চালচিত্র এঁকে নিজেই যেন গ্রামের দুর্গা কৃষ্ণনগরের চিত্রকর রেবা পাল

Fasto

তিরুপতি চক্রবর্তী

একজন বর্ষীয়ান চিত্র শিল্পী। নদিয়ার কৃষ্ণনগরের বুকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চালচিত্র আঁকেন। আজ আমরা তাঁর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিচিত হব। চালচিত্র। যাঁরা ভাবছেন সেটা আবার কী! তাঁদের জন্য বলা, প্রাচীনকালে একচালির যে ঠাকুর হত, সেই দেবদেবীর পশ্চাতে যে চালি, তাকে ছবি এঁকে সুসজ্জিত করা হত। এই চিত্রে ফুটে উঠত দেবদেবীর মাহাত্ম্য বা তাঁদের নিয়ে অজস্র কাহিনি। কখনও কাঠে, কখনও কাপড়ের ওপর বা কখনও দেওয়ালকে এই বিশেষ চিত্রকলা দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হত৷

আরও পড়ুন: ঔষধি গাছে ঘেরা ঝাড়গ্রামের কনক দুর্গা

যখন বাঁশের চালি এল, তখন সেই সাজকে মনোরম করতে বর্তমানে দেবদেবীর পেছনে এই চালচিত্র লাগানো হয় কাগজের ওপর আঠা ও রঙের বিশেষ প্রলেপের মাধ্যমে। তার ওপর আঁকা হয় সেই কাহিনি চিত্র।

কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির বাসিন্দা এই রেবা পাল তাঁর একচিলতে ঘরে বসে জানালেন, তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে এই চালচিত্র আঁকছেন। তাঁর স্বামী ছিলেন বিখ্যাত চিত্রকর ষষ্ঠী পাল। তাঁর হাত ধরেই রেবাদেবীর এই পেশায় আসা। তারপর স্বামী মারা গেলে আজ ও তিনি একাই চালিয়ে যান এই শিল্পকীর্তি। রেবাদেবীর বয়স এখন ৭২। এখন তাঁর ছেলে বউমারাও হাত লাগান এই চালচিত্র আঁকায়। তারপর সুদীর্ঘ স্মৃতির সরণি বেয়ে আজ ও তাঁর পথ চলা।

আরও পড়ুন: শান্তিপুরের সাহাপাড়া বারোয়ারি তাঁত শ্রমিকদের ক্লান্তি দূর করে

এই চালচিত্র বিভিন্ন মাপের হয়। যাঁরা নেন, তাঁরাই বলে দেন এবার চালচিত্রে কী ছবি হবে। মূলত এগুলি কুমোরটুলিতেই বিক্রি করেন৷ ঘূর্ণিতেও তাঁর শিল্পকর্মের চাহিদা যথেষ্ট। বিভিন্ন মাপের খবরের কাগজ কেটে তাতে আকাশি রং মাখিয়ে তার ওপর সেই বৈচিত্র্যময় কাহিনি ফুটিয়ে তোলা হয়।

গতবছর কৃষ্ণনগরের সেন্ট্রাল ক্লাব রেবা পালকে নিয়ে একটি ওয়ার্কশপও আয়োজন করে, যাতে আধুনিক প্রজন্ম এই চালচিত্রের প্রতি উৎসাহিত হয়। আধুনিককালে ফ্লেক্স ও অন্যান্য মিডিয়ার বহু কাজ হলেও সাবেকি একচালার প্রতিমায় আজও এই চালচিত্রের ব্যবহার প্রতিমাকে আজও আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্যবহার করা হয়।

ছবি: সংগৃহীত

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *