সোনারপুরে আই লিগ ট্রফি সহ শোভাযাত্রা

তুহিন প্যাটেল

এ যেন ভুল প্রমাণের আপ্রাণ প্রয়াস। অনেকের মতে মোহনবাগান মানে উত্তর কলকাতা। আদতে তা নয়। মোহনবাগান মানে পুরো বাংলা, এ ক্লাব জাতির গর্ব। দেশেরও বটে।  ২০২০ দ্বিতীয়বার আই লিগ  চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মোহনবাগান। চার ম্যাচ বাকি থাকতেই। অতিমারি পরিস্থিতির জন্য ট্রফি জয়ের দিন থেকে প্রায় আট মাস পর দক্ষিণ কলকাতা নিকটবর্তী সোনারপুর-রাজপুর অঞ্চলে ট্রফি সহ শোভাযাত্রার মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক জয় উদ্‌যাপন করল ভারত সেরা মোহনবাগান সমর্থকরা।

আরও পড়ুন: দাবা: গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার লক্ষ্যে শেষধাপে উঠলেন ১৪ বছর বয়সি যে ভারতীয়

কথায় আছে, মধ্যাহ্নভোজের পর বাঙালি যদি ছুটে চলে তা কেবল ফুটবলের টানেই। বলা চলে আজ যেভাবে কাতারে কাতারে এলাকাবাসী বিজয় মিছিলে যোগ দিল, তা যেন সেই কথিত বাক্যের বাস্তব রূপ।

আরও পড়ুন: টোকিওতে নির্মিত অ্যাথলিটস ভিলেজ অলিম্পিক গেমসের সবচেয়ে নিরাপদ স্থান!

শোভাযাত্রা শুরু হয়েছিল কামরাবাদ তরুণ সংঘ (বেলা ২টো), মিশনপল্লি রামমোহন স্মৃতি সংঘ (২টো ৩০), কামালগাজি স্পোর্টস কমপ্লেক্স (বেলা ৩টে), নরেন্দ্রপুর বেলা (৩টে ৩০), রাজপুর (বিকাল ৪টে ), হরিনাভি (বিকাল ৪টে ৪০) হয়ে বৈকুণ্ঠপুর- সোনারপুর স্পোর্টিং ইউনিয়ন (সন্ধ্যা ৫টা ৩০), শক্তি সংঘ (৬টা)। আই লিগ সহ শোভাযাত্রা শেষ হয় সোনারপুর পাওয়ার হাউজের কাছে সন্ধ্যা ৬টা ৩০-এ।

আরও পড়ুন: প্রথমবার কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নেবে ৮ মহিলা ক্রিকেট টিম, ঘোষণা

মোহনবাগানের প্রতি এলাকাবাসীর আবেগ, ভালোবাসা, আতিথেয়তাই যেন সফল করে তুলেছিল এই জয়যাত্রা। সঙ্গে ছিল স্থানীয় সকল ফ্যান্স ক্লাব যেমন সোনারপুর মেরিনার্স, সবুজ মেরুন স্বপ্ন, ইউনাইটেড মেরিনার্স, বারুইপুর মেরিনার্স ও মোহনবাগান ফ্যান্স বেস মেরিনার্স ডি এক্সট্রিম ইত্যাদি। পড়ন্ত বিকেলে ঘরের কাছে আই লিগ ট্রফি যেন হাতের মুঠোয় চাঁদ পাওয়ার অনুভূতি। আবির, সবুজ মেরুন রং মশালে গোটা এলাকা কার্যত সবুজ মেরুন হয়ে গিয়েছিল।

শোভাযাত্রা যখন এগিয়ে চলেছিল স্লোগানে স্লোগানে। রাস্তার দুই পাশে প্রবীণ সমর্থকেরা তাঁদের স্মৃতিচারণায় বারবার উগরে দিচ্ছিলেন তাঁদের ফেলে আসা দিনগুলি। আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছিলেন ক্লাবের প্রতি এরকম শোভাযাত্রা করে তাদের শৈশব, যৌবন সর্বোপরি ফেলে আসা দিনগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য।

আজ আইএসএল খেলতে নামছে মোহনবাগান। আট থেকে আশি, প্রত্যেকেই নতুন মরশুমের জন্য শুভেচ্ছাবার্তা পাঠাল মোহনবাগানের জন্য। সঙ্গে বুক বাঁধা আশা নিয়ে বলে উঠল, আসছে বছর আবার হবে সেবার আইএসএল জিতে। সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে ট্রফির গাড়িটা মিলিয়ে গেল চোখের পলকে অনেক দূরে। তবু আক্ষেপ নেই, কারণ মোহনবাগান আছে সমস্ত সোনারপুরের হৃদয় জুড়ে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

2 comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *