ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্ট নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই, কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি খারিজ জিনোমিক সার্ভিলেন্সের গবেষকদের

Mysepik Webdesk: দেশে এই প্রথম করোনার নতুন ভ্যারিয়ান্ট ডেল্টা প্লাস-এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়ন এলাকার এক মহিলার। ২৩ মে পতিদার হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। তাছাড়াও মোট ৫ জনের শরীরে সেখানে নতুন প্রজাতির ভাইরাসের সন্ধান মেলে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকেও এর প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। তাদের তরফে জানানো হয়েছিল যে, ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্টটি ভারতের জন্য যথেষ্ট উদ্বেজনক। এই প্রজাতিটির সংক্রমণ ক্ষমতা অনেক বেশি হওয়ার জন্য এরই হাত ধরে ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। তবে কেন্দ্রের এই দাবিকে খারিজ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের জিনোমিক সার্ভিলেন্স (Genomic Surveillance) প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত গবেষকরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ভ্যারিয়ান্ট নিয়ে এখনই ভারতের উদ্বেগের কোনও কারণ নেই।

আরও পড়ুন: মহাকাশে গেলে বাড়বে না বয়স, চাঞ্চল্যকর দাবি মহাকাশবিদদের

ভারত সরকারের অধীনস্থ জিনোমিক সার্ভিলেন্স দলটি মূলত করোনাভাইরাসের চারিত্রিক পরিবর্তনের উপর নজরদারি চালায়। বিভিন্ন জিনক্রোম সংগ্রহ করার পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন ল্যাবের ওপরেও নজরদারি বজায় রাখে ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের এই দলটি। প্রকল্পটির বিশেষজ্ঞরাই জানাচ্ছেন, ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্টের জন্যই যে ভারতে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়বে, এই ধরনের কোনও প্রমাণ তাঁরা এখনও পর্যন্ত পাননি। শুধু তাই নয়, এই ভ্যারিয়ান্টের সংক্রমণ-ক্ষমতা যে অন্যান্যগুলির চেয়ে অনেক বেশি, এমন কোনও প্রমাণও এখন পর্যন্ত তাঁদের কাছে নেই।

আরও পড়ুন: প্রাণ বাঁচাবে ‘পকেট ভেন্টিলেটর’, সদ্য করোনামুক্ত হয়ে আবিষ্কার করলেন বাঙালি চিকিৎসক

এদিকে গোটা দেশে এখনও পর্যন্ত ৪০ জনের দেহে ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্টের হদিশ মিলেছে, যার মধ্যে প্রথমটি পাওয়া গিয়েছিল মহারাষ্ট্রে। গত ১৬ জুন প্রথম এই ভ্যারিয়ান্টটির অস্তিত্ব পাওয়া যায় মধ্যপ্রদেশে। কেরলেও এর অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও আমেরিকা, ব্রিটেন, পর্তুগাল, সুইৎজারল্যান্ড, জাপান, পোল্যান্ড, নেপাল, চিন ও রাশিয়ায় মিলেছে এই ভ্যারিয়ান্ট। ভ্যারিয়ান্ট প্রসঙ্গে আয়োগের সদস্য ভি কে পল জানিয়েছিলেন, করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের একটি রূপান্তরিত রূপ হল এই ডেল্টা প্লাস, যা নিয়ে বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই ভ্যারিয়ান্টের মারাত্মক কোনও ক্ষতিকারক দিক প্রমাণিত হয়নি।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *