মেসির জন্মদিনে রোনাল্ডোর ঝড়, ইউরোর শেষ ষোলোতে পর্তুগাল

সায়ন ঘোষ

লড়াইটা ছিল ফ্রান্সের প্রতিশোধ নেওয়ার। ২০১৬ ইউরোর ফাইনালের বদলা নেওয়ার লড়াই। কিন্তু শেষ অবধি লড়াইয়ের ফল অমীমাংসিত। এদিন ফার্নান্দো স্যান্টোস দল নামান ৪-১-৪-১ ছকে। গোলে রুই প্যাট্রিসিও। রক্ষণভাগে সেমেদু, পেপে, রুবেন ডিয়াস, রাফায়েল গুয়েরিয়ো। এদের সামনে রাখেন দানিলোকে ডিফেন্সিভ মিডিও হিসাবে। এদিন ব্রুনো ফার্নান্দেজ প্রথম একাদশে ছিলেন না। রেনাতো স্যাঞ্চেজ ও জোয়াও মোতিনহো আজ প্রথম একদশে ছিলেন। চার মিডিও ছিলেন বার্নাডো সিলভা, রেনাতো স্যাঞ্চেজ, মৌতিনহো, ডিয়েগো জটা। আপফ্রন্টে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। অন্যদিকে ফ্রান্স দল নামায় ৪-২-৩-১ ছকে। গোলে হুগো লরিস। রক্ষণভাগে লুকাস হার্নান্দেজ, কিমবাপে, ভারানে ও কুন্ডে। এদের সামনে দুই ডিফেন্সিভ মিডিও পল পোগবা ও এনগালো কান্তে। তিন এটাকিং মিডিও এমবাপে, গ্রিজম্যান, তোলিসো। আপফ্রন্টে করিম বেঞ্জেমা।

আরও পড়ুন: পিছিয়ে পড়ে জয় নাটকীয় ব্রাজিলের, গোল ঘিরে বিতর্ক

শুরু থেকেই মাঝমাঠের দখল ছিল পর্তুগালের। রেনাতো স্যাঞ্চেজ একাই মাঝমাঠে খেলা তৈরি করে গেলেন। মৌতিনহো, বেনার্ডো সিলভারা দুই উইং দিয়ে আক্রমণ শানাতে থাকেন। অন্যদিকে, পোগবা-কান্তের মতো মিডিও-কে ছন্দে দেখা যায়নি। ফ্রান্স কয়েকবার আক্রমণ শানালেও গোলরক্ষক রুই প্যাট্রিসিও দুর্দান্ত সেভ করেন। ম্যাচের শুরুতে স্যাঞ্চেজের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। রোনাল্ডোর হেড বাঁচান হুগো লরিস। ৩১ মিনিটে মৌতিনহোর ফ্রি-কিক থেকে হেড করার সময় ডানিলোকে ফাউল করেন হুগো লরিস। পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে দেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কিন্তু ৪৫ মিনিটে সেমেদু এমবাপেকে ফাউল করলে পেনাল্টি থেকে গোল শোধ করেন ৬ বছর বাদে জাতীয় দলে ফেরা করিম বেঞ্জেমা।

আরও পড়ুন: মাদেইরার আগুন, রোজারিওর বৃষ্টি

প্রথমার্ধে ১-১ ফলাফল নিয়ে খেলা শুরু হয়। ৪৭ মিনিটে ফের এক দুর্দান্ত ফিনিশে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন করিম বেঞ্জেমা। এরপরে ৫৮ মিনিটে বক্সে জার্মান ডিফেন্ডার কুন্দে হ্যান্ডবল করলে পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। ফের পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। এটি তাঁর ১০৯তম গোল। এই গোলের ফলে তিনি আলি দায়ির সঙ্গে যুগ্মভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে এলেন। মজার ব্যাপার হল, এদিনের ম্যাচটি হয়েছিল হাঙ্গেরির পুসকাস স্টেডিয়ামে। ম্যাচ পিছু গোলের গড়ে পুসকাস সবার উপরে আছেন। ৮৯ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৮৪ গোল করেছেন হাঙ্গেরির গ্রেট ফেরেঙ্ক পুসকাস। বর্তমানে দশজন সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও তিনি আছেন। তাঁর নামাঙ্কিত স্টেডিয়ামে রোনাল্ডো নজির স্থাপন করলেন। তাছাড়াও আজ লিওলেন মেসির জন্মদিন। তাঁর জন্মদিনে পর্তুগাল দলনায়কের এমন নজির স্থাপন করলেন।

আরও পড়ুন: দেশ, সীমান্ত এবং মিলখা সিংয়ের রূপকথা

অন্যদিকে, ম্যাথু ভালবুয়েনা সেক্স টেপ কেলেঙ্কারির জন্য ২০১৫ সালের পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন করিম বেঞ্জেমা। দীর্ঘ ৬ বছর বাদে জাতীয় দলে ফিরে নিজেকে প্রমাণ করলেন তিনি। এদিনের ড্রয়ের ফলে ফ্রান্স ও পর্তুগাল দুই দল শেষ ষোলোতে চলে গেল। অন্যদিকে, হাঙ্গেরি ও জার্মানির ম্যাচ ড্র হলেও জার্মানি শেষ ষোলোতে চলে গেল। শেষ ষোলোতে পর্তুগাল-বেলজিয়াম, জার্মানি-ইংল্যান্ড, ফ্রান্স-সুইজারল্যান্ড মুখোমুখি হবে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *