Latest News

Popular Posts

রকেটের দিন ফুরোলো! মহাকাশে যেতে ব্যবহার করা হবে ‘স্পেস এলিভেটর’

রকেটের দিন ফুরোলো! মহাকাশে যেতে ব্যবহার করা হবে ‘স্পেস এলিভেটর’

Mysepik Webdesk: মহাকাশে যেতে আর প্রয়োজন হবে না রকেটের। জাপানের সংস্থা ওবায়াশি কর্পোরেশন (Obayashi Corporation) স্পেস এলিভেটর (Space elevator) নামে নতুন একটি প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে। বাড়িতে যেমন লিফ্ট বা এলিভেটর ব্যবহার করা হয় এক তলা থেকে অন্য তলায় সহজে যাতায়াত করার জন্য, ঠিক তেমনি এই লিফ্ট ব্যবহার করে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যাবে মহাকাশে। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত পৃথিবীতে বিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে চিন্তাভাবনাও করতে পারেননি। কারণ, তখনও এমন কোনও শক্তিশালী পদার্থ তৈরি হয়নি, যার সাহায্যে মহাশুন্যে এলিভেটর বহনের জন্য বিশাল আকৃতির কেবল (Cable) তৈরি করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: বড়দিনে লঞ্চ হল দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপ

১৯৯১ সালে কার্বন ন্যানোটিউব (Carbon Nanotube) আবিষ্কার হলে স্পেস এলিভেটরের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে শুরু করে। কার্বন ন্যানোটিউব পৃথিবীর শক্তিশালী পদার্থগুলির মধ্যে একটি, যা লোহার চেয়েও একশো গুন বেশি শক্তিশালী। ওজনে হালকা ও লোহার চেয়ে শক্তিশালী হওয়ার জন্য ভারী বস্তু বহনে সক্ষম। কার্বন ন্যানোটিউব তৈরি করা হয় কার্বন পরমাণুকে বিশেষভাবে সজ্জিত করে। স্পেস এলিভেটরের জন্য কার্বন ন্যানোটিউব ব্যবহার করে ৯৯ হাজার দীর্ঘ কেবল তৈরি করা হবে। বিশালাকার এই কেবলের একপ্রান্ত থাকবে পৃথিবীপৃষ্ঠে এবং অন্য প্রান্ত থাকবে ৯৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় মহাশুন্যে। ভারসাম্য রক্ষায় কেবলের উপরের অংশটি যুক্ত করা হবে ১২৫০০ টন ওজনের স্পেস স্টেশন। এলিভেটর হিসেবে ব্যবহার করা হবে বিদ্যুত চালিত রোবটিক গাড়ি।

আরও পড়ুন: এলন মাস্কের রকেটে চড়ে মহাকাশে যাবেন প্রথম রাশিয়ান মহিলা

এলিভেটর ছাড়াও কেবলে সংযুক্ত থাকবে লুনার গ্রাভিটি সেন্টার (Lunar Gravity Center), জিও স্টেশনারি আর্থ অরবিট স্টেশন (Geostationary Earth Orbit Station), মার্স গেট (Mars Gate) এবং সোলার সিস্টেম এক্সপ্লোরেশন গেট (Solar System Exploration Gate)। ওবায়াশি কর্পোরেশন ২০২৫ সালের মধ্যে প্রোজেকটি শুরু করার লক্ষমাত্রা রেখেছে। পুরো নির্মাণকাজ শেষ করতে সময় লাগবে ২০ থেকে ২৫ বছর। নির্মাণকাজের ব্যায় হতে পারে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। মনে করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে এই স্পেস এলিভেটরের কাজ সম্পূর্ণ হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে প্রতি ফ্লাইটে অনায়াসে ১০০ টন কার্গো ও যাত্রী মহাকাশে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: ৩০ হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইট দিয়ে ঘিরে ফেলা হচ্ছে পৃথিবীকে!

বর্তমানে কার্গো রকেটে করে মহাকাশে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাঠাতে প্রতি কেজিতে খরচ হয় প্রায় ২২০০০ ডলার। স্পেস এলিভেটরে সেই খরচ কমে হবে ২০০ ডলারের কাছাকাছি। মহাকাশ যাত্রার পাশাপাশি এটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে পৃথিবীর বাইরে বিভিন্ন গ্রহগুলিতে বিভিন্ন মিশন পরিচালনার জন্য। দূরবর্তী গ্রহগুলিতে মিশন পরিচালনার সময় এটিকে স্টপেজে হিসেবে ব্যবহার করা হবে। স্বাভাবিকভাবে স্পেস এজেন্সিগুলির (Space Agency) কাছে এই প্রযুক্তি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *