বাংলাভাষাকে সঙ্গে নিয়ে হিল্লিদিল্লি

সায়ন ঘোষ

বেঙ্গালুরু শহরের ‘পশ’ উপনগরী হোয়াইটফিল্ডের কাছে একটি ছোট্ট জনপদ কাদুগোদি বা কাদুগুড়ি। ঘিঞ্জি, ছোট ছোট রাস্তা। মাঝখান দিয়ে ট্রেনলাইন, হোয়াইটফিল্ড স্টেশন, লোকাল ট্রেন থামে, এক্সপ্রেস ট্রেন প্লাটফর্ম কাঁপিয়ে চলে যায় পরের স্টেশন কে আর পুরমের দিকে। ব্যতিক্রম কয়েকটা ট্রেন। হাওড়া থেকে বেঙ্গালুরুগামী যশবন্তপুর এক্সপ্রেস এক মিনিটের জন্য হলেও থামে। হুড়মুড়িয়ে ট্রেন থেকে নেমে যান যাঁরা, জানেন— আশপাশের কিমি পয়সার লজ, গেস্ট হাউজ, খাবার দোকানগুলো গমগম করছে বাঙালি খদ্দেরে। তাঁদের আকৃষ্ট করতে আছে বাংলায় সাইনবোর্ড, বাঙালি কর্মচারী, বাঙালি মাছ-ভাত-পাঁঠার মাংস। শুনেছি, চেন্নাই বা ভেলোরে চিকিৎসায় লাখো বাঙালি নিয়মিত হাজির হয় এবং সেখানেও নাকি এই রকম বাঙালি উপনিবেশ গড়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: সাহিত্যের ইয়ারবুক (ঠিকানাপঞ্জি): বাংলা সাহিত্য-প্রেমীদের এক মূল্যবান সম্পদ

হোয়াইটফিল্ড বা আইটিপিএলের ঝকঝকে আইটি অফিসে চাকরি করা বাঙালি ব্যাচেলর ছেলেপুলেদের একটা বড় ঠেক এই কাদুগুড়ি। সস্তায় থাকা যায় বলে। কিন্তু তার চেয়েও বড় এই এলাকার খদ্দের, যাঁরা কলকাতা বা শহরতলি থেকে আসেন। তাঁরা একটু নিম্নবিত্ত এবং অসহায়। সত্য সাই হাসপাতালে তাঁরা আসেন চিকিৎসার জন্য। ভোররাত থেকে হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন লাইনে, যদি পাওয়া যায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট। সাইবাবা হাসপাতালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পেলে বৈদেহী অথবা শহরের অন্য কোনও হাসপাতালে যান। দিনের শেষে কাদুগুড়িতে ফিরে রাস্তায় চায়ের দোকানে যখন তাঁরা চা পান করেন কিংবা খেতে যান, বাংলা শুনে বোঝার উপায় থাকে না জায়গাটা কলকাতা না।

প্রথম কলকাতা ছেড়ে বেঙ্গালুরু গিয়ে বেশ অবাক হয়েছিলাম ব্যাপারাটা দেখে। এত পেশেন্ট! এত প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসছেন। আর শুধু পশ্চিমবঙ্গ কেন, বাংলাদেশ থেকেও আসছে জনস্রোতের মতো। দালালদের খপ্পরে পরে তাঁদেরকে দেখেছি কুড়ি টাকার সিম কার্ড হাজার টাকায় কিনতে। মেডিক্যাল ট্যুরিজম। কেউ সুস্থ হন। কেউ সুস্থ হওয়ার আশা নিয়ে ফেরত যান। কেউ কিছু না পেয়েই ফেরত যান। কত হাসি-কান্নার ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলি।

আরও পড়ুন: তামিল পত্রিকা ‘বিবেকচিন্তামণি

নিউ ইয়র্কের বাঙালিপাড়া জ্যাকসন হাইটস

কোন তুলনাই হয় না কাদুগুড়ির সঙ্গে নিউ ইয়র্কের ম্যানহ্যাটন শহরের টাইমস স্কোয়ারের। গগনচুম্বী অট্টালিকার পরতে পরতে আলোর মালা নিয়ে সন্ধেবেলা। গুগল ম্যাপে প্রাণপণে দেখে বোঝার চেষ্টা করছি, কোনদিকে গেলে বিয়াল্লিশ সরণির মেট্রো স্টেশনটা পড়বে, সমস্ত রাস্তাই একরকম লাগছে। সঙ্গীদের সঙ্গে বাংলায় মতবিরোধ করলে কাবাব বিক্রি করা ঠেলাওলা (ফুড কার্ট)-এর বিক্রেতা বলেন— “এত চেল্লান কেন? এই দিকে সোজা চলে গেলে স্টেশন দ্যাখতে পাবেন ডাইন হাতে।” বেশ মজা লেগেছিল।

মজা লাগার কিছু বাকি ছিল পরের বছর। সেবার এক বন্ধুকে আনতে গেছি নিউ ইয়র্কে জেএফকে বিমানবন্দরে। তখনও শহরটা ঠিক ভালো বুঝিনি। ভাবতাম, নিউ ইয়র্ক মানেই লম্বা লম্বা উঁচু বাড়ির ম্যানহ্যাটন। গুরুজনরা বলে দিয়েছিল, ভুলেও ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন এই বোরোগুলোয় (প্রসঙ্গত, নিউ ইয়র্ক শহর মূলত পাঁচটি বোরো নিতে তৈরি— ম্যানহ্যাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স, ব্রঙ্কস, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড) একা একা যেও না, ছিনতাই হবেই।) জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর এই কুইন্স বোরোতে, তখনও প্লেন আসার দেরি আছে। শুনেছিলাম, ‘জ্যাক্সন হাইটস’ বলে একটা জায়গায় দারুণ খাবার পাওয়া যায়। সেখানে খুঁজে খুঁজে গেলাম।

জ্যাক্সন হাইটসকে যে ‘মিনি বাংলাদেশ’ বলা হয়, তখনও জানতাম না। মেট্রো স্টেশনে গেটে থাকা কর্মী, রাস্তায় পার্কিং টিকিট দেওয়া কর্মচারী থেকে পথচলতি লোকজন— প্রত্যেকে বাংলায় কথা বলে যাচ্ছেন। কতরকম মণিহারী দোকান, রাস্তায় বসে চলছে খাওয়াদাওয়া আড্ডা, দোকানের সাইনবোর্ড বাংলায় (যেটা ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে কলকাতা থেকে), ঈদের বাজারের পাঞ্জাবি-শাড়ি-শালোয়ার কামিজ বিক্রি হচ্ছে দোকানে, কুরবানির অর্ডার নেওয়া হচ্ছে দোকানে, দোকানে বাজছে বাংলা গান, রবীন্দ্রনাথ, গয়নার দোকানে ভিড় গয়না কেনার। রাস্তাজুড়ে ‘স্ট্রিট ফুড’-এর সমাহার। ঠেলেঠুলে পৌঁছলাম আমাদের গন্তব্য ‘হাট বাজার’ দোকানে। এটি একটি বড় মুদিখানা-আনাজপাতি এবং বাংলাদেশি ফ্রজেন মাছের দোকান। একপাশে রমরমিয়ে চলছে রেস্তরাঁ— কাচ্চি বিরিয়ানি, চিতল মাছের মুইঠ্যা, গরুর ভুনা, কচুর লতি, মুড়িঘণ্ট, বোয়াল মাছের ঝাল, মিষ্টি দই— কী না নেই? দোকানে বসার জায়গা নেই। এবং কোনও মেন্যু কার্ডও নেই। সমস্ত কিছুই ট্রে রাখা কাচের শোকেসে। দেখে লোভ লাগলে দাম জিজ্ঞেস করা কার সাধ্যি? যা বুঝলাম, দামটাও অনেকটা ফ্লেক্সিবল মুখ দেখে ঠিক হয়।

আরও পড়ুন: স্ট্যান স্বামী নিজের সাক্ষাৎকারে যে সমস্ত কথাবার্তা বলেছেন, তা দেখলে মন একেবারে কষ্টে ভরে যায়: সমর বাগচী

জ্যাক্সন হাইটসের দোকানে পসরা সাজিয়ে বসা দোকানীরা

জ্যাক্সন হাইটসের জনসংখ্যার বাইশ শতাংশ হল দক্ষিণ এশিয়ান অর্থাৎ ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ-নেপাল-শ্রীলঙ্কা, এই দেশগুলোর নাগরিক। মুদিখানার দোকানে আমেরিকা যুক্তারাষ্ট্রে একচেটিয়া ব্যবসা দেখেছি বাংলাদেশি আর গুজরাতিদের। বাংলাদেশিরা একটা বড় সংখ্যা আসেন মরিয়া হয়ে, শরণার্থী হয়ে। কিন্তু এক প্রজন্মের অমানুষিক পরিশ্রমের ফলে অনেক অল্প সময়ে তাঁদের দেখেছি জ্যাক্সন হাইটসে জমিয়ে বসতে। কেউ ট্যাক্সি চালান, কেউ বা কাজ করেন মুদিখানার দোকানে। দিনে দু-তিনটে কাজ করে প্রাণপণে চেষ্টা করেন দেশে কিছু পুঁজি পাঠাতে। সেজন্য প্রায় সমস্ত দোকানের সামনে বড় করে লেখা ‘এখানে বাংলাদেশে টাকা পাঠানো হয়’।

বাংলাদেশির (বা বাংলা ভাষাভাষীর) সংখ্যা নিউ ইয়র্কে বেশ ভালোভাবে বাড়ছে। ২০১১ সালের শুমারি অনুযায়ী, ৭১০০০ বাঙালির বসবাস নিউ ইয়র্কে, যেটা এই মুহূর্তে প্রায় এক লক্ষের কাছাকাছি। ১৯৭০ সালের পর থেকে, Diversified Visa-র সূত্র ধরে বহু বাংলাদেশি আমেরিকায় পাড়ি জমান। এঁদের মধ্যে বড় সংখ্যক মানুষ আসেন নিউ ইয়র্কে। কেনেডি বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকাগুলো হল জামাইকা, হলিস, জ্যাক্সন হাইটস ইত্যাদি। এই এলাকাগুলো হয়ে উঠেছে বাংলাদেশি পাড়া। ভাগ্যের সন্ধানে এইসব এলাকায় পাড়ি জমিয়েছেন বহু সাধারণ মানুষ। অনেকেরই থাকে না কোনও বৈধ অভিবাসীর কাগজপত্র। অঞ্জন দত্তের ‘বং কানেকশন’ সিনেমাটি যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা জানেন যে, হাতে কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও হাসান ভাইয়ের মতো শত-শত ট্যাক্সি ড্রাইভার নিউ ইয়র্কে ট্যাক্সি চালিয়ে দিন গুজরান করেন। করোনাকালে এঁদের বড় অংশ, যাঁরা ছোট ব্যবসাদার বা সামান্য কাজ করেন, খুব কষ্টের মধ্যে আছেন। সরকারি জনকল্যাণমূলক সুবিধাগুলো এঁরা পান না অনেকেই। এছাড়াও, টাইপ টু ডায়াবেটিস বাংলাদেশিদের মধ্যে ভীষণ রকম, মূলত জীবনযাপনের জন্য। চটজলদি এবং সস্তা খাবারের জন্য বার্গার বা হটডগ ভরসা, যা বাংলাদেশিদের মধ্যে ডেকে আনছে মধুমেহ।

আরও পড়ুন: স্ট্যান স্বামী, জেসুইট পাদ্রি, লিবারেশন থিয়োলজিস্ট ও বাগাইচা বিষয়ক দু-চার কথা

This image has an empty alt attribute; its file name is 3-2.jpg
টাইমস স্কোয়ারে গণপরিবহণে বাংলায় বিজ্ঞাপন

নিউ ইয়র্কের ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনে একটি অফিসিয়াল ভাষা বাংলা— মানে Parent Teacher meeting-এ চাইলে বাংলায় কথা বলা যায়। সেকেন্ড জেনারেশন বাংলাভাষী (লেখিকা ঝুম্পা লাহিড়ীর লেখায় যাঁদের কথা বারবার ফুটে উঠেছে ABCD বা American Born Confused Deshi)-দের মধ্যে বহু মানুষ বেশ মেধাবী— যেমন কামাল কাদির (বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফোন কোম্পানি গ্রামীণফোনের প্রতিষ্ঠাতা), সুমাইয়া কাজী (এন্টারপ্রেনার), কামাল কাদির, নরসিংহ শীল (ঐতিহাসিক) এরকম বহু নাম তালিকায়।

সৈকত চক্রবর্তী

তবে, এই ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশি মানুষদের মধ্যে যাঁরা বৈধভাবে আমেরিকার নাগরিক হচ্ছেন বা এখানে জন্মেছেন, তাঁরা হয়ে উঠছেন ডেমোক্র্যাট পার্টির বেশ বড় ভোটব্যাঙ্ক। কীরকম? প্রথমে বলতে হয় সৈকত চক্রবর্তীর কথা। টেক্সাসে জন্ম ১৯৮৬ সালে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক, পেশায় রাজনৈতিক কর্মী। ২০১৫ সালে, তৎকালীন রাষ্ট্রপতির পদপ্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্সের হয়ে কাজ শুরু করেন। বার্নি রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড় থেকে সরে গেলে সৈকত কিছুদিন বাদে কাজ করেন তরুণ তুর্কি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আলেক্সান্দ্রিয়া অর্কাসিও কর্টেজ বা AOC-র সঙ্গে। এওসি বিপুল ভোটে জেতেন নিউ ইয়র্কের ১৪তম কংগ্রেস জেলা থেকে ৫৭% ভোট পেয়ে। মার্কিন নিম্নসভা কংগ্রেসে তিনি নির্বাচিত হন, যার পেছনে বড় ভুমিকা ছিল বাংলাভাষী সৈকতের। এওসি-র নির্বাচনী কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে নিউ ইয়র্কের একটা বড় বাংলাদেশি এলাকাগুলো।

আরও পড়ুন: সেইসব স্মৃতিধর

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া অর্কাসিও কর্টেজের বাংলা শেখার ইচ্ছে

নির্বাচনের পরে বাংলা শিখতে চেয়ে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া অর্কাসিও কর্টেজের মন্তব্য হইচই ফেলে দিয়েছিল আমেরিকাবাসী বাঙালিদের মধ্যে। এওসি প্রায় নিয়মিত তাঁর ভোটারদের সঙ্গে, বাংলা নববর্ষে বা অন্য কোনও অনুষ্ঠানে জনসংযোগ করেন। তবে বাংলাটা এখনও শিখে উঠতে পারেননি, গুগলের মাধ্যমে চেষ্টা করেন, যা অনেক সময় বাঙালিদের মধ্যে হাসির খোরাক হয়। সম্প্রতি কলকাতায় নিউ ইয়র্কের মেট্রোর বাংলায় বোর্ডের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। বাংলা নিউ ইয়র্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষা হয়ে উঠছে, গণপরিবহণে বাংলার উপস্থিতি তার বড় প্রমাণ।

আরও পড়ুন: পশ্চিমে দেশান্তরের মরশুম

বাংলায় টুইট

এতটা না হলেও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রর উত্তরের প্রতিবেশী কানাডাতেও বাঙালির সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। কানাডার সবচেয়ে বড় শহর টরেন্টোতে বাঙালির বড় আশ্রয়। টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলার কোর্স আছে। ২০১৬ সালের হিসেব অনুযায়ী, অন্তত এক লক্ষের মতো বাঙালি কানাডাতে অধিবাসী। সহজ অভিবাসন নিয়ম প্রত্যেক বছর বহু বাঙালিকে বৈধভাবে থাকতে অনুমতি দেওয়ায় কানাডাও হতে চলেছে আর এক ‘বঙ্গভূমি’। জ্যাক্সন হাইটস-এর মতো কুলীন না হলেও টরেন্টোর ড্যানফোর্থ স্ট্রিট হয়ে উঠছে আর এক ‘মিনি বাংলাদেশ’। টরেন্টো শহরের বাংলায় কোভিড টিকা নেওয়ার বিজ্ঞাপন বা গণপরিবহণ ব্যবস্থা ‘গো’র বিজ্ঞাপনে বাংলার ছড়াছড়ি।

উত্তর আমেরিকা বঙ্গ সম্মেলন আমেরিকা-কানাডায় বাঙালিদের একটা বড় উৎসব। প্রত্যেক বছর, আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস ৪ জুলাইয়ের পরে কোনও এক শহরে সপ্তাহান্তে হয় এই উৎসব। কলকাতা-ঢাকা থেকে দুই বাংলার শিল্পীরা পাড়ি জমান। কোভিডের জন্য গত দু’বার এই অনুষ্ঠান হয়েছে অনলাইনে। যদি না আড্ডা দিতে পারে বাঙালিরা, তাতে কি আর মন ভরে নাকি? দুর্গাপুজো আর এক মিলনোৎসব প্রায় বড় ছোট মেজো সব শহরের। বাংলাদেশি মুদিখানার দোকানগুলো বড় পৃষ্ঠপোষক সেই পুজোর। বলতে বাধা নেই, কলকাতা থেকে বাংলা বই বিপণনে বাংলাদেশিরা অনেক এগিয়ে কলকাতার প্রকাশকদের থেকে। পাবলিক লাইব্রেরি সিস্টেম, যা আমেরিকা এবং কানাডা দুই দেশে বেশ গর্ব করার মতো, সেখানেও বাংলা বইয়ের সংখ্যার দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে আছে অন্যান্য ভারতীয় ভাষা, যেমন তামিল, তেলেগুর চেয়ে।

আরও পড়ুন: সম্বুদ্ধজাতিকা (৮ম অংশ)

টরেন্টো শহরের টিকাকরণের বিজ্ঞাপন বাংলাভাষায়

গ্লোবাল বাঙালি এখন শুধু বাংলাতেই আটকে নেই। তথ্যপ্রযুক্তির দৌলতে অনলাইন স্ত্রিমিং সার্ভিসের কল্যাণে ড্রইংরুমে বাংলার উপস্থিতি ভীষণ রকম, তা সে যেখানেই থাকুক না কেন। সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন ই-পেপার, টিভিতে বাংলা চ্যানেল প্রতিমুহূর্তে আপডেট করে যাচ্ছে, জানান দিয়ে যাচ্ছে। কে বলে বাঙালি ঘরকুনো?

নিবন্ধক পেশায় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মচারী, এক দশক ধরে কর্মসূত্রে প্রবাসী, বেঙ্গালুরু, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হয়ে কানাডা। তবে শিকড়টা উত্তর কলকাতাতেই। ভালোবাসেন দেশ ঘুরতে এবং সেখানকার খাবার চেখে দেখতে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

2 comments

  • পারমিতা রায়

    ভালো লাগল। এইধরনের লেখা আরও পড়তে চাই। পড়াটা প্রয়োজন।পৃথিবীর নানান প্রান্তে বাঙালির (বৃহৎ অর্থে ) জীবনযাপনের ছবি এইভাবেই উঠে আসুক।

  • Debashis Majumder

    Bhalo

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *