রিপন কলেজ: কলকাতা থেকে দিনাজপুর

তুষার শুভ্র বসাক (বাংলাদেশ)

১.

প্রাগৈতিহাসিক ও প্রাচীনতম বৃহৎ জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম― দিনাজপুর (প্রতিষ্ঠিত: ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দ)। অবিভক্ত দিনাজপুরে উচ্চশিক্ষার শিখা ছড়িয়ে দিতে সর্বপ্রথম যে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেটিই আজকের ‘দিনাজপুর সরকারি কলেজ’ (স্থাপিত: ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ)। কলেজের শিকড়-সন্ধানে মেলে একটি নাম― সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বা এস. এন ব্যানার্জি (জন্ম: ১০ নভেম্বর ১৮৪৮, মৃত্যু: ৬ আগস্ট ১৯২৫)। তিনি একজন খ্যাতনামা শিক্ষক, বক্তা এবং জাতীয়তাবাদী নেতা। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত ‘প্রেসিডেন্সি স্কুল’-এর সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা স্কুলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই। মূলত তাঁরই উদ্যোগে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত।

আরও পড়ুন: নদিয়ার পুতুলনাচ

সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রতিষ্ঠার প্রায় বছর দু’য়েক পরে ১ জানুয়ারি ১৮৮৪ (১৮ পৌষ ১২৯১, বৃহস্পতিবার) স্কুলের নাম পরিবর্তন করে ‘প্রেসিডেন্সি ইনস্টিটিউশন’ করা হয়। পরে একই বছরে স্যার সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবে ব্রিটিশ-ভারতের গভর্নর-জেনারেল ও ভাইসরয় লর্ড রিপন (কার্যকাল: ১৮৮০-১৮৮৪)-এর আলোকিত নীতির প্রতি শ্রদ্ধা হিসেবে চিহ্নস্বরূপ প্রতিষ্ঠানের নতুন নামকরণ করা হয় ‘রিপন কলেজ’। নামকরণের ক্ষেত্রে গভর্নরের পূর্ণ সম্মতি ছিল। যাইহোক, সেই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে নতুন শ্রেণি ও বিষয় খোলা হয়। ফলাফলস্বরূপ, কলেজটি নতুন নামের পাশাপাশি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি কলেজের মর্যাদা লাভ করে। মর্যাদাপূর্ণ এই রিপন কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন গোবিন্দ চন্দ্র দাস (কার্যকাল: ১৮৮৪-১৮৮৭)।  

Gobinda Chandra Das.jpg
গোবিন্দ চন্দ্র দাস

১৮৮৪-১৮৮৫ শিক্ষাবর্ষে আইন বিভাগ খোলার মাধ্যমে রিপন কলেজের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হয়, যা পরবর্তীতে ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে ‘রিপন আইন কলেজ’ নামে একটি পৃথক কলেজে রূপান্তরিত হয়। শিকড়-সন্ধানে এও জানা যায়, দেশভাগের পর কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতির নির্দেশে ১৯৪৮-১৯৪৯ শিক্ষাবর্ষে ‘রিপন গ্রুপ অব ইনস্টিটিউশন’-এর সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে নামাঙ্কিত করা হয়।

আরও পড়ুন: পূর্ণচন্দ্র ব্যানার্জি, মোহনবাগান এবং বাঙালির প্রথম অলিম্পিকে অংশগ্রহণ: ১৫ আগস্ট, ১৯২০

২.

ভারতবর্ষে ব্রিটিশ-রাজের প্রশাসনিক সময়ের (১৮৫৮-১৯৪৭) প্রায় শেষভাগে বাংলার তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন, সরকারি সফরসূচি মেনে দিনাজপুর জেলাশহরে আসেন। মন্ত্রীর ব্যক্তিগত ও অফিসিয়াল সহায়তা লাভের প্রত্যাশায় দিনাজপুরের মুসলিম রেনেসাঁ আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হেমায়েত আলি, সেই সময় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজের প্রতিষ্ঠিত লালবাগের ‘মুসলিম মঙ্গল পাঠাগার’-এর নাম শিক্ষামন্ত্রীর নামে নামাঙ্কিত করার অনুমতি প্রার্থনা করেন। শিক্ষামন্ত্রী অনুমতি দিলে ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৩, ১ ফাল্গুন ১৩৩৯, সোমবার; শিক্ষামন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন কতৃর্ক জেলাশহরের মুন্সিপাড়ায় পূর্বনির্ধারিত স্থানে নতুন নামকরণে গ্রন্থাগারটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে ‘স্যার খাজা নাজিমুদ্দিন মুসলিম হল ও লাইব্রেরী’ নামে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের মার্চে গ্রন্থাগারটির নাম পরিবর্তন করে প্রতিষ্ঠাতার নামে ‘হেমায়েত আলী পাবলিক লাইব্রেরি’ করা হয়েছে। ইতিহাস বিবেচনায় যা অত্যাবশ্যকীয় ছিল।

আরও পড়ুন: স্বাধীনতার সূর্যদের লড়াইধন্য সেইসব পবিত্র ভূমি

সেই সফরকালে দিনাজপুরবাসীর পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীকে একটি মানপত্র দেওয়া হয়। যেখানে সমাজে প্রচলিত নানা কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জনমনে শিক্ষার আলো ছড়ানোর লক্ষ্যে দিনাজপুরে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপিত হয়েছিল। কিন্তু রংপুরের ‘কারমাইকেল কলেজ’ (স্থাপিত: ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দ)-কে ইঙ্গিত করে মন্ত্রী মহোদয় মানপত্রের দাবির উত্তরে বলেছিলেন, “নিকট জেলা রংপুরে একটি ভালো কলেজ হইয়াছে। এইরূপ অবস্থায় দিনাজপুরে একটি কলেজ করা কখনই ঠিক হইবে না।” সেই সময় শিক্ষামন্ত্রীর অমত থাকায় দিনাজপুরে কোনও কলেজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এই ঘটনার এক দশকের মধ্যেই সকলকে বিস্মিত করে দিনাজপুরে একটি কলেজ স্থাপিত হয়।

বিংশ শতাব্দীর চল্লিশের দশকে ২য় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-১৯৪৫) যখন চলমান, তখন বাংলার কলকাতাকেন্দ্রিক বড় বড় কলেজগুলো অন্যান্য জেলায় শাখা-কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। উদ্যোগের কর্মপ্রক্রিয়ায়, ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ৯ মার্চ, শ্রী অবিনাশ চন্দ্র মিত্র (বিদ্যাসাগর কলেজের প্রাক্তন ছাত্র)-র সভাপতিত্বে বীরভূম জেলার সিউড়ি মহকুমায় ‘বিদ্যাসাগর কলেজ’ (স্থাপিত: ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দ; যা ‘মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন’ নামে ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত)-এর শাখা ‘সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজ’ স্থাপিত হয়। সেই সময়ে বাঁকুড়া জেলাতে ‘বঙ্গবাসী কলেজ’ (স্থাপিত: ২৭ নভেম্বর ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দ)-এর একটি শাখা-কলেজ খোলা হয়।

শাখা-কলেজ খোলার ব্যাপারে ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ থেকেই রিপন কলেজের কর্তৃপক্ষ তৎপর ছিল। ইতিপূর্বে ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে মীরা দত্ত গুপ্ত (জন্ম: ৫ অক্টোবর ১৯০৭, মৃত্যু: ১৮ জানুয়ারি ১৯৮৩) কলেজে মেয়েদের জন্য একটি পৃথক শাখা খোলেন যা পরবর্তীতে ‘সুরেন্দ্রনাথ কলেজ ফর উইমেন’ (স্থাপিত: ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ) নামে সুপরিচিত হয়। মীরা দত্ত গুপ্ত রিপন কলেজের মহিলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা-অধ্যক্ষ। কিন্তু এইবারের প্রসঙ্গ ছিল অন্য জেলায় শাখা-কলেজ স্থাপন নিয়ে। সম্মিলিত ও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বাত্মক ক্ষমতা কলেজের অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনারায়ণ ঘোষ (কার্যকাল: ১৯৩১-১৯৪১)-এর উপর ন্যস্ত করেন।

আরও পড়ুন: স্বাধীনতা আন্দোলনে মুর্শিদাবাদ

তথ্যমতে, রবীন্দ্রনারায়ণ ঘোষ বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার সদর উপজেলার পাহাড়পুর-বালুয়াডাঙ্গা মহল্লার এক উকিল-পরিবারের গর্বিত সন্তান। তিনি ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে শারদীয় দুর্গোৎসবের ছুটিতে দিনাজপুরে এসেই রিপন কলেজের শাখা স্থাপনের নিমিত্তে জরুরি সভা আহ্বান করেন। সেই সভায় একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়। মহারাজা বাহাদুর ক্যাপ্টেন জগদীশনাথ রায়, রায়সাহেব শরদিন্দু নারায়ণ রায়, রায়সাহেব পূর্ণেন্দুনারায়ণ রায়, যতীন্দ্রমোহন সেন, চন্দ্রকান্ত দাস, দুর্গামোহন রায়, খান বাহাদুর একিনউদ্দিন আহমদ, কাদের বক্স মির্জা, খান সাহেব সৈয়দ তোজাম্মেল আলি, মৌলানা আব্দুল্লাহিল বাকী, মৌলভী হাসান আলি-সহ প্রমুখ ব্যক্তিত্ব ছিল সেই কমিটির সদস্য।

কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে প্রাথমিক পর্যায়ে সংগৃহীত ১৩ হাজার টাকা নিয়ে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ১ জুলাই ‘মহারাজা গিরিজানাথ উচ্চ বিদ্যালয়’-এর দৃষ্টিনন্দন লাল অ্যাকাডেমিক ভবনটিতে ‘রিপন কলেজ, দিনাজপুর’-এর প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। তবে শ্রেণি-কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে, বিদ্যালয়ের মর্নিং শিফটে পাঠদানের মধ্য দিয়ে। অমরেন্দ্র কুমার ঠাকুর (কার্যকাল: ১ জুলাই ১৯৪২-১৯৪৪) শাখা রিপন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-অধ্যক্ষ। পর্যায়ক্রমে ক্ষিতীশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় বা কে. সি. ব্যানার্জি (কার্যকাল: ১৯৪৪-জুন ১৯৪৬) অধ্যক্ষ পদে আসীন হয়ে কলেজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করেন।

সেই সময়ে কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক ছিল কলকাতানিবাসী। ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব (দর্শন; জি. সি. দেব নামে অধিক পরিচিত এই মহান ব্যক্তিত্ব একাত্তরের শহিদ বুদ্ধিজীবীদের একজন), হাসমত উল্লাহ (আরবি, পার্সি), এস. গাঙ্গুলি (বায়োলজি; একমাত্র স্থানীয় শিক্ষক), অমরেন্দ্র কুমার ঠাকুর (ইংরেজি) প্রমুখ বরেণ্য ব্যক্তিত্ব এই শাখা রিপন কলেজে শিক্ষাদান করতেন। কলেজের ১ম বর্ষে ৩টি অনুষদে শিক্ষার্থী ছিল ১৫০─১৭৫ জন। তখন আই.এ, আই.কম শ্রেণিতে ৭ টাকা, আই.এসসি এবং বি.এ, বি.কম শ্রেণিতে ৯ টাকা বেতন ছিল। বলা বাহুল্য, আলহাজ্ব মহম্মদ শামসুদ্দিন আহমেদ (সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস, দিনাজপুর সরকারি কলেজ), মো. তাহের উদ্দিন আহমেদ (প্রখ্যাত ব্যবসায়ী; স্বত্বাধিকারী, গ্রিন সুপার মার্কেট, দিনাজপুর), আলহাজ্ব মহম্মদ সামছউদ্দিন খান (সমাজসেবী) শাখা রিপন কলেজের ১ম বর্ষের (শিক্ষাবর্ষ: ১৯৪৩-১৯৪৪) শিক্ষার্থী ছিলেন। দিনাজপুরের বিশিষ্ট আইনজীবী মহম্মদ ইছাহাক ছিলেন এর পরবর্তী বর্ষের শিক্ষার্থী।

১৯৪৫-১৯৪৬ শিক্ষাবর্ষে শাখা রিপন কলেজের কার্যক্রম মহারাজা গিরিজানাথ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ‘দিনাজপুর পৌরসভা হাই স্কুল’ (বাংলা স্কুল) সংলগ্ন ‘মুসলিম স্টুডেন্টস এডুকেশন বোডিং’ (মুসলিম হস্টেল নামে অধিক পরিচিত)-এ স্থানান্তরিত করা হয়। উল্লেখ্য, এই মুসলিম হোস্টেলটি ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রারব্ধে ‘জিলা স্কুল’-এর শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে জিলা স্কুলের নিজস্ব ‘লিয়ন হোস্টেল’ ভবন নির্মিত হলে এই হস্টেলটি কলেজ পর্যায়ের তৎকালীন মুসলমান শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত করা হয়।

আরও পড়ুন: গীতিকার টানে…

রিপন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মহম্মদ ইছাহাক-এর ভাষ্যমতে, “তিনি ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে রিপন কলেজের ছাত্র হিসেবে ভর্তি হোন এবং ১ বছর মহারাজা গিরিজানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে ক্লাস করার পর ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে মুসলিম হোস্টেল ভবনে নতুন নামাঙ্কিত ‘সুরেন্দ্রনাথ কলেজ’-এ চলে আসেন।” অর্থাৎ ১৯৪৬-১৯৪৭ শিক্ষাবর্ষেই কলেজটি শাখা ‘রিপন কলেজ’ থেকে ‘সুরেন্দ্রনাথ কলেজ’ (সংক্ষেপে এসএন কলেজ)-এ রূপান্তরিত হয়।

১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ২৩ সেপ্টেম্বর, ৬ আশ্বিন ১৩৫৩, সোমবার; মুসলিম হস্টেলের ম্যানেজিং কমিটির সেক্রেটারি তাজউদ্দিন-এর সঙ্গে ‘সুরেন্দ্রনাথ কলেজ প্রভিন্সিয়াল ম্যানেজিং কমিটি’ একটি ভাড়াচুক্তি সম্পাদন করে। ভাড়াচুক্তি দলিল নং ৩৩৯০, ৩৩৯১; তারিখ: ২৩/০৯/১৯৪৬-এর তথ্যমতে, ১৬ আগস্ট ১৯৪৬ (১৩ শ্রাবণ ১৩৫৩, শুক্রবার) হতে পরবর্তী ৩৬ মাসের জন্য সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পক্ষে সম্মানীয় অধ্যক্ষ ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব কমিটির সেক্রেটারি রূপে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। দিনাজপুরের প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব শাহজাহান শাহ কলেজ-জীবনের স্মৃতি মন্থন করে যে ভাষ্য দিয়েছেন, “ড. জি. সি. দেব ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে শাখা রিপন কলেজকে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে রূপান্তরিত করে নিজেই অধ্যক্ষের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন”। তাই বলা যায়, এসএন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-অধ্যক্ষ ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব (কার্যকাল: জুলাই ১৯৪৬-জুন ১৯৫৩)।

ড. জি. সি. দেব ও হাসমত উল্লাহ-ব্যতীত অন্যান্য শিক্ষক দেশ বিভাজনের জেরে ভারতে চলে যান। এরফলে কলেজ পরিচালনায় দেখা দেয় সাময়িক জটিলতা। জনশ্রুতি রয়েছে, এসএন কলেজে ভর্তি হয়ে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার জন্য ড. জি. সি. দেব বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে শিক্ষার্থীদের আহ্বান করতেন। দেশভাগের পূর্বেই শাখা রিপন কলেজ, সুরেন্দ্রনাথ কলেজে রূপান্তরিত হলেও দেশভাগকে কেন্দ্র করে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ সম্পর্কিত একটি মিথ প্রচলিত আছে। বহুল প্রচলিত এই মিথটি হল― ভারত-পাকিস্তান ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতের কলকাতার রিপন কলেজ কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশের দিনাজপুরের শাখা রিপন কলেজের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করে। ফলে শাখা-কলেজ পরিচালনায় দেখা দেয় জটিলতা। এরই মধ্যে কলকাতায় রিপন গ্রুপ অব ইনস্টিটিউশনের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম স্যার সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে নামাঙ্কিত করার আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন ছিল। তাই ‘সুরেন্দ্রনাথ কলেজ’ নাম রাখার শর্তসাপেক্ষে কলকাতার রিপন কলেজ কর্তৃপক্ষ, শাখা-কলেজের যাবতীয় সম্পত্তি শাখা রিপন কলেজকে দান করে।

আরও পড়ুন: সূর্যে নাকি লকডাউন

৩.

ঐতিহাসিক তথ্যমতে, ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে যোগদানের পূর্বপর্যন্ত এসএন কলেজের শিক্ষার শিখা সমুজ্জ্বল রাখার গুরুদায়িত্ব পালন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ ড. জি. সি. দেব (জন্ম: ১ ফেব্রুয়ারি ১৯০৭, মৃত্যু: ২৬ মার্চ ১৯৭১)। এসএন কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসের নিমিত্তে তিনি ১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭, ১৫ ভাদ্র ১৩৫৪, সোমবার; বার্ষিক ৩৩৯.১৩ টাকা পৌরকর প্রদানের ভিত্তিতে এবং ৯৯ বছরের জন্য লিজ নেওয়ার সাপেক্ষে নিমনগর মৌজায় ১১.৬৯ একর জায়গা ক্রয়ের জন্য সুরেন্দ্রনাথ কলেজ প্রভিন্সিয়াল ম্যানেজিং কমিটির সেক্রেটারি হিসেবে দিনাজপুর পৌরসভার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করেন (লিজচুক্তি দলিল নং ৩৯৮৮; তারিখ: ২৩/০৯/১৯৪৭)।

অবশেষে ১৯৫৩-১৯৫৪ শিক্ষাবর্ষে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ, দিনাজপুর পৌরসভার নিমনগর মৌজার দক্ষিণ বালুবাড়িতে প্রায় ১১.৬৯ একর জমির উপর নির্মিত নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়। কলেজের মূল ক্যাম্পাসের বাইরে একটি পৃথক জমিতে অধ্যক্ষের বাসভবন নির্মিত হয়। ভৌগলিক পরিভাষায় সেই বাসভবন যেন মূল ক্যাম্পাসের একটি ছিটমহল। ’৫২-র ভাষা আন্দোলনের কয়েকমাস পরেই ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৫২ (৩০ ভাদ্র ১৩৫৯), সোমবার এসএন কলেজের জন্য দিনাজপুরের প্রখ্যাত আইনজীবী বিজয় রঞ্জন মিত্রের নিকট হতে ২২,৫০০ টাকায় আরেকটি জমি ক্রয় করা হয়। এই ক্রয়কৃত জমিতেই অধ্যক্ষের বাসভবন নির্মিত। প্রথমদিকে এই ভবনের নিচতলাটি কলেজের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহৃত হত এবং ভবনের উপরের তলায় থাকতেন সম্মাননীয় অধ্যক্ষ। যাইহোক, এই জমির ক্রয় দলিলেও ড. জি. সি. দেবকে অধ্যক্ষ এবং কমিটির সেক্রেটারি পদে দেখা যায়।

আরও পড়ুন: মুর্শিদাবাদ জেলার সংবাদ-সাময়িক পত্রের দু’শো বছর

সুরেন্দ্রনাথ কলেজ প্রভিন্সিয়াল ম্যানেজিং কমিটিতে তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পানউল্লাহ আহমদ (কার্যকাল: ১ জুলাই ১৯৪৯-১৯৫৩) প্রেসিডেন্ট পদে এবং ড. জি. সি. দেব (অধ্যক্ষ, সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) সেক্রেটারি পদে দায়িত্বরত ছিলেন। এই বরেণ্য ব্যক্তিদ্বয়ের পাশাপাশি চন্দ্রকান্ত দাস, মাধোলাল আগরওয়ালা, প্রফেসর ড. আর সি ঘোষ, মৌলানা আব্দুল্লাহিল বাকী, মৌলভী হাসান আলি, খান সাহেব সৈয়দ তোজাম্মেল আলি, মৌলানা হাফিজ উদ্দিন চৌধুরী, ড. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মৌলভী তাজউদ্দিন আহমদ, মো. আব্দুস সুকুর চৌধুরী, মৌলভী মহম্মদ জামিল, প্রফেসর হাসমত উল্লাহ এমএ-সহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ কমিটির সদস্য ছিলেন।

১৬ আগস্ট ১৯৪৬ থেকে শুরু করে পরবর্তী ৩৬ মাসের জন্য মুসলিম হস্টেলটি ভাড়া নেওয়া হয়। এই তথ্যের ভিত্তিতে, ১৫ আগস্ট ১৯৪৯-এ চুক্তি সমাপ্ত হবে এটাই স্বাভাবিক। আবার ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের জুলাই নাগাদ কলেজটি দক্ষিণ বালুবাড়ির নতুন ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়। এখন মদ্দা কথা হল, মাঝের (১৯৪৯-১৯৫৩) ৪ বছরের তথ্যাদি স্পষ্ট নয়। তাই অনুমেয় হয়, পরবর্তীতে ভাড়ার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে সৈয়দ মোজাফফর উদ্দীন নাদভি (কার্যকাল: ১৯৫৮-১৯৬৩) যখন এসএন কলেজের অধ্যক্ষ, তখন বৃহত্তর দিনাজপুরে একটি স্বতন্ত্র ডিগ্রি কলেজ স্থাপনের নিমিত্তে তৎকালীন প্রাদেশিক সরকার এসএন কলেজের কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বভার অর্পণ করে। এই কাজে গভর্নিং বডিতে সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসক এবং সদস্য সচিব হিসেবে এসএন কলেজের অধ্যক্ষ কর্তব্যরত ছিলেন। এই কাজের রেশ ধরেই জেলাপ্রশাসন ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে সুইহারি মৌজায় ৬১.৪৯ একর জমি অধিগ্রহণ করতে শুরু করে। পরবর্তীতে ১ম পর্যায়ে ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে প্রশাসনিক ভবন, কলা ভবন, বিজ্ঞান ভবন, অডিটোরিয়াম, প্রধান হস্টেল ও শিক্ষক কোয়ার্টার-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

আরও পড়ুন: ‘অবন ও রবি’ স্বয়ং

শেষত ১৯৬৬-১৯৬৭ শিক্ষাবর্ষে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের যাবতীয় আসবাবপত্র, নথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী-সহ ‘দিনাজপুর ডিগ্রি কলেজ’-এর যাত্রা শুরু হয়। খোলাসা করে বললে বলা যায়, একটি স্বতন্ত্র ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে খোদ সুরেন্দ্রনাথ কলেজ বা এসএন কলেজ নিমনগর মৌজার নিজস্ব ক্যাম্পাস ছেড়ে জেলাশহরের উত্তরে সুইহারী মৌজায় জেলাপ্রশাসন কতৃর্ক অধিগ্রহণকৃত জমিতে স্থানান্তরিত হয়। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয়, ডিগ্রি কলেজের নাম সুরেন্দ্রনাথ ডিগ্রি কলেজ না রেখে দিনাজপুর ডিগ্রি কলেজ নামকরণের ক্ষেত্রে তৎকালীন জেলা প্রশাসক আব্দুর রব চৌধুরী (কার্যকাল: ১৯৬৫-১৯৬৭)-এর বিশেষ ভূমিকা ছিল। ধারণা করা হয়, নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের হিন্দু-বিদ্বেষী মনোভাব কাজ করেছিল। কিন্তু ধারণার যৌক্তিকতা আজও অস্পষ্ট কারণ বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ (স্থাপিত: ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দ) এবং খুলনার ব্রজলাল কলেজ (স্থাপিত: ২৭ জুলাই ১৯০২ খ্রিস্টাব্দ) প্রতিষ্ঠাকালীন নামেই এখনও শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। জেলা প্রশাসক আব্দুর রব চৌধুরী কলেজের নাম বদলের বিষয়ে যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন, শাখা রিপন কলেজ স্থাপনে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও ভূমিকা ছিল না। তিনি শাখা রিপন কলেজ প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন। তার নামে কলেজের নামকরণ যুক্তিসংগত নয়। অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল দিনাজপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।

আরও পড়ুন: সিসিফাস ও স্বচ্ছতার পাঠান্তর

তথ্য-বিশ্লেষণে জানা যায়, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন (কার্যকাল: ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬-১১ অক্টোবর ১৯৫৭) ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে তার মন্ত্রিসভায় এসএন কলেজটিকে রাষ্ট্রীয়করণের উদ্যোগ গৃহীত হয়। সেই উদ্যোগের প্রায় ১ যুগ পর ১৫ এপ্রিল ১৯৬৮, ২ বৈশাখ ১৩৭৫, সোমবার; প্রাদেশিকীকরণ করার ফলে দিনাজপুর ডিগ্রি কলেজের নতুন পোশাকি নাম হয়― ‘দিনাজপুর সরকারি কলেজ’। পুনর্ভবা নদীর কোল ঘেঁষা দিনাজপুর সরকারি কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন মহম্মদ খোদা বখশ (কার্যকাল: ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৬৮-৪ মে ১৯৭০)।

এসএন কলেজ স্থানান্তরিত হবে জেনে স্থানান্তরের পূর্ব থেকেই পরিত্যক্ত ক্যাম্পাসে একটি মহিলা কলেজ স্থাপনের জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দাবি উত্থাপন করে। দাবি পূরণের নিমিত্তে জেলা প্রশাসক আব্দুর রব চৌধুরীকে সভাপতি এবং সমাজকর্মী আজিজুল হক চৌধুরীকে সম্পাদক করে একটি কমিটি গঠিত হয়। গঠিত কমিটির কর্মতৎপরতায়― পরিত্যক্ত ক্যাম্পাসটিতে ১ জুলাই ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে ‘দিনাজপুর মহিলা কলেজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠায় জেলা প্রশাসক আব্দুর রব চৌধুরীর স্ত্রী সুলতানা চৌধুরীর দক্ষতা ও ভূমিকা প্রশংসনীয়। মিসেস মাজেদা বেগম দিনাজপুর মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-অধ্যক্ষ।

১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে, অধ্যক্ষ আতিউর রহমান (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬-এর সাধারণ নির্বাচনে দিনাজপুর-৬ আসনের বিজয়ী প্রার্থী)-এর দৃঢ় প্রচেষ্টায় মহিলা কলেজটির জাতীয়করণ ঘটে। ফলে কলেজের নতুন নাম হয় ‘দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজ’। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা বিভাগের পক্ষে এসএন কলেজের নামে রেজিস্ট্রীকৃত ১১.৬৯ একর জমি দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়। দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ মিসেস ওমেদা বেগম।

আরও পড়ুন: ইমারজেন্সি এবং কিশোর কুমার: পুরনো বিতর্ক নতুন করে দেখা

সময়চক্রে বহু পোশাকি-নাম শাখা রিপন কলেজটিকে আপন পরিচয়ে উদ্ভাসিত করেছে। রিপন কলেজ, দিনাজপুর (১ জুলাই ১৯৪১-জুন ১৯৪৬)→সুরেন্দ্রনাথ কলেজ বা এসএন কলেজ (১ জুলাই ১৯৪৬-জুন ১৯৬৬)→দিনাজপুর ডিগ্রি কলেজ (১ জুলাই ১৯৬৬-১৪ এপ্রিল ১৯৬৮)→দিনাজপুর সরকারি কলেজ (১৫ এপ্রিল ১৯৬৮─বর্তমান)।

বর্তমানে দিনাজপুর সরকারি কলেজের নামে অধিকৃত জমি, ৩টি এলাকায় বিভক্ত। সুইহারী মৌজায় মূল কলেজ ক্যাম্পাস; মুন্সিপাড়া মৌজার বাংলা স্কুল সংলগ্ন মুসলিম হোস্টেল যা উচ্চ মাধ্যমিক শাখার ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং নিমনগর মৌজার দক্ষিণ বালুবাড়িতে অবস্থিত অধ্যক্ষের বাসভবন যা দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের উত্তরে চাঁদেরহাট ক্লাবের একটি প্রতিবেশী স্থাপনা। বর্তমানে বড়বন্দরে অবস্থিত ‘বালুবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি’ হিসেবে ব্যবহৃত ঐতিহ্যপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ভবনটি (যোগেনবাবুর বাড়ি) একসময় এসএন কলেজের সনাতন সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘হিন্দু হোস্টেল’ ছিল। জানা যায়, অধ্যাপক দিনেন্দ্র নাথ বৈশ্য ছিলেন হিন্দু হস্টেলের তত্ত্বাবধায়ক। এরপরও হিন্দু হস্টেলের অস্তিত্ব নিয়ে অনেকে দ্বিমত পোষণ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দিনাজপুর সরকারি কলেজে বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও কলা― এই ৩ অনুষদে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক (পাস) পর্যায়ে নিয়মিত পাঠদানসহ স্নাতক পর্যায়ে ১৫টি, স্নাতকোত্তর প্রথমপর্বে ৮টি ও শেষপর্বে ১৫টি বিষয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা আছে। বর্তমানে ২২ হাজার ছাত্রছাত্রীর এই প্রিয় শিক্ষায়তনে বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষকতায় নিয়োজিত ১১৪ জন এবং ১৭ জন বিভাগ সহকারী কর্মচারী ও ১৯ জন অধ্যক্ষ অফিস কর্মচারী, নিবেদিতপ্রাণে প্রাণভ্রমরার মতো মাতিয়ে রাখে কলেজের বাতাবরণ।

তথ্যসূত্র:
১.  দিনাজপুর সরকারি কলেজ অতীত ও বর্তমান: একটি পর্যালোচনা― প্রফেসর সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন (প্রাক্তন অধ্যক্ষ, দি. স. ক); সৃজনী, মো. লাল মিঞা (সম্পাদিত), কলেজ ম্যাগাজিন ২০১৮, দি. স. ক। পৃষ্ঠা: ১৩─১৭
২. সৃজনী, মো. লাল মিঞা (সম্পাদিত), কলেজ ম্যাগাজিন ২০১৯, দি. স. ক।
৩. রিপন থেকে এনএন, অতঃপর দিনাজপুর সরকারি কলেজ― আজহারুল আজাদ জুয়েল; স্থানীয় ইতিহাস, প্রফেসর ড. মো. মাহবুবর রহমান (সম্পাদিত), সংখ্যা ২১, জুন ২০১৯। পৃষ্ঠা: ১৭৯─১৮১।
৪. দিনাজপুর-রংপুর জেলার শিক্ষা বিবর্তন― ড. মুহম্মদ মনিরুজ্জামান; প্রকাশক বেগম মেরিনাজামান, বালুবাড়ি, দিনাজপুর, অক্টোবর ২০০৬।
৫. মোহাম্মদ হেমায়েত আলী: জীবন ও কর্ম― মু. আব্দুল জব্বার। পৃষ্ঠা: ৬১।
৬. শেকড়ের সন্ধানে-২ (স্মরণিকা); এসএন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান—২০১৬ উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যা।
৭. ওয়েবসাইট― সুরেন্দ্রনাথ কলেজ, সুরেন্দ্রনাথ কলেজ ফর উইমেন, দিনাজপুর সরকারি কলেজ, দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজ।

Facebook Twitter Email Whatsapp

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *