ্জারাশি
নিষ্ঠুর আঘাতে।

নিঃসংকোচে
মস্তক তুলিতে দাও
অনন্ত আকাশে উদাত্ত আলোকে,
মুক্তির বাতাসে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *